সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্প

মাটি মেপে চলছে খনন

জুনের মধ্যে ১৮ লাখ ঘনফুট মাটি তোলার টার্গেট, এ পর্যনত্ম তোলা হয়েছে ২ লাখ ঘনফুট

ভূঁইয়া নজরম্নল
cda drazzing project at old chandgao thana area (8)

বুধবার বিকাল চারটা। চান্দগাঁও পাঠানিয়া গোদা সড়কের পাশের বিশাল নালা উপচে পানি প্রায় রাসত্মায় উঠে উঠে অবস’া। পানিভর্তি নালার মধ্য থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি তুলে রাসত্মার পাশে চলছে জমানোর কাজ। দুটি স্কেভেটর পাশাপাশি কাজ করছে। আর রাসত্মার পাশে জমানো মাটি মাপার কাজ করছে সেনাবাহিনীর সদস্য ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের লোকজন। নগরীর এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজের খ-চিত্র এটি।
নগরীর ৭টি ওয়ার্ডের ১৩টি পয়েন্ট থেকে চলছে খাল থেকে মাটি উঠানোর কাজ। চকবাজার, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, ষোলশহর সুন্নীয়া মাদ্রাসা এলাকা, ষোলশহর দুই নম্বর গেইট, মোহাম্মদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার নালা থেকে চলছে মাটি তোলার কাজ।
সেনাবাহিনীর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে বাসত্মবায়নাধীন কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটির উপ-প্রকল্প পরিচালক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপড়্গের (সিডিএ) প্রকৌশলী কাজী কাদের নেওয়াজ বলেন, ‘মূলত তিন ধাপে নালা বা খাল থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নালাগুলোতে কী পরিমাণ মাটি জমা রয়েছে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই মাটি কতটুকু তোলা হবে কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে এর একটি গ্রাফিক্স পরিমাপ করা হয়। স্কেভেটর দিয়ে মাটি তোলার পর নালা বা খালের পাড়ে রেখে সেখানে আবার মাপা হচ্ছে, সর্বশেষ ট্রাকে উঠানোর পর ট্রাকের পরিমাপের সাথে মিলিয়ে আবারো একটি পরিমাপ হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এ পর্যনত্ম (গত ২৮ এপ্রিল থেকে শুরম্ন হওয়ার পর থেকে) প্রায় দুই লাখ ঘনফুট মাটি উঠানো হয়েছে। বর্ষার আগে (জুনের মধ্যে) আমাদের টার্গেট ১৭ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুট মাটি উত্তোলন করা।’
এখন তো শুধুমাত্র নালা থেকে (সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি খাল) মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। ১৬টি প্রধান খাল থেকে মাটি উত্তোলনের কথা আগে থেকে বলে আসা হয়েছিল। সেগুলো থেকে কি জুনের মধ্যে মাটি উত্তোলন করা হবে? উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই করা হবে। ইতিমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্নের পথে। নগরীর প্রাইমারি ১৬টি খালের পাশাপাশি ২৯ টি ওয়ার্ডের নালা ও খালগুলো পরিষ্কার করা হবে বর্ষার আগে।
গতকাল পাঠানিয়া গোদা সড়কে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নালা থেকে চলছে মাটি উঠানোর কাজ। আর সেই মাটি রাসত্মার উপরে স’পাকারে জমা করা হয়েছে। রাসত্মার উপরে জমা করা মাটির মধ্যে একজন রড প্রবেশ করিয়ে দেখছে এর গভীরতা। আরেকজন ফিতা দিয়ে মাপছে স’পাকারে থাকা মাটির দৈর্ঘ্য ও প্রস’ কত। একজন বলছে আর সেনাবাহিনীর সদস্যসহ তিন থেকে চারজন তা লিখছেন।
এগুলো কিসের জন্য লেখা হচ্ছে জানতে চাইলে সেনাবাহিনীর সদস্যটি জানান, কি পরিমাণ মাটি তোলা হচ্ছে তা মাপা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এভাবে প্রতিদিন উত্তোলিত মাটির পরিমাপ করা হচ্ছে।
এদিকে নালা থেকে মাটি উঠানোর কারণে জোয়ারের পানি নেমে যেতে দেখা গেছে। কিন’ রাসত্মার উপরে এভাবে মাটি ফেলে রাখায় তা আবারো বৃষ্টির পানিতে নালায় পড়ছে কিনা জানতে চাওয়া হয় মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের কাজের প্রধান সমন্বয়ক সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজাউল মজিদের কাছে। তিনি বলেন, ‘নালা বা খাল থেকে মাটি উঠানোর পর পাড়ে না রাখলে অতিরিক্ত নরমের কারণে তা গাড়িতে উঠানো যাচ্ছে না। মাটিগুলো থেকে পানি সরাতে ড়্গণিকের জন্য রাখা হচ্ছে। তবে এবছর এই অসময়ের বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তারপরও আমাদের কাজ বন্ধ নেই।’
বর্ষার আগে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে লড়্গ্য কী জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘বর্ষার আগে যেহেতু আমাদের হাতে সময় কম। আমরা শুধুমাত্র পানির প্রবাহ ঠিক রাখা ও নালা ও খালগুলোর গভীরতা বাড়িয়ে পানির ধারণড়্গমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করবো। এতে হয়তো পুরোপুরি জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে না, তবে কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা যাবে।’
কিন’ গতকালও নগরীর নিঁচু এলাকায় জোয়ারের পানি উঠেছে, জোয়ারের পানির দুর্ভোগ নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জোয়ারের পানির সমাধান হলো খালের মুখে টাইডাল রেগুলেটর লাগানো। প্রকল্পের এই পর্যায়ে তা সম্ভব নয়। তবে এসব এলাকার প্রধান খাল এবং নালা ও খালগুলো থেকে মাটি উঠানোর কাজ হবে। এতে এসব এলাকার নালা ও খালে পানির ধারণড়্গমতা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ কমে আসতে পারে।’
নালা ও খাল থেকে উত্তোলিত মাটি কোথায় ডাম্পিং করা হচ্ছে জানতে চাইলে প্রকল্প সংশিস্নষ্টরা জানান, প্রাথমিকভাবে বাকলিয়া কল্পলোক আবাসিক এলাকার পেছনের খালি জায়গায় এবং বায়েজিদ আরেফিন নগরে সিডিএ’র খালি জায়গায় ডাম্পিং করা হচ্ছে এসব মাটি। আগামীতে কালুরঘাট, চৌমুহনী, কর্ণফুলীর ওপারে ও পতেঙ্গার সাগর পাড় এলাকায় নালা ও খালের মাটি ডাম্পিং করার পরিকল্পনা রয়েছে সিডিএ’র।