দুর্ভোগে যাত্রীরা

মাঝারি বৃষ্টিপাতেই পানিবন্দি পথঘাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
গতকাল বিকাল তিনটা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে তোলা ছবি-সুপ্রভাত
গতকাল বিকাল তিনটা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে তোলা ছবি-সুপ্রভাত

বিকাল পাঁচটা। নগরীর দুই নম্বর গেটে শ’য়ে শ’য়ে মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন গাড়ির জন্য। বাস, রিকশা, অটোরিকশা, প্রাইভেট কার প্রচণ্ড জ্যামে আটকে আছে সব। গাড়ি না পেয়ে হেঁটেই গন্তব্যের দিকে রওনা দেন হাজারো মানুষ। গতকাল সোমবারের চিত্র এটি।
এদিন বিকাল তিনটা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে দুই নম্বর গেটে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়তে হয় কাছ থেকে দূরের গন্তব্যের সব যাত্রীদের।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমেদ জানান, ‘গতকাল বিকাল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এটি কোনো ভারী বৃষ্টিপাত নয়। তবে মাঝারি বর্ষণ বলা যেতে পারে।’
গতকাল সকাল থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও বিকাল ৩টার আগ পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। ৩টার পর থেকে আচমকা বৃষ্টিপাতে দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়ে নগরবাসী।
যদিও সময়টা বর্ষাকাল। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। তারপরও সকালে বৃষ্টি না হওয়ায় অনেকে ছাতা ছাড়াই বেরিয়ে পড়েন কর্মস’লের উদ্দেশ্যে। কিন’ হঠাৎ করে বৃষ্টি নামায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে যে যেখানে সম্ভব আশ্রয় নেন।
এসময় যাত্রী ছাউনিগুলোতে ভিড় উপচে পড়ে। দোকানপাট, মার্কেট, ব্যাংক ও অফিসগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন পথচারীরা।
দুর্ভোগে যাত্রীরা
১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে মাঝারি বৃষ্টি উল্লেখ করে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ‘এখন বর্ষাকাল। এটা তেমন কোনো বৃষ্টি না।’
অথচ এই বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অনেক স’ান। বৃষ্টির মধ্যে দুই নম্বর গেট এলাকায় জিইসি থেকে আসা-যাওয়ার উভয় সড়কেই পানি জমে যায়। বৃষ্টি পুরোপুরি না থামায় পানিও জমে থাকে। এসময় গাড়িতে পানি ঢুকে যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে চালকরা সড়কে গাড়ি থামিয়ে বসে থাকেন। এদিকে গাড়ি থেমে যাওয়ায় পেছনে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
গতকাল বিকালের বৃষ্টির পর দুই নম্বর গেট থেকে জিইসি-ওয়াসা, দুই নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট থেকে টেকনিক্যাল, দুই নম্বর গেট থেকে প্রবর্তক পর্যন্ত চতুর্মুখী যানজট লেগে থাকে।
এদিকে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর নগরীর বাস টার্মিনাল থেকে বাহির সিগন্যাল পর্যন্তও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ সড়কেও বৃষ্টির সময় যানজট দেখা যায়।
সড়কগুলোতে গাড়ি থেমে যাওয়ায় সৃষ্ট যানজটে যাত্রীরা প্রচণ্ড বিড়ম্বনায় পড়েন। যানজটে পড়া যাত্রী এবং যানবাহনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীরা হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে পানি জমে যাওয়া রাস্তাগুলোতে এসে আটকে যেতে হয় অনেককে। কাউকে কাউকে রাস্তায় জমে থাকা হাঁটুপানিতে প্যান্ট গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পাড়ি দিতে দেখা গেছে। তবে পানি পাড়ি দেয়া কিছু কিছু গাড়ির কারণে পানির ঢেউ এসে এই যাত্রাও দুর্ভোগের করে তোলে।
গতকাল হঠাৎ বৃষ্টির মতো হঠাৎ করেই বেড়ে যায় রিকশা ভাড়া। বৃষ্টির মধ্যে গন্তব্যে যেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে রিকশাযাত্রীদের। বৃষ্টি দেখে ভাড়া বাড়িয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত দাবি করেন রিকশাচালকরা।
চাকরিজীবী রিনা আকতার সুপ্রভাতকে বলেন, ‘জিইসি থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ৫০ টাকা। কিন’ বৃষ্টি নামার পর হঠাৎ করে দেখি ভাড়া বাড়িয়ে তারা ৮০-৯০ টাকা চাইছেন। অথচ সকালেই আমি নিউমার্কেট থেকে ৫০ টাকা দিয়ে জিইসি এলাম। প্রতিদিন একই ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করি। বৃষ্টিতে তা বেড়ে যাওয়ায় বিপদে পড়তে হয়েছে।’