মাগফিরাত: প্রাপ্তির ২য় পর্ব

একাদশ রমযান আগমনের মধ্য দিয়ে সূচিত হল মাগফিরাতের ২য় দশক। মাহে রমযানের দশকত্রয়ের তিনটি পর্বে আল্লাহর রাসূল তিনটি বিশেষ নেয়ামতের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ পর্বের নেয়ামত হল মাগফিরাত। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রাপ্তির পূর্ব শর্ত রহমত। কারণ, যাকে দয়া করা যায় না, তাকে কীভাবে ক্ষমা করা যাবে? আল্লাহর রাসূলের বাণী মোতাবেক এ দশকে বান্দার সকল গুনাহ্ ক্ষমা করা হবে।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে যাও, যার সীমানা আসমান যমীন সমান। এটা বানানো হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য।’ (সুরা আ-লে ইমরান: ১৩৩) লক্ষণীয় যে, এ আয়াতের প্রারম্ভে রয়েছে মাগফিরাত’র কথা, আর শেষ দিকে জান্নাতের সৃষ্টি লক্ষ্য বলা হয়েছে মুত্তাকীগণ। মাহে রমযানের মধ্য দশককে আল্লাহর রাসূল

মাগফিরাত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে রোযা ফরয করার উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে মুত্তাকী হতে পারা। কাজেই, যারা এ দশকে মহান আল্লাহর করুণাসিক্ত হয়ে মাগফিরাত বা ছোট-বড়, জানা-অজানা সব গুনাহ্ থেকে ক্ষমা লাভ করতে পারে, তবে তাদের জান্নাতের পথ সুগম হবে। রোযা পালন পূর্বক আল্লাহর বান্দা যে তাকওয়া অর্জন করবে, সেই তাকওয়াবান বা মুত্তাকীদের জন্য বানানো হবে ওই জান্নাত। পূর্বাপর যোগসূত্রতা এখানে অপূর্ব। বস’ত আল্লাহর সৃষ্টির গতি প্রকৃতি ও পরিণতি সব কিছু পরিকল্পিতভাবেই সাজানো।
মাগফিরাত বা আল্লাহর ক্ষমা লাভের প্রক্রিয়া ও মাধ্যম এ মাসের ইবাদত বন্দেগীর মধ্যে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। দিনে-রাতে এ ক্ষমা অর্জনের বা মাগফিরাত লাভের সমূহ সুযোগ ও অবকাশ রয়েছে। যা অর্জনের জন্য আমাদের ধাবমান হতে হবে। আল্লাহর নির্দেশও আছে, দ্রুত ধাবিত হও। মাহে রমযানের রোযা ও রাতের বেলায় নামায আদায় করা মাগফিরাতের গ্রহণযোগ্য মাধ্যম। বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে রয়েছে ঈমান ও সওয়াবের দৃঢ় মনোবাসনায় যারা মাহে রমযানে রোযা রাখবে তাদের জীবনের মাগফিরাত হবে। আর যারা রমযানের রাতে (তারাভীহ্র) নামাযে দাঁড়াবে, তাদেরও মাগফিরাত হবে। হাদীসের বর্ণনাকারী হযরত আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)। অনুরূপ, পবিত্র কদরের রাতে যারা নামায আদায় করবে তাদেরও পূর্বের গুনাহ্সমূহের মাগফিরাত বা ক্ষমা করা হবে। এ মাসের আগমনে জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়, বেহেশতের দরজা খুলে দেয়া হয়। শয়তানকে বন্দী করা হয়। শয়তানের বন্দীত্ব, জাহান্নামের দরজায় তালা লাগানো এগুলো মাগফিরাত’র আভাস।
বায়হাকী বর্ণিত এক হাদীসে এ পর্যন্ত এসেছে যে, একজন রোযাদারকে এ মাসে ইফতার করানো হলে, তা হবে তার মাগফিরাতের মাধ্যম। আরো এসেছে যে, যে ব্যক্তি এ মাসে নিজ অধীনস’ বা দাসদাসীদের শ্রমভার লাঘব করবে, আল্লাহ তাকে মাগফিরাত দান করবেন। মুসনাদে আহমদ গ্রনে’ বর্ণিত হাদীসে আল্লাহর হাবীব ইরশাদ করেন, রমযানের প্রতি রাতের শেষ ভাগে আমার উম্মাতের মাগফিরাত দেওয়া হয়। কেউ আরয করল, সেটি কি কদরের রাত? তিনি বললেন, না তবে মজদুরের পারিশ্রমিক তার কর্মসম্পাদন হলেই প্রদান করা হয়।
আমাদের উচিৎ হবে, মাগফিরাতের এ দশকে বরাদ্দ মাগফিরাত তো আছেই, প্রতি মুহূর্তে অজস্র মাগফিরাত এ সুবর্ণ সুযোগ কোনমতেই হাত ছাড়া না করা। জীবনে এমন অবারিত ক্ষমাপ্রাপ্তির সুযোগ হয়তো বা জীবনে আবার পাওয়া যাবে না। আমরা নিঃসন্দেহে পাপী, যদিও একের পাপ অন্যের দৃষ্টি হতে দয়াময় আল্লাহ গোপন করে রেখেছেন। এটাও তাঁর দয়া। পাপী হয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনার যে বিকল্প নাই। তিনি ক্ষমাশীল, আমাদের ক্ষমা করে দিন, আমীন।