মহেশখালীতে ৮ সন্ত্রাসী বাহিনীর আত্মসমর্পণ আজ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে বিপুল অস্ত্র জমা দেবে তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মহেশখালী

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ শনিবার বিপুল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রায় অর্ধশতেরও বেশি সদস্য র্যাবের হাতে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যাচ্ছেন। মহেশখালীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন তারা।
কক্সবাজার-২ আসনের এমপি আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক সুপ্রভাতকে জানান – শনিবার সকাল ১১টায় আত্মসমর্পণ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠান মহেশখালী পৌর সদরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এমপি আশেক এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মহেশখালীর সর্বস্তরের নাগরিকদের উপসি’ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
র্যাব-৭ এর কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কামান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত অন্ততঃ অর্ধশতেরও বেশি সংখ্যক সন্ত্রাসী তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয় জানিয়েছেন। এমন পটভূমিতে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তারা আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করবেন। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের পরে মাদকবিরোধী এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান র্যাবের এ কর্মকর্তা। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি জানান -আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান সফল করতে ইতোমধ্যে সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও বিশেষ অতিথি থাকবেন র্যাব এর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, র্যাব-৭ এর প্রধান লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানটির ব্যবস’াপনায় রয়েছে র্যাব-৭।
এদিকে মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. হারুন অর রশিদ বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক পত্র সূত্রে জানা গেছে মন্ত্রী মহেশখালীতে বেলা সাড়ে ১১টায় জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরে দুপুর আড়াইটায় কক্সবাজারের হোটেল সায়মনে সাংবাদিকদের বিফ্রিং করবেন মন্ত্রী। বিকাল সাড়ে চারটায় মন্ত্রীর কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
জানা গেছে সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মহসিন-উল হাকিম ও চ্যানেল ২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার আকরাম হোসেন এর মধ্যস’তায় প্রথম দফায় এ সকল সন্ত্রাসীরা র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণে সম্মত হন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে যাওয়া এসব পরিবারের সদস্যদের সমাজের মূলস্রোতধারায় ফিরে আসার সহায়ক হিসেবে রাষ্ট্রের তরফ থেকে বড় উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও সূত্র জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের উপকূলীয় মহেশখালী-কুতুবদিয়া দ্বীপসহ সমগ্র উপকূলীয় এলাকায় বর্তমানে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। একাধিক বাহিনীর শত শত সদস্য সমুদ্র ও উপকূলীয় পাহাড়ি এলাকায় সমান তালে ত্রাস চালিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত কয়েকদিন আগেও মহেশখালীর সোনাদিয়াসহ আশপাশের এলাকায় একাধিক ট্রলার দস্যুতার শিকার হয়। একইভাবে উপকূলে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাস করে আসছিল। এদিকে মহেশখালী-কুতুবদিয়া এলাকার এসব সন্ত্রাসী আইনের আওতায় চলে আসার ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন উপকূলীয় এলাকার মানুষ।

শুক্রবার রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় র্যাব-৭ এর কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কামান্ডার মেজর মেহেদী হাসান সুপ্রভাতকে জানান – অন্ততঃ ৮টি সন্ত্রাসী বাহিনীর সকল সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে কাল (শনিবার) আত্মসমর্পণের কথা রয়েছে। এসব বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্য আত্মসমর্পণ করবেন বলে তিনি জানান।