মহেশখালীতে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি জিয়াবুল হক (৪০)।

বুধবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে মাতারবাড়ির বাংলাবাজার এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার শরীর থেকে হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে গুরুতর জখম করে। মুমূর্ষু অবস’ায় তাকে চট্টগ্রামে মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস’ায় রাত সাড়ে ৯টায় তিনি মারা যান।

নিহত জিয়াবুল হক উপজেলার মাতারবাড়ির মগডেইল গ্রামের ফরিদুল আলমের ছেলে ও ইউপি সদস্য সরোয়ার কামালের ভাই।

এলাকাবাসী জানান, যুবলীগ নেতা জিয়াবুলের সঙ্গে একই এলাকার সামসুল আলমের জায়গা-জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওইদিন জিয়াবুল হক ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মাতারবাড়ি বাংলাবাজারে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার ডানহাত ও দুই পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
জিয়াবুলের ছোটভাই ইউপি সদস্য সরওয়ার কামাল জানান, দীর্ঘদিন ধরে স’ানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী জিয়াবুল হকের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও হয়েছে। বিষয়টি মহেশখালী থানা ও মাতারবাড়ির পুলিশ ফাঁড়িকে কয়েক দফা অবহিত করা হয়। এরই ধারবাহিকতায় বুধবার জিয়াবুলকে বাজারে পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সামসুল আলম, কাইচার হোসেনরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার ডানহাত ও দুই পায়ে শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাতারবাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মাহমুদুল্লাহ বলেন, জিয়াবুলের ওপর হামলার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি সারাদিন শোক দিবসের আলোচনায় অংশ নিতে উপজেলা সদরে ছিলাম। তার ভাই সরওয়ারের সঙ্গে পরিষদ সংক্রান্ত বিরোধ থাকার জেরে এ ঘটনায় আমাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, আশঙ্কাজনক অবস’ায় জিয়াবুলকে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস’ায় তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে মাতারবাড়িতে অভিযান চলছে।