গৃহকর নিয়ে নিজ অবস'ান থেকে সরবেন না মেয়র নাছির

মহিউদ্দিন-মনজুরের চিঠির সমালোচনা

আন্দোলনে ‘রাজনৈতিক ইন্ধনের গন্ধ’

মোহাম্মদ আলী
Screenshot_1

গৃহকর বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি কর্তৃক দেওয়া চিঠিতে প্রচণ্ডভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। একই সাথে গৃহকর নিয়ে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলেও মনে করেন মেয়র।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আন্দরকিল্লায় মেয়রের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভা এবং সভাশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে এসব কথা বলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং মনজুর আলমের চিঠির প্রতি ইঙ্গিত করে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘এসব চিঠিতে প্রচণ্ডভাবে মিথ্যাচার করা হয়েছে। চিঠিতে গৃহকর বাড়ানের যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা যদি বাস্তবে হতো, তাহলে আমাদের গৃহকরের দাবি দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। কিন্ত তা হয় নি। এখন আমাদের গৃহকরের দাবি ৮০০ কোটি টাকা। আপিলের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ মওকুফ করা হলেও তা ৩৫০ কোটি টাকায় এসে পৌঁছাবে।’
সিটি মেয়র বলেন, ‘উনি (মহিউদ্দিন চৌধুরী) সমালোচনা করছেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি। এখন যদি মহিউদ্দীন চৌধুরীকে মেয়রের আসনে বসাই, তাহলে উনিও কর কমাবেন না।’
বাড়িমালিকদের ওয়ার্ড কার্যালয়ে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ঘেরাও ও সমাবেশ নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। আমরা আমাদের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাবো। এসেসমেন্টের বিরুদ্ধে আদালতে করা রিট খারিজ হয়ে যাওয়া, আপিলের সুযোগ এবং সর্বোপরি বিভাগীয় কমিশনারের কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এই আন্দোলন ঠিক না। ’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের পিছনে অবশ্যই রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। কেউ যদি ইন্ধন দিয়ে থাকে, আমি জগণের মনোভাব বুঝার চেষ্টা করবো। আমি দেখবো, এই পপুলার ইস্যুটাকে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করার জন্য আন্দোলন করছে কিনা? তখন আমি নিশ্চিত হয়ে, যা ব্যবস’া নেওয়ার নেব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছেন। কেউ যদি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, তাহলে আইন যেভাবে কথা বলে, সে হিসেবে অগ্রসর হবো।’
মেয়র নাছির আরো বলেন, ‘আন্দোলকারীরা এক সময় আদালতে রিট করেছিল। এখন তারা আপিলে সুযোগ না নিয়ে কেন আন্দোলন করছে, আমিও তা বুঝার চেষ্টা করবো। কারণ কি জানার চেষ্টা করবো। ২০ মামলার আসামিকে এখন আন্দোলনে দেখা যায়। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ এবং গোয়েন্দা বিভাগের সাহায্যে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র বলেন, ‘এখানে যদি কোন ধরনের দুর্নীতি হয়ে থাকে, ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে, আপনি আবেদন করবেন। আবেদনকারীর উপসি’তিতে এটা নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া দরিদ্র-অস্বচ্ছলদের কর মওকুফ করা হবে। সবাই চেয়েছেন কর সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য। আমিও বারে বারে এই কথা বলেছি। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস’া নেওয়ার জন্যও আমি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার কোন কারণ থাকতে পারে না।’
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পঞ্চ বার্ষিকী কর পুনর্মূল্যায়নের সময় গৃহকর বাড়ানো হয়েছে বলে শুরু থেকে অভিযোগ করে আসছেন সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে রাখতে গত ৩ অক্টোবর তিনি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে একটি চিঠি দেন। এরপর গত সোমবার সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমও গৃহকর বিষয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীনকে একটি চিঠি দেন। গত মঙ্গলবার চসিকের সাবেক কাউন্সিলগণও গৃহকর বিষয়ে মেয়র নাছির উদ্দীনকে একটি চিঠি দেয়। এছাড়া চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ, চট্টগ্রাম গণঅধিকার ফোরাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, চট্টগ্রাম মহানগর শাখাও অতিরিক্ত গৃহকর আদায়ের অভিযোগ তুলে একাধিক সংবাদ সম্মেলন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এ নিয়ে উত্তপ্ত রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরী। গতকাল বৃহস্পতিবার কর পুনর্মূল্যায়নে আপিলের জন্য তিন মাস সময় বাড়িয়ে চসিককে একটি চিঠি দিয়েছে স’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।