‘স্মারকগ্রন'’ প্রকাশনা উৎসবে ইকবাল সোবহান

মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকবেন হাজার বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, ‘সাবেক মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এ জগৎ থেকে বিদায় নিলেও চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে বেঁচে থাকবেন হাজার বছর। কারণ তিনি তৃণমূল থেকে নগরপিতা হয়ে জীবনের পড়ন্ত বেলায়ও মাতিয়ে গেছেন মানুষকে। বাঙালি যেমন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মনে রেখেছে, তেমনি চট্টগ্রামবাসী তাদের প্রিয় মহিউদ্দিনকে আজীবন মনে রাখবে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রামের যেখানেই সংকট সেখানেই তিনি ছুটে গেছেন। এ কারণে তিনি হাজার বছর বেঁচে থাকবেন।’
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব বঙ্গবন্ধু হলে অনুষ্ঠিত ‘সাংবাদিকবান্ধব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মারকগ্রন’’ প্রকাশনা উৎসবে তিনি এ কথা বলেন।
স্মারকগ্রন’টি প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বরেণ্য সমাজবিজ্ঞানী, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন। আলোচনায় অংশ নেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিণী ও নগর মহিলা লীগ সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার। সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আরও বলেন, ‘যখন দেশের অনেক প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধুর কোন ছবি ছিল না, তখন নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙানো হয়। নির্মাণ করা হয় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে স্মারকগ্রনে’ সাংবাদিকরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লিখেছেন। এতে মহিউদ্দিনের বহুমুখী দিক উঠে এসেছে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন বলেন, ‘এ চট্টগ্রামকে প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি শুধু চট্টগ্রামের নেতাই ছিলেন না, ছিলেন গণমানুষের নেতা। চট্টগ্রাম নগরের শিক্ষা, স্বাস’্য ও পরিবেশ উন্নয়নে অনবদ্য ভূমিকা রেখে গেছেন। সাধারণ মানুষের সুখে দুঃখে ছুটে গেছেন। তাদের জন্যই তিনি জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের পর মুসলিম হলে অস’ায়ী হাসপাতাল তৈরি করেছেন। অনেক সময় রাগ করে গালাগাল দিলেও ভালোবাসতেন প্রকৃত অর্থে। তিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো নেতা অনেক দিনেও আসবেন না।’
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘মহিউদ্দিন চৌধুরী মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতিতে আসেন। আমৃত্যু জনকল্যাণে কাজ করে গেছেন। চট্টগ্রামের স্বার্থের প্রশ্নে কখনো তিনি আপস করেননি। চট্টগ্রামের মানুষের হৃদয়ে তার মতো আর কেউ ঠাঁই করে নিতে পারেননি।’
মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘আমার বাবা অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। চট্টগ্রামবাসীকে ভালোবেসেই তিনি সারা জীবন রাজনীতি করেছেন। বঙ্গঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগের আদর্শ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমার বাবা সবসময় অনুগত ছিলেন। তার এ জীবনকে মূল্যায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি সবসময় সৎ-সাহসী রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন করেছেন। সাংবাদিকদের প্রতি বাবার ভালোবাসা ছিল অসীম। তিনি বিশ্বাস করতেন সাংবাদিকরা স্বাধীন ও সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারলে সমাজ-রাষ্ট্রের ভালো হবে। আমি অনেক সময় অভিমান করে বাবাকে বলতাম-সাংবাদিকরা আপনার বিরুদ্ধে লেখে, আপনি তাদের ভালোবাসেন কেন? তিনি বলতেন সাংবাদিকরা স্বাধীন। তারা প্রশংসা যেমন করবে, সমালোচনাও করবে।
তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেলে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য কাজ করে যাব। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখবো।
প্রকাশনা উৎসবে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্মারকগ্রন’ প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক মোয়াজ্জেমুল হক। এতে আরো বক্তৃতা করেন নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন সাংবাদিক হিতৈষী একজন রাজনীতিক। প্রয়াত এ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব তথ্যসমৃদ্ধ স্মারকগ্রন’ প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। এতে স’ান পেয়েছে সাংবাদিক ও শিল্প সাহিত্য অঙ্গনের ৫৬ জন লেখকের স্মৃতিচারণ।