মহাসড়কে ওজন স্কেলের নামে হয়রানি চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় দারোগাহাটে ওজন স্কেলে গণহারে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস’া, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি এবং চট্টগ্রাম ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। ওজন স্কেলে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ঈদের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্কেলের ওজন মাপার নামে পণ্য বোঝাই পরিবহনে হয়রানি, অবৈধ পরিবহন মালিক সমিতির নামে গণহারে চাঁদাবাজি ও যানজট নিরসনের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির আহ্বায়ক মো. নুরুল আবছার বলেন, ‘শুধু হয়রানি নয়; ওজন স্কেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও লালিত আনসার বাহিনী প্রায় সময় মহাসড়কে চলাচলকারী কাভার্ডভ্যান ও লরিচালক এবং হেলপারকে মারধর করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দারোগাহাটের স্কেলটি দেশের পরিবহন বিভাগ ও জনগণের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
প্রায় সময় কাভার্ডভ্যান ও লরিসহ অন্যান্য পণ্যবাহী পরিবহনে অতিরিক্ত মালামাল আছে দাবি করে পাঁচ থেকে
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিয়ে এই ওজন স্কেল থেকে গাড়ি ছাড়া হয় বলে অভিযোগ করেন এ নেতা।
তিনি আরো বলেন, ‘মহাসড়ক ও টার্মিনালে পুলিশ এবং শ্রমিক-মালিক সংগঠনের নামে চাঁদাবাজির হার এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও মহাসড়কে গাড়ি বন্ধ রেখে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তা করছি। দারোগাহাটে ওজন স্কেলের নামে হয়রানির ভয়াবহতা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘বড় দারোগারহাটের ওজন স্কেলে ওজনে ভুল তথ্য উপস’াপন করে গণহারে হয়রানি ও অবৈধ মালিক সমিতির নামে ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে প্রায় প্রতিদিনই কাভার্ডভ্যান ও লরিচালক এবং হেলপারের সাথে ঝগড়া হয়। এতে মহাসড়ক জুড়ে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়িগুলো দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে।’
পরিবহন মালিকদের প্রশ্ন, একটি গাড়ির পণ্য ওজন করার জন্য যদি ১০ মিনিট সময় লাগে; তাহলে মহাসড়কে যাতায়াতকারী লাখ লাখ গাড়ির ওজন মাপতে কত সময় লাগে? এতে যাত্রীবাহী বাসের সাধারণ যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে আটকা পড়েন। অথচ ঠিক একই মহাসড়কের সেনাবাহিনীর পরিচালনাধীন দাউদকান্দি সেতুর পাশে অপর ওজন স্কেলে সুশৃঙ্খলভাবে খুব কম সময়ে ওজন পরিমাপ করা হয়।
দারোগারহাটের স্কেলটি তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে সমিতির সদস্য সচিব দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘যদি নিতান্তই প্রয়োজন হয়; তাহলে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে সড়ক বিভাগের পরিবর্তে যমুনা সেতুর মতো সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত স্কেল বসানো হোক।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, চলমান সমস্যা যদি জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা না হয়; তাহলে পরবর্তী সময়ে আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস’া ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি এবং চট্টগ্রাম ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রামের সকল ধরনের বোঝাইকৃত পরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, যুগ্ম-আহ্বায়ক মনির আহমদ, পরিবন নেতা মো. ফরিদ উদ্দিন, ছালেহ আহম্মদ, আজিজুল হক, মো. গোলাম নবী, মো. সেলিম রেজা, আবদুল মান্নান, সিদ্দিকুল ইসলাম প্রমুখ উপসি’ত ছিলেন।