আজ মহানবমী

মহাষ্টমী ও কুমারী পূজায় ভক্তের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক

জমে উঠেছে শারদীয় দুর্গোৎসব। পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের গতকাল ছিল তৃতীয় দিন। এদিন মহাষ্টমীতে ভক্ত, পূজারি, ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছিল নগরের পূজামণ্ডপগুলো। উৎসব ও আনন্দের কমতি ছিল না মণ্ডপ ঘিরে। পূজার পাশাপাশি দিনভর ছিল নানা ধর্মীয় আয়োজন।
শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ চতুর্থদিন। মহানবমী পূজা। নবমী তিথি দিবা ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। পূর্বাহ্ন ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে মহানবমী কলারম্ভ ও মহানবমী বিহিত পূজা সমাপন।
মহাষ্টমীর দিনে গতকাল সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে দশভূজা দেবী দুর্গার পূজা ও সন্ধি পূজা করা হয়। পূজা শেষে আয়োজন করা হয় পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ আরতি।
মহাষ্টমীর পূজায় গতকাল ভক্তরা অনেকেই উপবাস থেকে পুষ্পাঞ্জলি দিয়েছেন দেবী দুর্গার শ্রীচরণে। আজ সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে মহাষ্টমীর ব্রতের পারণা করবেন তারা।
সরেজমিন গতকাল সন্ধ্যায় নগরীর কয়েকটি মণ্ডপে ঘুরে দেখা যায়, নানা বয়সের দর্শনার্থীরা ভিড় জমান পূজামণ্ডপগুলোতে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ভিড় বাড়তে থাকে। অনেক জায়গায় দেখা গেছে হালকা যানজট। অনেকেই পায়ে হেঁটেই বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যানবাহন চলাচলের ওপর করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ আরোপ।
দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আচার-অনুষ্ঠান হলেও নানা ধর্মের ও বর্ণের মানুষের এতে সামিল হচ্ছেন প্রতিদিন। আর এই শারদীয় দুর্গোৎসব রূপ নিয়েছে সর্বজনীন উৎসবে। বর্তমানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে নগরজুড়ে।
এদিকে, গতকাল মহাষ্টমীতে নগরের পাথরঘাটা শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে কুমারী পূজা প্রতি বছরের মত এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পৌরহিত্য করেন শ্যামল সাধু মোহন্ত মহারাজ। পূজা পরিচালনা করেন পণ্ডিত বাবলা চক্রবর্তী ও তন্ত্রধারে ছিলেন জুয়েল নাথ। এবারের কুমারী হয়েছে সেন্ট যোসেফ স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী শ্রেয়সী বিশ্বাস। তার পিতার নাম শ্যামল কুমার বিশ্বাস ও মায়ের নাম তনিমা বিশ্বাস। তারা দেওয়ানজী পুকুর পাড়ের বাসিন্দা। এবার কুমারী মায়ের নামকরণ করা হয়েছে মালনী।
শাস্ত্রমতে এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে ঊমা, সাতে মালনী, আটে কুব্জিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরয় ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে অন্নদা বলা হয়ে থাকে। আজ দেবীর প্রতীক হিসেবে যে কুমারী মেয়েটিকে পূজা করা হয়েছে তার বয়স ৭ বছর। সে কারণে এবার নামকরণ হয়েছে ‘মালনী’।
মন্দিরের সেবায়েত শ্যামল সাধু মোহন্ত মহারাজ বলেন, ‘কুমারী পূজা দেশ ও দশের জন্য মঙ্গলকর। কুমারী পূজা ছাড়া দুর্গাপূজা শুদ্ধ হয় না। কাজেই কুমারী পূজা করলে যেমন পূজার স্বার্থকতা হয় তেমন ভক্ত ও বিশ্বের মঙ্গল হয়। সবার উচিত এই কুমারী পূজার আয়োজন করা।’
শ্রেয়সীর পিতা ও মাতার কাছে মেয়ের কুমারী মা হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, এটি তো ভাগ্যের ব্যাপার। আগের জন্মের পুণ্যলাভের কারণে আজকে এই দিনে আমাদের মেয়ে কুমারী মা হিসেবে পূজিত হয়েছে। এর চেয়ে আর বড় কিছু কি হতে পারে।’