মহামায়া হ্রদ : বিপন্ন প্রায় শামুকখোলের আবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

মিরসরাইয়ের মহামায়া হ্রদে বিপন্ন প্রায় শামুকখোল পাখির দেখা মিলেছে দলে দলে। এই পাখি হ্রদের চারপাশের পাহাড় ও গাছের ডালে স’ায়ী আবাস গড়ে তুলেছে। ওদের বিচরণ দর্শনার্থীদের কাছে হ্রদের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
মহামায়া হ্রদ বন্যপ্রাণী আইনে সংরড়্গিত। গত শুক্রবার হ্রদের ঠিক উত্তর-দড়্গিণ পাশের পাহাড়ের ঢালুর ওপর বেশ কয়েকটি গাছের মগডালে দলবেঁধে ওরা বসেছিল। প্রায় ১৫-২০টি গাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ওদের দেখা গেল। এরা শামুক খেতে খুব পছন্দ করে। শামুকের দেখা পেলেই ঠোঁটে খোল ভেঙে ফেলে। তারপর আকাশের দিকে মুখ করে ওটা গিলে ফেলে। এজন্য ওদের নাম শামুকখোল। শুধু শামুকই ওরা খায় না। মাছ, কাঁকড়া, ছোট ব্যাঙসহ নানারকম পোকামাকড়ও ওদের খাদ্য তালিকায় আছে।
চট্টগ্রামের বন সংরড়্গক ড. জগলুল হোসেন সুপ্রভাতকে জানান, মহামায়া হ্রদে বিলুপ্তপ্রায় শামুকখোল পাখির বাসস’ান গড়ে ওঠার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শামুকখোলসহ এখানে আসা পানকৌড়ি, মাছরাঙা ও ডাহুকের নিরাপদ আশ্রয়স’ল হিসেবে একে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ এলাকায় বড়শি বাওয়া ছাড়া সব ধরনের পাখি শিকার নিষিদ্ধ। এছাড়া হ্রদের জলে এসব পাখির খাদ্য নিশ্চিতে আমরা সদা তৎপর রয়েছি।
চট্টগ্রামের একমাত্র প্রাইভেট বার্ডস এন্ড অ্যানিমেল ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সাদ্দাম হোসেনের মতে, বাংলাদেশের দুর্লভ পাখির মধ্যে শামুকখোল একটি। এদের পার্বত্য এলাকার কাপ্তাই, রাঙামাটি, বান্দরবানেও মাঝে-মাঝে দেখা যায়। দেখতে অনেকটা বকের মতো। গায়ের রঙ ধূসর-সাদা। তবে বাসা বাঁধার সময় শরীর সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায়। লেজ ও পাখার শেষভাগ কালোরঙের। এরা দেশের বড় আকৃতির পাখিদের অন্যতম। ৮১ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হয়। পাখার দৈর্ঘ্য চুয়ালিস্নশ সেন্টিমিটার। ঝাঁক বেঁধে চলে। একেক ঝাঁকে ৪০ থেকে ৬০টি পাখি থাকে। এরা জলচর পাখি। নদী, হাওর-বাওর, মিঠাপানির জলাশয়, হ্রদ, ধানখেত ও উপকূলীয় বনে দেখা মেলে। এদের শরীরের আকর্ষণীয় অংশ ঠোঁট। বেশ বড় আর ভারি। চৌদ্দ সেন্টিমিটারের মতো। দু ঠোঁটের মাঝখানে ফাঁক থাকে।
চিটাগাং বার্ড ক্লাবের সভাপতি ডা. মহিউদ্দিন এ সিকদার থেকে জানা গেল, বাংলাদেশের জলবায়ু বিবেচনা করে পাখি বিশারদগণ বাংলাদেশের আবাসকে ৫৬টি অঞ্চলে ভাগ করেছেন, এর মাঝে চট্টগ্রামের অবস’ান দড়্গিণ-পূর্বে। বাংলাদেশের মোট সাত শতাধিক পাখির মধ্যে প্রায় চার শতাধিক পাখিই চট্টগ্রামে দেখতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে শামুকখোল পাখির দেখা মেলে বেশ।
মহামায়া হ্রদের নৌকার মাঝি নুরম্নউদ্দিন জানান, এখানে পাখিগুলোকে বছর-দুয়েক ধরে দেখা যাচ্ছে। সকালে এরা খাবারের খোঁজে উড়ে চলে যায়। বিকেল হতেই দলে দলে হ্রদে ফিরে আসে আবার। মাছরাঙা, ডাহুক আর পানকৌড়িদের সঙ্গে এই পাখিও এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।