মশিউরের আমলনামা

নিজস্ব প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড
Sitakunda-Jongol-Salimpur-(

সীতাকুণ্ড ও নগরের বায়েজিদ থানার মধ্যবর্তী পাহাড়ি এলাকার নাম জঙ্গল ছলিমপুর। যাতায়াত ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় এ এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত কম। এ সুযোগে সরকারি বনভূমিতে প্লট বানিয়ে তা বিক্রি করে অর্জিত অর্থ দিয়ে মশিউর বানিয়েছে নিজের বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। ইচ্ছেমতো পাহাড় কেটে সেখানে রাস্তা তৈরি করেছে। জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় আড়াই হাজার একর সরকারি বনভূমির অলিখিত মালিক বনে গেছেন সলিমপুরের মশিউর বাহিনীর প্রধান কাজী মশিউর রহমান। গত এক যুগে তার নেতৃত্বে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে হাজার হাজার বস্তি গড়ে উঠেছে।
একাধিক সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে খুলনা থেকে অজ্ঞাত কারণে এসে চট্টগ্রাম নগরীতে আসেন কাজী মশিউর রহমান। এরপর ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ শুরু করে। এর দুয়েক বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম হকার সমিতির সভাপতিও হন। তবে অজ্ঞাত কারণে ২০০৩ সালে সীতাকুণ্ড জঙ্গিল সলিমপুরের ত্রাস আক্কাস আলীর হাত ধরে জঙ্গল ছলিমপুর পাহাড়ি এলাকার ছিন্নমূলে অবস্থান নেন। কিছুদিন পর সন্ত্রাসী আক্কাস আলী র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। পরে ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম কমিটির সভাপতি বিএনপি সমর্থিত রোকন উদ্দিনের সাথে কাজ করতে থাকে মশিউর। এর ফাঁকে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে যোগ দেয় নারী লোভী কাজী মশিউর রহমান।
কয়েক বছরের মধ্যে সরকারি পাহাড় দখল করে সেখানে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে সে বনে যায় কোটি কোটি টাকার মালিক। বর্তমান চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন এলাকা তার রয়েছে বিশাল বাড়ি। এছাড়াও জঙ্গল সলিমপুরেও রয়েছে কয়েকটি দালান বাড়ি। কিছুদিন আগে বিএনপি সমর্থিত রোকন উদ্দিনকে হটিয়ে জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ দখলে নেন তিনি।
পাহাড় বিক্রির টাকায় গত কয়েক বছরে দেশের নানা প্রান্তের সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম হিসেবে জঙ্গল সলিমপুরকে গড়ে তুলেছে কাজী মশিউর। কিছুদিন আগে ফেব্রুয়ারিতে মশিউর চাঁদাবাজি মামলায় জেলে যায়, জেল থেকে বের হয়ে নিজের গড়া অপরাধ সাম্রাজ্যের আধিপত্য গ্রহণ করে। নিজের দুই সহযোগীকে একজন আটককৃত রফিককে নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল জঙ্গল সলিমপুর এলাকা। এদিকে ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ে একটি অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পায় র‌্যাব। ওই অভিযানে দেশীয় তৈরি ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে তারা।
মশিউর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আলোচিত মামলার মধ্যে রয়েছে, ২০১৩ সালের ৩১ আগস্ট নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফীন নগর এলাকায় হকার বেলাল হোসেনকে নির্মমভাবে খুন। ২০১১ সালে হাজেরা বেগম (২৩) নামে এক নারীকে রাতভর গণধর্ষণ করে। ২০১২ সালে সুমি আক্তার (১৯) নামে এক অসহায় গার্মেন্টস কর্মীকে পাহাড়ে নিয়ে গণধর্ষণ ও অবর্ণনীয় নির্যাতন। গত বছর ১১ জুলাই মধ্যরাতে সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন ছোটনকে তার ভাড়া বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় মশিউরের সহযোগীরা। এরপর তার আর খোঁজ মেলেনি। এ ঘটনায় মশিউরকে প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, মশিউরের বিরদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।