জাতিসংঘের উদ্বেগ

‘মনোযোগের বাইরে’ রাখাইনে অবস্থানরত ৪ লাখ রোহিঙ্গা

সুপ্রভাত ডেস্ক

জাতিগত নিধনের ভয়াবহ বাস্তবতায় বাস’চ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও ৪ লাখেরও বেশি মানুষ এখনও সেখানে থেকে গেছে। জাতিসংঘ বলছে, অভ্যন্তরীণ বাস’চ্যুতির শিকার হওয়া এইসব মানুষেরা সেখানকার শিবিরে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। সংস’াটির ত্রাণবিষয়ক উপ-প্রধান উরসুলা মুলার-এর দাবি, আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতি মনোযোগী হলেও রাখাইনে থেকে যাওয়া ওই চার লাখ রোহিঙ্গা আলোচনার বাইরে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাস’চ্যুতদের বাস্তবতাকে প্রত্যাবাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে রাখাইন পরিসি’তি উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জাতিগত নিধন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ৬ লাখ ৯২ হাজার রোহিঙ্গা। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় জাতিগত নিধনের আলামত খুঁজে পায়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ অ্যাখ্যা দেয়। মিয়ানমার এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও রাখাইনে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ রাখে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সমপ্রতি তারা জাতিসংঘকে সেখানে প্রবেশাধিকার দিতে বাধ্য হয়।
জাতিসংঘের প্রতিনিধি হিসেবে এপ্রিলের শুরুতে মিয়ানমার সফর কারণে সংস’াটির মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী সংস’া (ওসিএইচএ) এর জরুরি ত্রাণবিষয়ক উপ সমন্বয়ক মুলার। ডি-ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিসহ মিয়ানমারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ৬ দিনের মিয়ানমার সফর শেষে নিউ ইয়র্কে ফিরে যান তিনি। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদেরকে উরসুলা মুলার বলেন, ‘এখন কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরের দিকেই বিশ্বের মনোযোগ। কিন’ রাখাইন রাজ্যে থাকা ৪ লাখেরও বেশি মুসলিম জনগণের দুর্দশার কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। চলাফেরার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে দুর্বিষহ এবং প্রান্তিকীকরণের জীবন কাটিয়ে যাচ্ছে তারা।’ মুলার জানান, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে তিনি তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য ওইসব এলাকায় ত্রাণকর্মীদের প্রবেশাধিকার দিতে হবে। অভ্যন্তরীণ বাস’চ্যুতির শিকার হওয়া সেই রোহিঙ্গাদের ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা আছে। স্বাস’্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন সেবা খাতে তাদের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে প্রতিবন্ধকতা। মুলার বলেন, ‘আমি যখন অভ্যন্তরীণভাবে বাস’চ্যুতদের আশ্রয় শিবিরে গেলাম, দেখলাম তারা নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বিগ্ন।’ অভ্যন্তরীণ বাস’চ্যুতদের আশ্রয় শিবিরের পরিসি’তিকে ‘মানবেতর’ উল্লেখ করে জাতিসংঘের এ প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আগে এই পরিসি’তির উন্নয়ন করতে হবে।
মিয়ানমার বলেছে, তারা ৩০ হাজার প্রত্যাবাসনকারীর জন্য একটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করবে। নিজ বাড়ি বা আশেপাশে পুনর্বাসিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের সেখানেই অবস’ান করবে। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মিয়ানমারের অস’ায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পকে ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ বলে আখ্যা দিয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। বিবৃতিতে বলা হয়,‘বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কখনোই তাদের পৈতৃক ভূমি ও গ্রামে ফিরে যেতে পারবে না। বরং তাদের নিজেদের বাকি জীবনের সঙ্গে এসব কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া পরবর্তী প্রজন্মকেও ওই ক্যাম্পেই পার করতে হবে।’