মধ্যপ্রাচ্যে মাদকপাচার রোধে গোয়েন্দা নজরদারিতে যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে মাদকপাচার রোধে যাত্রীদের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে। প্রবাসীদের অভিযোগ পাওয়ার পর এ পদড়্গেপ নিয়েছে শাহ আমানত আনত্মর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপড়্গ। মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন বিমানবন্দর ব্যবস’াপক উইং কমান্ডার সারওয়ার ই জামান।
এ কর্মকর্তা জানান, যাত্রীদের কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিমানবন্দরে তলস্নাশি ব্যবস’া জোরদার করা হয়েছে। নজরদারিতে আনা হয়েছে যাত্রীদের ব্যাগসহ মালামাল। ১০ জানুয়ারি তার দপ্তরে চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকে এসব তথ্য জানান বিমানবন্দরের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কর্তৃক প্রবাসীদের সহায়তা ডেস্ক’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইমিগ্রেশন পুলিশের যোগসাজশে কিছু সংখ্যক প্রবাসী ওমানে মাদক পাচার করছে বলে অভিযোগ করেন প্রবাসীরা।
এসময় চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি ইয়াসিন চৌধুরী সিআইপি প্রশ্ন রাখেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে বিদেশে কীভাবে মাদকপাচার হয়। এতে দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ড়্গতি হচ্ছে। ব্যক্তি অপরাধ করলে বাংলাদেশি বলে প্রচার হয়।’
বৈঠকে মো. ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, ‘ওমান বিমানবন্দরে খাবার, দাঁতের মাজন, পেস্টসহ নানা সামগ্রীর মাধ্যমে মাদক পাচার হচ্ছে। সেখানে ধরা পড়ছে কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি। মাদকের চালান আটকের পর বাংলাদেশি যাত্রী কঠোর তলস্নাশির মুখোমুাখি হচ্ছেন। এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। শ্রমবাজার হুমকির মুখে পড়ছে। কিছু বাংলাদেশি প্রবাসী মাদক পাচারে জড়িত হওয়ায় ওমানে ৮ লাখ প্রবাসী দুঃশ্চিনত্মায় পড়েছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কর্তৃপড়্গ মাদক পাচার রোধে কঠোর ব্যবস’া নেওয়া দরকার।’
বৈঠকে ওমান বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ইমিগ্রেশন পুলিশের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইয়াবা পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করে প্রশ্ন রাখেন-‘বিমানবন্দরে স্ক্যানিং মেশিনে শুটকির অসিত্মত্ব পায় ইমিগ্রেশন পুলিশ। কিন’ ইয়াবা ধরা পড়ে না কেন।’ প্রবাসীর সাথে পুলিশ অসদাচারণ করায় অনেকে বেআইনিভাবে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন।’
বিমানবন্দরের ব্যবস’াপক সারওয়ার-ই-জামান বলেন, ‘প্রবাসীদের কাছ থেকে মধ্যপ্রচ্যের ওমানসহ বিভিন্ন দেশে মাদক পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। বিমানবন্দরে স’াপন করা অত্যাধুনিক স্ক্যানার মেশিন দিয়ে মাদক পার হবার সুযোগ কম। তবু তলস্নাশি জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।’
বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক’র উপ-পরিচালক মো. জহিরম্নল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের মরদেহ ও অসুস’দের পরিবহন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। লেখাপড়া না জানা প্রবাসীদের বহির্গমন কার্ড পূরণে দুইজন কর্মী নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।’
সভায় চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এজাজ মাহমুদ বলেন, ‘তলস্নাশি জোরদারে প্রবাসীদের দুর্ভোগ যেন না বাড়ে, সেদিকে যেমন খেয়াল রাখতে হবে তেমনি প্রবাসীদেরও সর্তক হতে হবে চালানী গ্রহণে।’
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বিমানবন্দর এপিবিএন-এর সহকারি পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির খান, কাস্টমস কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক, স্টেশন যোগাযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ উলস্নাহ, নিরাপত্তা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের স্টেশন ইনচার্জ মো. মাঈনুল ইসলাম, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ডেপুটি স্টেশন ইনচার্জ জেসমিন আক্তার জেসি, চট্টগ্রাম সমিতির ওমানের উপদেষ্টা মো. সামসুল আজিম আনছার সিআইপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী শাবু ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. সামশুল আলম প্রমুখ।