‘মজুদদারি পরিহার করে মানুষের পাশে দাঁড়ান’

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটিসহ বিভিন্ন পার্বত্য জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে ত্রাণ ও আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন। গতকাল রোববার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিভাগে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পাহাড় ধসের প্রেক্ষিতে পণ্য সরবরাহ ও বাজার ব্যবস’া এবং দুর্যোগ প্রশমনে করণীয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে এক জরুরি সভায় বিভাগীয় কমিশনার এ কথা জানান।
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সাহায্যের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রুহুল আমীন বলেন, ‘মুনাফার কথা না ভেবে মজুদদারি পরিহার করে আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। একটু সংযম প্রদর্শন করুন। দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখুন। আমরা আপনাদের সাথে মিলেমিশে কাজ করবো। দুর্যোগের সময় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসেন।’
বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, ‘ভূমি ধসে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারে ১৭০ জন মারা গেল, ২২৭ জন আহত হলো। রাঙামাটিতে আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ২০০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছেন। সরকার সব সময় চেষ্টা করে জানমাল রক্ষা করতে। রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সড়ক পরিবহন বন্ধ থাকায় নদী পথে ব্যয় বেড়ে গেছে। দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
রাঙামাটির জন্য গঠিত ত্রাণ তহবিলে সাহায্য করার জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের দেওয়া ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্য প্রশাসন রাঙামাটিসহ অন্যান্য জায়গায় পৌঁছে দেবো। নেভী খাদ্য পরিবহনে সহযোগিতা করবে। কাপ্তাইয়ে আমাদের ইউএনও আছেন। তারা সহযোগিতা করবেন।’
রাঙামাটিতে ইতিমধ্যে ২০ টন সামগ্রী পাঠানো হয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রামের চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা দুর্যোগ মোকাবিলা করছি। প্রশাসন যেভাবে চাইবে, চট্টগ্রাম চেম্বার এবং ব্যবসায়ীরা সেভাবে সহযোগিতা করবেন।’
সভাপতির বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘রাঙামাটিতে রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে গেছে। সাহায্যের প্রয়োজন হচ্ছে। আপনারা এগিয়ে আসুন।’
তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসতি উচ্ছেদে প্রশাসন কঠোর। আমরা পাহাড়ে বাড়ি দেখতে চাই না, গাছ দেখতে চাই। যেকোন মূল্যে পাহাড় থেকে বসতি উচ্ছেদ করতে হবে।’
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শঙ্কর রঞ্জন সাহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সৈয়দা সারোয়ার জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুুকর রহমান সিকদার, জেলা প্রশাসকের স্ট্যাফ অফিসার ইসতিয়াক আহমেদ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিসয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল বাহা ছাবেরীসহ দোকান মালিক সমিতি, ওমেন চেম্বার, হোটেল মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা উপসি’ত ছিলেন।