ভোগ্যপণ্যে অস্বস্তি স্বস্তির দোলা কাঁচাবাজারে

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

চাহিদা অনুসারে বাজারে সবজির কমতি ছিল না, কিন’ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে হঠাৎ অসি’র হয়ে উঠে সবজির বাজার। রাতারাতি কেজিতে প্রায় ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায় প্রায় সবধরনের সবজির দাম। এর পেছনে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাত ছিল বিক্রেতাদের। দুই সপ্তাহ পর অবশেষে সি’তিশীল হয়ে এসেছে সবজির বাজার। বেশিরভাগ সবজির দাম নেমে এসেছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়। মিঠা পানির মাছের সরবরাহ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে আগের চেয়ে কমেছে মাছেরও দাম। স্বাভাবিক রয়েছে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি প্রভৃতি মাংসের দর।
কাঁচা বাজারে স্বস্তি ফিরলেও অসি’র হয়ে উঠেছে চাল-ডাল-তেল-পেঁয়াজ-রসুনসহ বিভিন্ন প্রকার ভোগ্যপণ্যের দরে। সবচেয়ে বেশি অসি’রতা রয়েছে চালের বাজারে। এর পেছনে চালের পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি সরকারের বেশি দামে ইরি চাল কেনাকেও কারণ হিসাবে দাঁড় করালেন।
ভোগ্যপণ্যের মধ্যে গতকাল খুচরা বাজারে আদা বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা, রসুন ৬৫-৭০ টাকা, পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকা, মোটা-সরু মানভেদে মসুর ডাল ৮০-১২০ টাকা, কোম্পানিভেদে প্যাকেট জাত ভোজ্যতেল লিটার প্রতি ১০২-১০৮ টাকা, খোলা ভোজ্যতেল ৭৫-৮৫ টাকা এবং পাম অয়েল প্রতি লিটার ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মোটা মানের চাল ৪০-৪৪ টাকা, মাঝারি মানের চাল ৫০-৫৫ টাকা এবং সরু চাল ৬৫-৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে।
সপ্তাহ-দেড়েক পূর্বের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বের ভোগ্যপণ্যের দরের সাথে বর্তমান দরের তুলনা করলে দেখা যায় প্রায় সবধরনের পণ্যের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চালের দাম।
নগরীর বৃহত্তম চালের পাইকারি বাজার চাক্তাইয়ের একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের সময় থেকে এখন পর্যন্ত সপ্তাহ-দেড়েক সময়ের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি প্রায় সবধরনের চালের দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। নির্বাচনের আগে প্রতিকেজি মোটা চাল পাইকারিতে ২৪ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২৬ থেকে ২৭ টাকায়। একইভাবে মাঝারি মানের চাল ৩৩ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৭ টাকা আর সরু মানের চাল ৪০ থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকায়।
এভাবে হু হু করে চালের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে চালের পাইকারি বিক্রেতা এম সরওয়ার চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে-পরে দেশে খুব পরিবহন সংকট সৃষ্টি হয়। এসময় ২২ হাজার টাকার স’লে ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩২ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়ায় দিনাজপুর, নওগাঁ, আশুগঞ্জ প্রভৃতি অঞ্চল থেকে আমাদের চাল আনতে হয়। ফলে চালের দাম বেড়ে যায়। ঐসময়ের প্রভাব এখনও কাটেনি বলে চালের দাম বাড়তি।
চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির আরেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে চালের দাম বাড়ার পেছনে সরকারেরও দায় আছে জানিয়ে সুপ্রভাতকে বলেন, বর্তমান বাজারে নতুন আসা মোটা মানের চাল ‘ইরি’র পাইকারি দাম সর্বোচ্চ ২৬ টাকা। কিন’ সরকার কৃষকদের কথা ভেবে মিলারদের কাছ থেকে সে চাল সংগ্রহ করছে কেজিপ্রতি ৩৮ টাকা দামে। এতে কৃষকরা খুব একটা লাভবান না হলেও মিলাররা বেশি লাভের আশায় খোলা বাজারে ইরি চাল বিক্রি না করে সরকারের কাছে বিক্রির জন্য ধর্ণা দিচ্ছে। ফলে বাজারে একটা অসি’তিশীল অবস’ার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে নগরীর অন্যতম প্রধান বাজার বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারে গতকাল প্রতিকেজি ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, শিম ৩৫ টাকা, মুলা ২০ টাকা, বড় বেগুন ৩০ টাকা, ছোট বেগুন ৩৫ টাকা, তিত করলা ও কাকরোল ৪০-৪৫ টাকা, বরবটি ও ঢেঁড়স ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, পটল ৩৫-৪০ টাকা, নতুন দেশি আলু ৩৫ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, দেশি লাউ ২৫-৩০ টাকা, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, পাকা মিষ্টি কুমড়া ২০-২৫ টাকা এবং প্রতিকেজি কাঁচা পেঁপে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল মাঝারি আকারের এক আঁটি মিষ্টিকুমড়া শাক বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা, পাট শাক ২৫-৩০ টাকা, লাল শাক ২৫ টাকা, পুঁই শাক ২৫ টাকা, পালং শাক ১৫-২০ টাকা এবং জোড়া আঁটি কলমি শাক ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের সবজিবিক্রেতা মো. হেলাল উদ্দীন সুপ্রভাতকে বলেন, নির্বাচনের সময় থেকে সরবরাহ ঘাটতিজনিত কারণে সবজির দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন সরবরাহ বাড়ায় দামও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
বাজারে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও মিঠা পানির মাছের সরবরাহ বাড়ায় চলতি সপ্তাহে মাছের দাম কিছুটা কমে এসেছে। গতকাল বাজারে আকারভেদে রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ২০০-৩০০ টাকা, কাতলা ২৫০-৩৫০ টাকা, চিংড়ি ৩৬০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৫০ টাকা, মলা মাছ ১৫০-১৮০ টাকা, বাইলা মাছ ৩৫০-৪৫০ টাকা, লইট্টা ১২০-১৫০ টাকা, কই ৩৫০-৪০০ টাকা, কেঁচকি ১৬০ টাকা, বাটা মাছ ৪৮০ টাকা, কোরাল ৪৫০-৫৫০ টাকা, ইলিশ ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা, কালো ও সাদা জাতভেদে রূপচাঁদা ৫০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
গতকাল বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা, পাকিস্তানি লাল মুরগি (সোনালি) ২২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া গতকাল বাজারে হাড়সহ গরুর মাংস ৫০০-৫৫০ টাকা, হাড়ছাড়া গরুর মাংস ৬০০-৬৫০ ও ছাগলের মাংস ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।