টাস্কফোর্সের সভায় বিভাগীয় কমিশনার

ভেজাল খাবার, নকল ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে

বিজ্ঞপ্তি

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, ভুয়া ডাক্তার, নকল ওষুধ ও ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান চলবে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণকে এসবের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম আঞ্চলিক টাস্কফোর্সের সভা, বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা, জেলা প্রশাসক সমন্বয় সভা ও বিভাগীয় রাজস্ব সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিস সভাগুলোর আয়োজন করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখাসহ দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদক রোধের পাশাপাশি ভেজালমুক্ত খাবার ও
স্বাস’্যসেবার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আমাদের সকলকে এসব বিষয়ে আন্তরিক ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ ঘাতকব্যাধি ক্যান্সারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এখানে ভুয়া ডাক্তারের দৌরাত্ম্য ও ভুয়া-ভেজাল ওষুধের ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুয়া ডাক্তাররা ছোট-বড় ফার্মেসিতে বসে প্র্যাকটিসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। সমাজ থেকে ভুয়া ডাক্তার, ভেজাল ওষুধ, ভেজাল খাবার, দুর্নীতি, মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স থাকবে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, কক্সবাজারে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণের পর সড়ক পথে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার হ্রাস পেতে পারে। সড়ক পথ বাদ দিয়ে নৌপথে মাদক পাচার হতে পারে। আবার কোন কোন চক্র মাদক পাচারে নতুন রুট ব্যবহার করতে পারে। এ ব্যাপারে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সাথে খুন, ছিনতাই, দস্যুতা, ইভ টিজিং, রাহাজানি, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর থাকতে হবে।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, অস্ত্র উদ্ধার, চোরাচালানরোধ, জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইদানিং সড়ক দুর্ঘটনা সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য গাড়ির চালক-হেলপার এককভাবে দায়ী নয়। সড়কে ট্রাফিক ব্যবস’াপনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করবে। এজন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। কোন ট্রাফিক পুলিশের রাস্তায় চাঁদাবাজি করার চিত্র চোখে পড়লে কিংবা সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়লে তা উপযুক্ত প্রমাণসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেয়া হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) আমেনা বেগম বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিসি’তি মোটামুটি ভাল। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারসহ অপরাধীদের গ্রেফতারে মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা রোধ, যানজট নিরসনে ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালক ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অব্যাহত রয়েছে।
পৃথক সভাগুলোতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, বিভাগীয় পরিচালক (স’ানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্তী, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, বিজিবি’র চট্টগ্রামের রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিরুল ইসলাম সিকদার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী এবং জেলা প্রশাসকদের মধ্যে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, তন্ময় দাস, মো. মাজেদুর রহমান খান, আবুল ফজল মীর, মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, অঞ্জন চন্দ্র পাল, একেএম মামুনুর রশিদ, মো. কামাল হোসেন, মো. শহিদুল ইসলাম, হায়াত উদ-দৌলা খান, মো. ওয়াহিদুজ্জামান, চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু শাহেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটোয়ারী, হাইওয়ে পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চলের সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন ফেডারেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক অঞ্জনা ভট্টাচার্য্য, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক ড. গাজী গোলাম মাওলা।