ভূত নয় বই

দীপক বড়ুয়া

ভূত ! ভূত! ভূত!
চারিদিকে ভয়, আতংক। যে যেদিকে পারে ছুটছে। বলাবলি করছে। সত্যি কি ভূত এসেছে? প্রশ্নটা সবার। কেউবা বলে, ভূত আসতে পারে। ভূত যদি না আসে কাজটি করলো কে? কারো দুঃসাহস নেই কাজটি করার। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কারণটা কি? কেউ বের করতে পারেনি।
ঘরের উপরে ভেন্টিলেটর দেখে। ঠিক আছে। বাইরের তালা, দরজা, তাও ঠিক আছে। তাহলে রুমের ভেতরে দরজা আটকালো কে? সত্যিতো!
শৈলীতে সবাই যায়।
সন্ধ্যের পর লেখক, কবি, ছড়াকার, গল্পকার, নাট্যকার, বুদ্ধিজীবী সবাই আসেন। আড্ডায় বসে। শরমা খায়। কেউ চটপটি। পুড়ি খায় অনেকেই। দারুণ মজার আড্ডা। হঠাৎ এই দূর্ঘটনা। তাও ভূতের।
সবার একটি প্রশ্ন, রুমের ভেতর কে দরজা আটকালো?
কেউ বলে দরজা ভাঙতে।
আবার কেউ বলে সত্যি সত্যি কি ভূত দরজা বন্ধ করে বসে আছে।
কদিন থাকতে পারবে ভূত ব্যাটা। তার কি খাওয়া নেই? নাকি না খেয়ে থাকবে।
ভূত ভয়ে শৈলীতে তেমন কেউ আসে না। আড্ডাও জমে না। সন্ধ্যের পরপর ভয়টা বেড়ে যায়। ভূত না দেখলে কি হবে। এটাতো নিশ্চয়ই ভূতের কাজ। তখনও ভূত ছিলো। এখনও আছে প্রমাণ হলো।
– দরজাটা বন্ধ করলো কে?
কারো মাথায় কিছু আসে না। কদিন পর রাশেদ ভাই বলেন-
– তহিদ, সবতো করেছ, একটি কাজ করিনি।
– কি কাজ দাদা। ভয়ে ভয়ে তহিদ প্রশ্ন করে।
– রুমের বাইরে ভেন্টিলেটর দিয়ে দেখেছ। মানে শৈলীর ভেতরের রুমের কথা বলছি।
– ওটা দেখতে হবে।
– কখন?
– এখনও তো রাত। আজ না, কালকে দেখার ব্যবস্থা করো। লোকজনকে খবর দাও।
– ঠিক আছে দাদা।
রাতে কারো চোখে ঘুম নেই।
আরিফ, তহিদ, আবীর, আয়মান। সবাই ভাবছে। কি হতে পারে? আয়মান ছোট গলায় বলে, চাচু সত্যি কি ভূতে দরজা বন্ধ রেখেছে
– মামণি, আমি কিছুইতো বুঝছি না। কথাটা বলার সাথে সাথে ভয়ে গলাটা কাঠ হয়ে যায়। আরিফ মনে মনে ভাবে। সত্যি ব্যাপারটি কি?
– আচ্ছা চাচ্ছু, সত্যি যদি ভূত দরজা বন্ধ করে। আপনারা কি করবেন?
– দরজা ভাঙবো।
আবীর আবারও ফিরতি প্রশ্ন করে, দরজা ভাঙলেন। ভূত আপনাদের নখ দিয়ে থাবা মারলো। তারপর কি করবেন?
আরিফের মুখে কথা বের হয় না। কাঁপতে শুরু করে। তহিদও ভয়ে এদিক ওদিক চায়। নিলো অবাক চোখে সবার কথা শোনে চুপ থাকে।
আয়মান সবার কাণ্ড দেখে বলে,- আসলে তোমরা সবাই ভীতু। ভূত কোথায় শৈলীতে। এখানে বাসায় বসে সবাই কাঁপছে। ছি:ছি:ছি।
দাদু বলেছেন,- ভূত বলতে কিছুই নেই। সব মানুষের গল্প বলার জন্য বলা। বিশেষ করে ছোটদের মজা দেবার জন্য বলা।
আয়মানের মা-ও বলে- শুধুশুধু তোমরা ভাবছ, ভয় পাচ্ছো। কাল দরজা ভাঙলে দেখবে। কিছুই নেই।
– তা হলে ভাবী ভেতর থেকে দরজটা কে বন্ধ করলো?
আরিফের এবারের প্রশ্নে ভাবীর মুখেও উত্তর নেই।
ডানে, বাঁয়ে উপরে নিচে চোখ দিয়ে দেখে। ভয় চোখে। সবার অপেক্ষা। সকাল কখন হবে।
সকাল হতেই সবাই ছোটে শৈলীতে।
লোকে ভরপুর। ভূত দেখবে। হয়তো ভূতকে ধরবেও। সবার মনে ভূত ভয়। কি হবে। কি হতে যাচ্ছে।
লোকগুলোও ভয়ে পা বাড়াচ্ছে না।
শৈলীর পাশের দোকানের টিনের চালে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে একজন। সেও ভয়ে কাতর। হাতে মাথুল। আধো পুরনো ভেন্টিলেটর ভাঙতে হবে। এটা ভাঙলেই বুঝতে পারবে ঘটনা কি? সত্যি সত্যি দেখতে পারবে ভূতকে।
লোকটি সাহসী হাতে ভেন্টিলেটর ভাঙে। শৈলী থেকে বন্ধ ঘরের লাইট অন করতে বলে। লাইট অন করতেই লোকটি বলে উঠে-
– ভূত নয়, বই। হা:হা:হা: অট্টহাসিতে লোকটা ভেঙে পড়ে।
– কী বলে লোকটা। ভূত নয় বই।
লোকটাকে বুঝি ভূতে পেলো। সবাই বলাবলি করে।
ওসব কথা ওর কানে যেতেই চিৎকার করে বলে আরে ভাই ভূত নয়। বইয়ের বান্ডিল পড়ে দরজা আটকে গেছে। দরজাটা ভাঙা ছাড়া খোলা যাবে না। দরজাটা ভাঙতেই হবে।
সবাই খিলখিল হাসে। একসময় দরজা ভাঙা হয়। তারপর বইগুলো সরিয়ে রাখে তহিদ। আরিফ। তারপরেও ভয়ে বন্ধ ঘরের চতুর্দিকে দেখে ওরা। লাইটের ফকফকে আলোয় ভূত চোখে পড়ে না। দুইজনেই গলায় জোর দিলে বলে- ভূত নয় বই। হায়রে ভূত।
আবীর, আয়মানের মুখেও সেই কথা- ভূত নয় বই।