পাওয়া যাবে ফ্ল্যাট ও হোল্ডিংয়ের সংখ্যা, শনাক্ত হবে অবৈধ গভীর নলকূপ

ভিন্ন ধারার জরিপ শুরু ওয়াসার

ভূঁইয়া নজরুল

পানি সরবরাহ বাড়ানোর পর এবার ভিন্ন ধারায় চট্টগ্রাম ওয়াসা। নগরবাসী ঠিকমতো পানি পায় কিনা, কোন বাসায় পানির কতোটি সংযোগ লাইন রয়েছে, পানির উৎস কি, পানির গুণগত মান কেমন, ফ্ল্যাটের সংখ্যা কতো, হোল্ডিংয়ের সংখ্যা কতো এধরনের অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর জানতে মাঠে নামছে ওয়াসার টিম। আজ থেকে শুরু হচ্ছে তাদের এই কার্যক্রম।
মাস বা বছর জুড়ে চলবে এই তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম এবং মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে পরবর্তী কর্মকৌশল নির্ধারণ করবে ওয়াসা। এর আগে নগরীর সুয়্যারেজ ব্যবস’া নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) তা ব্যবহার করে জলাবদ্ধতা নিয়ে মেগা প্রকল্পের অনুমোদন নেয়। এবারো বিশাল এক কাজ শুরু করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস’াপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘নগরীতে কয়টি ভবন বা কতোটি ফ্ল্যাট এর কোনো তথ্য নেই। বাস্তব ও তথ্যের মধ্যে অনেক ফারাক। আমরা এসব ফারাক দূর করে সঠিক তথ্যের এক ডাটাবেইজ তৈরি করতে চাই। আর এই ডাটাবেইজ যে কেউ ব্যবহার করতে পারবে।’
সব বাসায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে কি কি তথ্য সংগ্রহ করা হবে জানতে চাইলে প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘বাসায় পানির সোর্স কি? ওয়াসার পাইপ লাইনের পানি না গভীর নলকূপের পানি। আবার গভীর নলকূপ হলে সেই নলকূপটি ওয়াসা থেকে অনুমোদিত কিনা? ওয়াসা থেকে প্রাপ্ত পানির গুণাগুণ কেমন? পানি নিয়ে গ্রাহকদের কোনো অভিযোগ রয়েছে কিনা? একটি ভবনে কতোটি ফ্ল্যাট রয়েছে? ওই ভবনে কতোজন মানুষ বসবাস করে? ওই বাড়ির সংযোগ থেকে ওয়াসার পানির বিল কি পরিমাণ হয়। বাড়ির হোল্ডিং নম্বর কতো?’
কিন’ অনেক বাসার তো হোল্ডিং নম্বর নেই এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই জরিপের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত হোল্ডিং নম্বরের সাথে আমাদের প্রাপ্ত হোল্ডিং নম্বর মেলানো হবে। তাহলে হোল্ডিং নম্বর ছাড়া কেমন বাড়ি রয়েছে তা শনাক্ত করা যাবে এবং সিটি করপোরেশনের কাজে লাগবে। একইসাথে নগরীতে কতোটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং বিভিন্ন উচ্চতার কতোটি ভবন রয়েছে সেই তথ্যও পাওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, পানির সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে সঠিক তথ্যের বিকল্প নেই। অনেক তথ্য সিডিএ কিংবা সিটি করপোরেশনের কাছে থাকার কথা থাকলেও কারো কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমরা উদ্যোগী হয়ে এই সার্ভে শুরু করছি। তা সবার কাজে লাগবে।
কতোদিন নাগাদ এসব তথ্য সংগ্রহ করা হবে জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস’াপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নগরীর চারটি ওয়ার্ড জামালখান, হালিশহর, বহদ্দারহাট ও বাকলিয়া এলাকায় এই জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। পর্যায়ক্রমে পুরো নগরীতে করা হবে। আর সব তথ্যের ডাটাবেইজ তৈরি করা হবে। তা করতে এক বছরের বেশি সময় গেলেও কোনো সমস্যা নেই।’
ওয়াসা যুগান্তকারী কাজ করছে জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, তাদের এই জরিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরীতে ওয়াসার অবৈধ সংযোগ প্রায় শূন্যের কোটায় চলে আসবে। ওয়াসা যেভাবে এগিয়ে চলছে তাতে হয়তো আগামী ২০২১ সাল নাগাদ নগরবাসীকে শতভাগ নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবে।
হোল্ডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে হোল্ডিংগুলো ডিজিলাটাইজড করেছি, তাই কেউ হোল্ডিংয়ের বাইরে নেই।’
অপরদিকে ওয়াসার এই জরিপ কার্যক্রমের সাধুবাদ জানিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ওয়াসা এর আগেও মাস্টারপ্ল্যান করেছে এবং আমরা তা ব্যবহার করে জলাবদ্ধতা প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এখন ভবন ও ফ্ল্যাটের সংখ্যার মাধ্যমে তারা সুয়্যারেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে হয়তো তথ্য সংগ্রহ করছে কিন’ এতে আমাদেরও লাভবান হবে। মাঠের বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে।
ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, বিশাল এই কার্যক্রমের জন্য ওয়াসা কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেনি। ওয়াসার নির্ধারিত জনবল দিয়ে এই কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। ওয়াসার প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে নগরজুড়ে এই জরিপ কার্যক্রম চালাবে। আর সব তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে ওয়াসার অনেক লাভবান হবে।
কি লাভবান হবে জানতে চাইলে ওয়াসার প্রকৌশলীরা জানান, অনুমোদনহীন গভীর নলকূপের সংখ্যা পাওয়া যাবে। একই সাথে নগরীতে এখন ৬০ হাজার সংযোগ থাকলেও বাস্তবে অবৈধ লাইন রয়েছে কিনা এবং আগামীতে কি পরিমাণ সংযোগ লাগবে তা জানা যাবে এই জরিপের মাধ্যমে।
উল্লেখ্য, ওয়াসা বর্তমানে নগরীতে দিনে প্রায় ৩০ কোটি পানি সরবরাহ করছে। কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে দিনে আসছে ১৪ কোটি লিটার, মোহরা পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে আসছে ৯ কোটি লিটার এবং গভীর নলকূপগুলো থেকে আসছে আরো প্রায় ৭ কোটি লিটার। এতে নগরীতে পানি সরবরাহ বেড়েছে এবং মানুষের পানি সঙ্কটও কমে এসেছে। অপরদিকে আগামী মাসে চালু হতে পারে দিনে ৯ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতার মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প।