ভিক্ষুহত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি পেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ভদন্ত ধাম্মা ওয়াসা ভিক্ষু প্রকাশ উ গাইন্দা ভিক্ষু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন কর্মসূচি ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেছে বাংলাদেশ পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ।
মানববন্ধনে ভিক্ষু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৈশাখী পূর্ণিমার সর্বজনীন উৎসব বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, দেশে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায়। সারাদেশে একের পর এক সংখ্যালঘুসহ ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে চললেও সরকার চুপ করে আছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় খাগড়াছড়ি শহরের প্রেসক্লাব সম্মুখে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ভদন্ত অগ্রজ্যোতি মহাথের ভিক্ষুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষুও দায়ক-দায়িকাগণ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাখান করে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ভিক্ষু এসোসিয়েশন সম্পাদক ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথের, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মারমা ঐক্য পরিষদ সভাপতি কংচাইরী মাস্টার, বাংলাদেশ জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সন্তোষিত চাকমা বকুল, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি জীতেন বড়ুয়া, পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ সভাপতি ভদন্ত অগ্রজ্যোতি মহাথের, পেরাছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তপনজ্যোতি ত্রিপুরা এবং প্রনায়ন ভিক্ষু।
সভা সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুক্তিপদ থের। পরে পাঁচ দফা দাবি সম্মলিত একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেন ভিক্ষুসংঘ নেতৃবৃন্দ।
পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ভদন্ত উ গাইন্দা ভিক্ষুওয়াসাকে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত, চুক্তি অনুযায়ী উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, বেদখলকৃত বৌদ্ধমন্দির ও অনাথ আশ্রম উদ্ধার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সরকারিভাবে তালিকা করে বহিষ্কার করা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে বাইশারীর ওপর চাক পাড়ার নতুন বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ মংশৈউ চাক প্রকাশ উ গাইন্দা ভান্তেকে বিহারের অভ্যন্তরে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ এখনো হত্যার রহস্য বের করতে পারেনি। এ ঘটনায় পুলিশ কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শনিবার রাতে মো. জিয়া, আবদুর রহিম ও হ্লামং চাককে আটক করে।
এদের মধ্যে প্রথম দুজনই মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নাগরিক। তাদের ৩ জনকে বাইশারীর একটি রাবার বাগান থেকে আটক করা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন