ভাসানচরের মালিকানা দাবিতে সোচ্চার সন্দ্বীপের মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, সন্দ্বীপ
Sandip_Pic-(1)

সন্দ্বীপের সীমানা ঘিরে জেগে ওঠা চরের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে যাচ্ছে দ্বীপবাসীরা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বৃহত্তম মানববন্ধনের পর এবার উপকূলীয় বেঁড়িবাধ এলাকায় সমাবেশ ও ভাসানচরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সন্দ্বীপ জেগে উঠা ভূমি রক্ষা পরিষদ। সমাবেশে সন্দ্বীপের সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের উপকূলীয় বেঁড়িবাঁধ এলাকায় সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেন চরের দাবিতে আন্দোলনরত দ্বীপবাসীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সন্দ্বীপ জেগে উঠা ভূমি রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক, মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মিজানুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ঠ্যাঙ্গারচর (ভাসানচর) সন্দ্বীপের পার্শ্ববর্তী একটি জেগে ওঠা চর হলেও সেটা নোয়াখালীর দাবি করা হচ্ছে। বনবিভাগসহ সরকারি একাধিক সংস’ার জরিপে সন্দ্বীপের মাত্র কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে জেগে ওঠা চরটি সন্দ্বীপের আদি ইউনিয়ন ন্যায়ামস্তীর অংশ। কিন’ নানান কারণে সন্দ্বীপবাসীর দাবি না মেনে তা নোয়াখালী জেলার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সন্দ্বীপের আপামর জনগণ অন্যায় এই দাবি কোনভাবে মেনে নিতে পারে না।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি প্রাচীন জনপদ সন্দ্বীপের মোট মৌজা ছিল ৬০টি। কিন’ মেঘনার ভাঙনে বর্তমানে ৩৮টি মৌজা অবশিষ্ট রয়েছে। সন্দ্বীপের ১৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ন্যায়ামস্তি, ইজ্জতপুর, কাটগড়, বাটাজোড়া সহ ৪টি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া সারিকাইত, মাইটভাঙ্গা, মুছাপুর, আজিমপুর, রহমতপুর, হরিশপুর, কালাপানিয়া ইউনিয়নের আংশিক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এক সময় সন্দ্বীপের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন মৌজা ন্যায়ামস্তি ১৯৫৩ সাল থেকে নদী ভাঙনের শিকার কবলে পড়তে থাকে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে মৌজাটি সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, ন্যায়ামস্তী ইউনিয়নের চারটি মৌজার মধ্যে সুলতানপুর, কমুলপুর, শরীফপুর ও পাঁচবাড়িয়া’র উল্লেখযোগ্য অংশ গত এক দশক ধরে সন্দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে জেগে ওঠে। স’ানীয়রা এই চরকে ন্যায়ামস্তি চর, ঠেঙ্গার চর অথবা ভাসানচর নামে ডাকতে থাকে দীর্ঘদিন ধরে। ঠেঙ্গার চর বা ভাসান চরটি সন্দ্বীপের নিকটে হওয়ার পাশাপাশি ভূমি জরিপ, নদী জরিপ, নক্শা ও খতিয়ান অনুযায়ী সন্দ্বীপের বিলীন হওয়া ইউনিয়ন ন্যায়ামস্তি (চর ন্যায়ামস্তি) হিসেবে সন্দ্বীপের মানুষ দাবি করে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূলীয় বন বিভাগের তথ্য-উপাত্ত উত্থাপন করে জানানো হয়, বর্তমান ভাসানচর সন্দ্বীপের সাবেক ন্যায়মস্তির অংশ হিসেবে সন্দ্বীপ রেঞ্জের আওতায় বনায়ন করা হয়। ২০১৪ সালের ৬ জুন ন্যায়ামস্তি সন্দ্বীপ মৌজায় জেগে উঠা চর ভূমির সাত হাজার একর জমি বনায়নের জন্য উপকূলীয় বন বিভাগের পক্ষে ৪ ও ৬ ধারার গেজেট প্রকাশ করা হয়। ওই গেজেট প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে উক্ত জমির সীমানা বা স্বত্ব ঘোষণার ব্যাপারে কোন পক্ষ হতে কোন দাবি দাখিল করা হয়নি। রেঞ্জ কর্মকর্তারা সন্দ্বীপের বিগত ১০ বছর ধরে ন্যায়ামস্তি চরে (ভাসানচর) বৃক্ষরোপণ করে আসছে। সর্বশেষ ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় এক হাজার ৫০ একর জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সারিকাইত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম পনির বলেন, সন্দ্বীপের নিকটবর্তী একটি চর দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপের আওতাভুক্ত থাকার পরও হঠাৎ করেই নোয়াখালী বা হাতিয়া দ্বীপের অধীনে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত চলছে। সন্দ্বীপের মানুষ অন্যায্য একটি দাবি মেনে নেবে না। প্রয়োজনে ভাসানচরের মালিকানার দাবিতে সন্দ্বীপবাসী বৃহত্তর কর্মসূচি দেবে ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মগধরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম আনোয়ার, আজিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আবুল হোসেন, সহসভাপতি কাজী ফসিউল আলম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম বাবুল, যুবলীগের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আনোয়ার হিরণ, খেলাঘর সভাপতি অনিক কর পাপ্পু, আবাহনী ক্রীড়াচক্রের সফিকুল আজম, ইউপি সদস্য কাজী ফোরকান উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা কৃষি লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের। অধ্যক্ষ মাওলানা নাছির আহমেদ, প্রফেসর সফিকুল মাওলা, মাওলানা বোরহান উদ্দিন, মাওলানা ইয়াছিন, মাওলানা সামসুদ্দিন, মাস্টার দুলাল মজুমদার, মাস্টার রতন মিত্র ও মাস্টার বিকাশ সাহা।