সুপ্রভাতের মুখোমুখি ডা. রবিউল হোসেন

ভালো সার্ভিসই হলো আমার একমাত্র অবলম্বন

DSC_0064-

এমন একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখলেন কীভাবে ?
ডা. রবিউল হোসেন : আমি দেখলাম চট্টগ্রামে মানসম্মত একটা হসপিটাল নেই। সিঙ্গাপুর-ব্যাংককে আমি আর আমার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সব জায়গা-জমি বিক্রি করে দিয়েছি। নিঃস্ব হয়ে গিয়েছি। চিন্তা করলাম এ অঞ্চলে উন্নতমানের একটা হাসপাতাল করা প্রয়োজন। কয়েকজন ব্যবসায়ীকে প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু তারা বললেন, আমরা যে পাঁচ-দশ কোটি দেবো, তা কখন ফেরত পাবো ? পরে কয়েকজন আমাকে মেডিক্যাল কলেজ করার প্রস্তাব করলেন। মেডিক্যাল কলেজ মানে তো বিজনেস। ব্যবসায়ীরা লাভটা খুব তাড়াতাড়ি চায়। শেষ পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসলো না।

এ হাসপাতালের বিশেষত্ব কী ?
ডা. রবিউল হোসেন: একটা হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুটি- পেশেন্ট সেফটি (রোগীর নিরাপত্তা) ও ইনফেকশন কনট্রোল (সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ)। রোগী এক রোগ নিয়ে হাসপাতালে এসে আরেক রোগ নিয়ে যাতে বেরিয়ে না যায় সেজন্য রোগীর নিরাপত্তা ও ইনফেকশন কনট্রোলকে আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়েছি। এ কাজের জন্য আমরা অতিরিক্ত কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছি। একজন বিদেশি কনসালটেন্ট রাখা হয়েছে। তিনি মাসে ১০ দিনের জন্য আসেন। তার দৈনিক বেতন পড়ে ২ হাজার ডলার বা ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
কীভাবে উন্নত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করবেন ?
ডা. রবিউল হোসেন: ভালো সার্ভিস দিতে হলে দক্ষ ডাক্তার, নার্স ও টেকনেশিয়ান লাগবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের দেশে নিবেদিত ডাক্তার নাই, নার্স নাই, টেকনেশিয়ান নাই। তাই বিদেশ থেকে বেশকিছু চিকিৎসক-নার্সকে সহযোগী হিসেবে এখানে নিয়ে আসা হবে। আমি কথায় নই, কাজে বিশ্বাসী। চক্ষু হাসপাতালের সেবার মান শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সেবার মানও সেভাবে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করবো।
এ হাসপাতালটি এ অঞ্চলের রোগীদের কতটুকু আস্থা অর্জন করতে পারবে বলে মনে করেন ?
ডা. রবিউল হোসেন: বিষয়টা নিয়ে আমি দুশ্চিন্তায় আছি। নগরীর হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো যেভাবে ব্যবসা করছে, কমিশন দিয়ে রোগী বাগিয়ে আনে। আমার পক্ষে তো ওই লাইনে যাওয়া সম্ভব না। কেননা আমি সারা জীবন নীতি-নৈতিকতা মেনে চলেছি। আমার দুশ্চিন্তা হলো, এ বুড়ো বয়সে তাদের সাথে কীভাবে এমন অনৈতিক কাজ করে প্রতিযোগিতা করবো ?
তাহলে রোগীদের কীভাবে আস্থা অর্জন করবেন?
ডা. রবিউল হোসেন: আমার প্রতিযোগিতা করার উপায় হলো রোগীদের ভালো সার্ভিস দেওয়া। ভালো সার্ভিসই হলো আমার একমাত্র অবলম্বন। এজন্য সময় লাগবে বটে। তবুও এ প্রচেষ্টা আমি করবো। ল্যাবরেটরিতে যদি আমি ভালো টেস্ট করতে পারি, তাহলে রোগীদের আস্থা বাড়বে বলে মনে করি।
সেবার মান অক্ষুন্ন থাকবে কি ?
ডা. রবিউল হোসেন : এ হাসপাতালটা আমি গড়ে তুলেছি এ অঞ্চলের মানুষের সেবা করতে, বাণিজ্য করতে নয়। শুধু রোগীদের সেবার মানের দিকে তাকিয়ে হাসপাতালের নির্মাণ কাজে অন্তত দুইশ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করেছি। যা আমি না করলেও পারতাম। সেবার মান বৃদ্ধি করতে এখানে নার্স ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছি। আশা রাখছি, সেবার মান অটুট থাকবে।