ভালোবাসা দিবস পর্যটকে মুখর কক্সবাজার

দীপন বিশ্বাস, কক্সবাজার

ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এখন দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটকে মুখর। সমুদ্র সৈকত ছাড়িয়ে এসব পর্যটকের ঢেউ গিয়ে পৌঁছেছে দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত সেন্টমার্টিন পর্যন্ত। দ্বীপটিতেও ঢল নেমেছে পর্যটকের।
এছাড়া কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ঝর্না হিমছড়ি, উখিয়ার ইনানী, রামুর বৌদ্ধ পল্লী, রামকোট, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মহেশখালী আদিনাথ মন্দির, উখিয়ার কানারাজার সুড়ঙ্গ, কুদুম গুহা, টেকনাফের গেম রিজার্ভ, সোনাদিয়া
দ্বীপ, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র এখন পর্যটকের পদচারণায় মুখর। এতে ঝিমিয়ে থাকা পর্যটন শিল্প যেন প্রাণ ফিরে পেল। ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার সমুদ্র সৈকত তীরের বালিয়াড়িতে দাঁড়ানোর জন্য তিল পরিমাণ জায়গা ছিল না। ঠাসাঠাসি অবস’া দেখে অনেককেই চলে আসতে দেখা গেছে। ফুলের দোকানে সকাল থেকেই গোলাপ সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকেই বাসি গোলাপ হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিন/চারগুন দামে কিনতে হয়েছে গোলাপ। এছাড়াও নানা রঙের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন অনেকেই।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলি পর্যন্ত দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। হৈ হুল্লোড়, ছুটোছুটি আর সাগরের পানিতে আনন্দে লুটোপুটি, প্রকৃতির সাথে মিতালির চেষ্টা ভ্রমনপিপাসুদের।
কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সমপাদক আবুল কাসেম সিকদার জানান, পর্যটন নগরীতে ছোট-বড় প্রায় ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস ও কটেজ রয়েছে। এসব স’ানে প্রতিদিন দেড় লক্ষাধিক মানুষের থাকার ব্যবস’া রয়েছে। এসব হোটেলের প্রায় শতভাগই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটক সমাগমকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস’া। হোটেল মালিকরাও এবারের মৌসুমে আগের চেয়ে অনেকটা সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া সৈকতে গোসল তথা গা ভেজাতে গিয়ে পর্যটকরা যেন দুর্ঘটনার শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রস’ুত রয়েছে লাইফ গার্ড সংস’াগুলো।
রবি লাইফ গার্ডের ইনচার্জ ছৈয়দ নুর জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রস’ুত লাইফ গার্ড কর্মীরা। সৈকতের সী ক্রাউন, সী ইন, সী গাল, লাবণী, শৈবাল ও ডায়াবেটিকসহ সব পয়েন্টে লাইফ গার্ড কর্মীরা রয়েছেন। তারা প্রতি মুহূর্তে পর্যটকের সেবায় কাজ করছে। তবে বাঁচতে হলে আগে নিজেকেই ‘সজাগ’ থাকতে হবে বলেও জানান পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্বপালনকারী এ কর্মী।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রায়হান কাজেমী জানান, বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে তিন শিফটে ২৪ ঘন্টা পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক মাঠে টহল দিচ্ছে। তিনি বলেন, কবিতা চত্বর, ডায়াবেটিক পয়েন্ট, ইনানী ও হিমছড়িতে সকাল ৮টা থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে কোথাও কোন গোলযোগের আশঙ্কা নেই। সবাই আনন্দের সাথে সময় কাটাচ্ছে।
মূলত গতকাল ভোর থেকেই সমুদ্র সৈকতে ভিড় শুরু হয়েছে। দিনের আলো যত বাড়তে থাকে ভিড়ও তত বাড়তে শুরু করে। বিকেলের দিকে সমুদ্র তীর কানায়, কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ভিড় সামলাতে অনেক পরিবারের সদস্যরা হিমশিমে পড়েন বলে জানা গেছে। দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকও চোখে পড়েছে। ইংল্যান্ড, থাইল্যান্ড, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের সাগর পাড়ে সময় কাটাতে দেখা যায়।
হোটেল মালিক সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাস থেকেই পর্যটকদের আনাগোনায় বেশ জমজমাট কক্সবাজার। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পর্যটকেরা কিছুটা আতংকিত হলেও এখন স্বাভাবিক অবস’া বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে শহরের প্রায় শতাধিক হোটেলের অধিকাংশই বুকিং হয়ে গেছে চার/পাঁচ দিনের জন্য। এখন পর্যটন মৌসুম সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বছরের সব সময়ই পর্যটন মৌসুম। রাজনৈতিক পরিসি’তি ভাল থাকলে এ শিল্প অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে অনেক হোটেল মালিকের অভিমত।