ভালোবাসার রঙ বসন্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক
Happy-Promise-Day-2014

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ঋতুরাজ বসন্তের দ্বিতীয় দিনে ভালোবাসা দিবস তরুণ-তরুণীদের কাছে অন্যরকম আবেদন সৃষ্টি করে। ফুলে রাঙা আর বাসন্তী সাজে দেখা মেলবে যুগলদের। শুধু তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের মানুষই ভালোবাসার এই দিনে একসঙ্গে সময় কাটাবেন। দিনটি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসাও যেন পায় নতুন রূপ।
আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই। এদিনে চলবে উপহার দেয়া-নেয়া।
ভালোবাসা দিবসে প্রিয় মানুষকে একান্তে কাছে পেতে বিভিন্ন জায়গায় ঢু মারবেন অনেকে। কেউ পার্কে, কেউ একটু দূরে নির্জনে, কেউ আবার সিনেমা হলে। জুটি বেঁধে তরুণ-তরুণীদের ভিড় দেখা যায় রেস্তোরাঁগুলোতেই।
এদিকে দিনটি ঘিরে নানা পরিকল্পনা করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী জুবাইর হাসনাত নাঈম ও মোশারাত ফারহানা শাম্মা। তারা বলেন, আমাদের দুজনের জন্য দিনটা অনেক স্পেশাল। তাই স্পেশালভাবেই পালন করবো ভালোবাসা দিবস। সারাদিন ঘুরবো। সাথে জম্পেশ খাওয়া দাওয়া। শহরে পছন্দের একটি রেস্টুরেন্টে যাবো দিনের শেষে। কারণ সকাল বেলায় প্রচণ্ড ভিড় থাকে। খাওয়া হতেই উঠে পড়তে হয়। তাই একটু বেশি সময় কাটাতে নিরিবিলি রেস্টুরেন্টই ভালো।
এছাড়াও ভালোবাসা দিবসে ফুল, কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের উপহার দেয়া হয় প্রিয়জনকে। ই-মেইল, মুঠোফোন-ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে এসএমএসে প্রেমবার্তা কিংবা শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে দিনটি শুরু করে অনেকেই। এরপর প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে চকলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, খেলনা অথবা বই ইত্যাদি গিফট করা হয়।
অন্যান্য দেশের মতো ভালোবাসা দিবসে বাংলাদেশেও নানা আয়োজন থাকে। এ উপলক্ষে নগরীতে বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালন হবে দিনটি। এদিনে লাল, নীল, সাদা, গোলাপি বিভিন্ন রঙের পোশাক আর সাজসজ্জায় রঙিন হয়ে উঠবে চারদিক। দিবসটি উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন স’ানে কনসার্টেরও আয়োজন করা হয়েছে। রেস্তোরাঁগুলোতে থাকবে আলাদা খাবারের আয়োজন।
নগরীর বিভিন্ন স’ানে রেস্তোরাঁগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিবসটি ঘিরে তাদের বাড়তি প্রস’তি কথা। এছাড়াও পরিবর্তন আনা হয়েছে খাবারের মেনুতে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান দিবে মূল্য ছাড়। এম এ আজিজ স্টেডিয়াম মার্কেটের রোদেলা বিকেল রেস্তোরাঁর জেনারেল ম্যানেজার সাইনুল সাবের সুপ্রভাতকে বলেন, অন্যদিনের তুলনায় ভালোবাসা দিবসে তিন-চার গুণ বেশি ক্রেতা আসবে। সেজন্য আলাদা প্রস’তি নেয়া হয়েছে। এছাড়াও খাবারের কিছু আইটেম নতুন করে যুক্ত করা হবে।
ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।