সন্তানের কান্না

ভারতীয় পরিবারকে নামিয়ে দিলো ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ

সুপ্রভাত ডেস্ক

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছে এক ভারতীয় পরিবার। লন্ডন থেকে বার্লিনগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে ওই পরিবারকে জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারটির দাবি, গত ২৩ জুলাই তাদের তিন বছর বয়সী শিশু কান্না করতে থাকায় তাদেরকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় বার্তা সংস’া এএনআই-এর প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে। খবর বাংলাট্রিবিউন’র।
গত ২৩ জুলাই লন্ডন থেকে বার্লিনে যাওয়ার জন্য ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের (বিএ ৮৪৯৫) ফ্লাইটে ওঠেন এ পি পাঠক ও তার পরিবার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে লন্ডন থেকে বার্লিন যাচ্ছিলাম। হঠাৎ আমাদের ছেলে কান্না শুরু করলো এবং তখন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট এসে ধমক দিয়ে বললেন, কান্না না
থামালে আমাদেরকে বিমান থেকে নামিয়ে দেবেন। কিছুক্ষণ পর তিনি নিরাপত্তারক্ষীকে ডেকে আমাদের নামিয়ে দেন।’
এ পি পাঠক ভারতের বিমানমন্ত্রী সুরেশ প্রভার কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেখানে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে ‘হয়রানি ও বর্ণবাদী আচরণের’ অভিযোগ এনেছেন তিনি।
অভিযোগে এপি পাঠক লিখেছেন, ‘সিট বেল্ট বাঁধার জন্য ঘোষণা দেওয়ার পর আমার স্ত্রী তিন বছরের সন্তানকে (আলাদা সিটে বসা) সিট বেল্ট বেঁধে দেয়। এরপর আমার ছেলে অস্বস্তি বোধ করছিলো ও কান্না শুরু করে দেয়। আমার স্ত্রী তাকে কোলে নিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছিলো। তখন এক পুরুষ বিমান ক্রু আমাদের দিকে এগিয়ে এলেন এবং চিৎকার করতে লাগলেন। আমার ছেলেকে ধমক দিয়ে তার সিটে বসতে বললেন। এতে আমার ছেলে ভয় পেয়ে অনবরত কাঁদতে লাগলো। আমাদের পেছনের সিটে বসা আরেকটি ভারতীয় পরিবার আমার ছেলেকে বিস্কুট দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলো। আমার স্ত্রী আবার ওকে ওর জন্য নির্ধারিত সিটে বসিয়ে দিলো এবং সিট বেল্ট বেঁধে দিলো। তবে সে কেঁদেই যাচ্ছিলো।’
পাঠক জানান, এরপর বিমানটি রানওয়েতে চলতে শুরু করলো। বিমানের ওই একই ক্রু এসে আবারও তার ছেলেকে ধমক দিলেন এবং চুপ না করলে জানালা দিয়ে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিলেন। পরে তাদেরকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
পাঠক আরো লিখেছেন, যে পরিবারটি তার সন্তানকে বিস্কুট দিয়েছিল তাদেরকেও বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘এ ধরনের অভিযোগকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি এবং আমরা কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেই না। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছি এবং অভিযোগকারী যাত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছি।’