ভারতকে গুঁড়িয়ে শিরোপা পাকিস্তানের

দেবজ্যোতি চক্রবর্তী
Fakhar-Zaman

টস-ভাগ্য বিশ্বাস করেন বিরাট কোহলি? করলে হয়তো গতকাল পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানাতেন না। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালের সাথে এ ম্যাচটির দারুণ মিল রয়েছে। সেবার সৌরভ গাঙ্গুলী টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পরিণতি, পন্টিংয়ের তাণ্ডবে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৩৫৮ এবং ভারতের ১২৫ রানের বড় হার। আর গতকাল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ফাখার জামানের অভিষেক সেঞ্চুরি কেড়ে নিলো ভারতের শিরোপা। ১৮০ রানের জয় পেল পাকিস্তান।
২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারার পর তখনকার ভারতীয় ক্রিকেটারদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছিল ক্ষুদ্ধ সমর্থকরা। গতকালের হারের পর ভারতের ‘ক্রিকেট পূজারী’ সমর্থকরা হয়তো কোহলি-ধোনিদের কুশপুতুল দাহ করেছে।
আইসিসির যত টুর্নামেন্ট আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ের রেকর্ড এখন পাকিস্তানের দখলে। এর আগে ছিল অস্ট্রেলিয়ার ১২৫ রানের জয়টি। অথচ টুর্নামেন্টের শুরু থেকে নড়বড়ে পাকিস্তানকে শিরোপার আশেপাশেই রাখেননি বিশ্লেষকরা। এমনি ১৫ জন ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার যারা ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে একমাত্র রমিজ রাজা বলেছিলেন ভারত-পাকিস্তান ফাইনালে খেলবে।
আর সেই পাকিস্তান রীতিমতো রেকর্ড গড়ে শিরোপা ঘরে তুললো। আইসিসি ক্রিকেটে টুর্নামেন্টে এটি তাদের তৃতীয় কোনো শিরোপা জয় আর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হিসেবে প্রথম।
আইসিসির ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে এখনো পর্যন্ত কোনো দল তিনশ’ রানের বেশি সংগ্রহ তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সর্বোচ্চ ২৬৫ রান তাড়া করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নিউজিল্যান্ড, ২০০০ সালে ভারতের বিরুদ্ধে।
অভিষেক সেঞ্চুরি করে হিরো হয়ে থাকলেন পাকিস্তানের নাবিক থেকে ক্রিকেটার বনে যাওয়া ফাখার জামান। তার ১১৪ রানের ইনিংস আর মোহাম্মদ আমীরের প্রথম স্পেলের বোলিং সব কেড়ে নিলো ভারতের। আজহার আলী ও ফাখার যখন ইনিংস শুরু করতে নামলেন, প্রথম তিন ওভার দেখেশুনে খেলেন তারা। এরপর বুমরাহর বলে আউট হলে পরে রিভিউ দেখে তা নো বল দিলে বেঁচে যান ফাখার। এরপর আর সুযোগ দেননি দুই ওপেনার। এক্কেবারে শতরানের জুটি গড়ে দলের ভিত শক্ত করেন তারা। ৫৯ রান করা আজহারকে রান আউট করে এ জুটি ভাঙেন বুমরাহ। এ জুটি ১২৮ রান যোগ করে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথম উইকেটে এটি পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান।
এরপর বাবরকে নিয়ে এগিয়ে যান ফাখার। দলীয় ২০০ রানে ফাখারকে আউট করেন পান্ডেয়া। আউট হওয়ার আগে ১ ছয় ও ৬ চারে ১১৪ রানের ইনিংস খেলে তিনি। এরপর ২৪৭ ও ২৬৭ রানে শোয়েব মালিক (১২) এবং বাবর (৪৬) আউট হলে মোহাম্মদ হাফিজ ইমাদকে নিয়ে ৩৩৮ রানে নিয়ে যায় দলের সংগ্রহ। হাফিজ শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানে অপরাজিত ছিলেন, ইমাদের ব্যাট থেকে আসে ২৫ রান।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। ৩৩ রান তুলতেই রোহিত, ধাওয়ান ও কোহলিকে মোহাম্মদ আমীর সাজঘরে পাঠালে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ভারত। এরপর যুবরাজ ও ধোনি স্পিনার সাদাব এবং হাসান আলীর বলে ফিরে গেলে শিরোপা হাতে নেয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তানের জন্য। নিচের দিকে পান্ডেয়া ও রবীন্দ্র জাদেজার ৮০ রানের জুটি শুধু পরাজয়ের ব্যবধানটা কমাতে পেরেছে। ৬ ছয় ও ৪ চারে ৭৬ রান করা পান্ডেয়ার ঝড়ো ইনিংসটি আড়ালেই থেকে গেছে। শেষ পর্যন্ত ১৫৮ রানে আটকে যায় ভারতের ইনিংস।
এ জয়ে র্যা ঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ফেললো পাকিস্তান। ৯৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান এখন ছয় নম্বরে আর ১ পয়েন্ট কম নিয়ে বাংলাদেশ তাদের নিচে।
প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে উঠেই শিরোপায় হাত রাখলো পাকিস্তান। বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক হিসেবে ইমরান খান, ইউনিস খানের পাশে সরফরাজ খানের নামও লেখা হয়ে গেল ইতিহাসের পাতায়।