ভাঙনের মুখে বসতভিটা অপরিকল্পিতভাবে চলছে বালু উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান

বান্দরবানের ভাগ্যকূলে পাহাড়ের ছড়া-খাল থেকে মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে । স’ানীয় ইউপি মেম্বারের সহযোগিতায় অপরিকল্পিতভাবে এ অপতৎপরতার কারণে ভাঙনের মুখে পড়েছে স’ানীয়দের ঘরবাড়ি,ফসলি জমিসহ রাস্তাঘাট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বান্দরবানের সদর উপজেলার সূয়ালক ইউনিয়নের ভাগ্যকুল, গয়ালমারা, রেনিক্ষ্যং, কদুখোলা এলাকায় সাপ্রু খাল, রেনিক্ষ্যং পাহাড়ি ছড়া থেকে মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে লোহাগাড়ার বালু ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার, শোয়েব, জাহিদ এবং কাজলের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। তাদের সঙ্গে যুক্ত স’ানীয় ইউপি মেম্বার মো. জামাল উদ্দিনও।
প্রতিদিন তিনটি স্পটে ২০/৩০ জন শ্রমিক মেশিন দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে ছড়া-খালের দুপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং রাস্তাঘাটও। অন্যদিকে বালু উত্তোলনের কারণে সাপ্রু খালের পূর্বপাড় ভেঙে বদলে যাচ্ছে বান্দরবানের সীমানাও। ভাঙনের কারণে ক্রমশ ছোট হচ্ছে বান্দরবানের সীমানা। প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে এ অপকর্ম চলছে বলে অভিযোগ স’ানীয়দের। পাহাড়ের ছড়া এবং খালের পশ্চিমপাশে উত্তোলন করা বালু স’প করে রাখা হয়েছে পাচারের উদ্দেশ্যে। প্রতিদিনই এখান থেকে ৪/৫ ট্রাক বালু চট্টগ্রামের লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন স’ানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ।
স’ানীয় বাসিন্দা রফিকুল আলম,আব্দুর রহমান, আব্দুল মজিদ জানান, বালু উত্তোলনের কারণে খালের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। বাড়িঘরও হুমকির মুখে পড়েছে। মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় কদুখোলা-ভাগ্যকূল সড়কে একটি ব্রিজের দুপাশের মাটি ধসে গেছে। অনেক জায়গায় চলাচলের রাস্তাও ভেঙে গেছে। বালু উত্তোলন বন্ধে মেম্বার-চেয়ারম্যান,প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততাকে দায়ী করেছেন অনেকে । লোহাগাড়ার বালু ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন,চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) থেকে খাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি নিয়েছি।
চট্টগ্রাম এবং বান্দরবান সীমানা চেনার কোনো দরকার নেই। অনুমতির কাগজ আছে, আমি যেখানে ইচ্ছা সেখান থেকেই বালু উত্তোলন করবো।
সূয়ালক ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য বালু উত্তোলনকারীদের আমি নিজেও বহুবার বলেছি। কিন’ তারা কারোর কথায় শোনছেননা। ব্যবস’া নেয়ার জন্য স’ানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমি জড়িত কথাটি সত্য নয়।
সুয়ালক ইউপি চেয়ারম্যান উক্যানু মারমা বলেন,সাপ্রু খালটি বান্দরবান-চট্টগ্রামের সীমানার মধ্যখানে। খালের পূর্বপাড়ে বান্দরবান এবং পশ্চিমপাশে চট্টগ্রাম। কিন’ মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে সীমানা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে । আমি কয়েকবার বালু উত্তোলনকারীদের বালু উত্তোলন বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছি। কিন’ তারা আমার নির্দেশ মানছেনা। আমি তাদেরকে বৈধ কাগজ নিয়ে ইউনিয়ন অফিসে দেখা করতে বলছি।
কিন’ তারা সেটিও করছেনা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, অবৈধভাবে পাহাড়ের খাল-ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেয়া হবে।