ফাইতংয়ে অনুমোদনহীন বালু উত্তোলন

ভাঙছে বসতি ও আবাদি জমি

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

চকরিয়ার বানিয়ারছড়া স্টেশনের অদূরে লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে ছড়াখাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালীচক্র প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে দিব্যি চালিয়ে আসছে বালুবাণিজ্য। এ অবস্থার কারণে খালের আশপাশের অন্তত তিন শতাধিক জনবসতি হুমকির মুখে পড়েছে। ভেঙে যাচ্ছে কৃষকের বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে জনগণের চলাচলের একটি সেতু।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, বালু উত্তোলনের স্থানটি চকরিয়ার বানিয়ারছড়া স্টেশনের একটু ভেতরে লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খেদারবানস্থ ইসলামিক মিশন এলাকায়। কয়েক বছর ধরে অনেকটা বিনা বাধায় অভিযুক্ত চক্রটি বালু উত্তোলন করে দিব্যি ব্যবসা করে আসলেও লামা উপজেলা প্রশাসন অদ্যাবধি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে জড়িতরা দ্বিগুণ দাপটে চালিয়ে আসছে অবৈধ বালুবাণিজ্য। স্থানীয় লোকজন জানান, ছড়াখাল থেকে বালু উত্তোলনের কারণে স্থানীয় জমি মালিক ডা. বেলাল উদ্দিন, মাস্টার সালাহউদ্দিন, ছৈয়দ আহমদ, ডা. জাহাংগীর আলমসহ অনেকের বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি ও বসতঘর ভেঙে খালে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, বালু উত্তোলনে জড়িত রয়েছেন স্থানীয় মৌলভী হাসান আলীর ছেলে মারুফ, মুছা আলীর ছেলে আরাফাত ইসলাম, নুর হোসেনের ছেলে রিফাত, ফুল মিয়ার ছেলে জামাল উদ্দিন, মৃত মো. মোস্তাফার ছেলে সাদ্দাম হোসেনসহ তাদের লোকজন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার ছরওয়ার আলম জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ছড়াখাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যবসা করে আসলেও এ ব্যাপারে প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদের কোনো ধরনের অনুমতি নেই। তারা মূলত দাপট দেখিয়ে অবৈধভাবে বালুব্যবসা করে আসছে। তিনি বলেন, ছড়াখাল থেকে এভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার জনবসতি ও আবাদি জমি এবং জনসাধারণের চলাচলের সেতু।
ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন কোম্পানি বলেন, ছড়াখাল থেকে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার জনবসতি ভাঙনের কবলে পড়েছে। স্থানীয় অনেকে ঘটনাটি আমাকে জানিয়েছে। যাঁরা এ কাজে জড়িত তাদের কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন নেই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আনা হবে।