ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলা এমপি মাহজাবিনের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় জাতীয় পার্টির (জাপা) এমপি মাহজাবিন মোরশেদের মালিকানাধীন আইজি নেভিগেশনের পরিচালক সৈয়দ মোজাফফর আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মহানগর দায়রা জজের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ফারুক আহমেদ কারাগারে পাঠানোর এ নির্দেশ দেন।
আদালতসূত্রে জানা যায়, নগরীর ডবলমুরিং থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গতকাল সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে মোজাফফর আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ওই মামলায় মাহজাবিন মোরশেদ ও বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস’াপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামও আসামি।
দুদুকের পিপি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু সুপ্রভাতকে বলেন, অর্থ আত্মসাৎ এর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মোজাফফর আহমেদ। আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতসূত্রে জানা যায়, বেসিক ব্যাংকের পৌনে তিনশত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মাহজাবিন মোরশেদ এবং তার স্বামী মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলা দুটিতে বেসিক ব্যাংকের সাবেক দুই ব্যবস’াপনা পরিচালকসহ (এমডি) তিনজনকে আসামি করা হয়। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি নগরীর ডবলমুরিং থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। পৃথকভাবে ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা দুটি দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে উভয় এজাহারে অভিযোগ আনা হয়।
জানা যায়, পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আইজি নেভিগেশন লিমিটেডের ব্যবস’াপনা পরিচালক হিসেবে মাহজাবিন মোরশেদ এবং ক্রিস্টাল স্টিল অ্যান্ড শিপ ব্রেকিং লিমিটেডের ব্যবস’াপনা পরিচালক হিসেবে মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহীমকে মামলায় আসামি করা হয়। দু’জন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন।
২০১০ সালে আইজি নেভিগেশন লিমিটেডের নামে বেসিক ব্যাংক থেকে ১৪১ কোটি ১ লাখ ৪৬ হাজার ১০৫ টাকা ১১ পয়সা ঋণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে এজাহারে। এতে মাহজাবিন মোরশেদের সঙ্গে আসামি হয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ এবং বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস’াপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলাম।
অপর মামলায় ২০০৯ সালে ক্রিস্টাল স্টিল অ্যান্ড শিপ ব্রেকিংয়ের নামে বেসিক ব্যাংক থেকে ১৩৪ কোটি ৯৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৮৫ টাকা ১৭ পয়সা ঋণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এই মামলায় মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহীমের সঙ্গে আসামি হয়েছেন বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস’াপনা পরিচালক একেএম সাজেদুর রহমান।