ব্যর্থতা ঢাকতে সংলাপের কথা বলা হচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

সুপ্রভাত ডেস্ক

বাংলাদেশের ইতিহাসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ছিল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ব্যর্থতা ঢাকাতেই ঐক্যফ্রন্ট সংলাপের কথা বলছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। খবর বিডিনিউজ।
নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় বিএনপি নিজেদের মুখ রক্ষার জন্য নানা কথা বলছে দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এই নির্বাচনে সবচেয়ে কম সহিংসতা হয়েছে।
সব নির্বাচনে পুলিশের উপর হামলা হয়েছে, পুলিশ আহত হয়েছে, নিহত হয়েছে। এই নির্বাচনে একজন পুলিশ আহতও হয়নি। সবচাইতে কম সহিংসতা ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।’
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। আর মাত্র আটটি আসন পাওয়া ঐক্যফ্রন্ট শপথ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে অবিলম্বে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন দাবি আদায়ে জোটের পক্ষ থেকে জাতীয় সংলাপ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির হায়ারে খেলতে যাওয়া ড. কামাল হোসেন বলেছেন নতুন নির্বাচনের জন্য সংলাপ করবেন। আসলে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ব্যর্থতা ঢাকার জন্য সংলাপের ভাঁওতাবাজি কথা বলছেন নেতারা। নির্বাচনে তাদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এবং জনগণের চোখ অন্যদিকে ফেরানোর জন্য সংলাপের কথা বলছেন তারা।’
বিএনপি অকশনে মনোনয়ন বিক্রি করেছে দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অকশনে যারা নমিনেশন বিক্রি করেন, তারা কিভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করবেন? বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরা দেখিনি তিনশত আসনে আটশত নমিনেশন, যা বিএনপি এবার করেছে।
‘নির্বাচনের দশদিন আগে যারা হাত পা গুটিয়ে ঘরের মধ্যে বসে থাকে তারা কিভাবে নির্বাচনে জয় লাভ করবে। যারা জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্রোল ঢেলে হত্যা করেছে, পবিত্র কোরআন শরিফে আগুন দিয়েছে তাদেরকে মানুষ ভোট দিতে পারে?
বিএনপির নেতাদের মানসিক চিকিৎসা কারানোর আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ জানাব, আপনাদের কয়েকজন নেতার চিকিৎসা করানোর জন্য। তাদের মানসিক চিকিৎসার খুবই প্রয়োজন। আর কাদের চিকিৎসা প্রয়োজন আপনারা সবাই জানেন।
‘আজকে রিজভী সাহেব বলেছেন সরকারের ব্যর্থতার কথা, আমি তো বলছি বিএনপির ব্যর্থতা ঢাকতে ড. কামাল, রিজভী সাহেবসহ অনেকে নানা কথা বলছেন। আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাব এই ধরনের কথাবার্তা না বলে নিজেরা আপনাদের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষন করুন। আর নেতৃত্ব পরিবর্তন করুন, তাহলে হয়ত আবার জনগণের কাছে যেতে পারবেন।’
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সারাহ বেগম কবরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুর ইসলাম আমিন, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, অভিনয় শিল্পী হাসান ইমাম, এটিএম শামসুজ্জামান, রোকেয়া প্রাচী, তারিন, নুতন।