চট্টগ্রাম বন্দর

ব্যবহারকারীদের বিরোধিতার মুখে ভিজিটর এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের ‘ভিজিটর এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম’ বিপত্তিতে বন্দর ব্যবহারকারকারীরা। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সচল রাখার জন্য যেখানে প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টা বন্দর-কাস্টমস খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন, সেখানে বন্দর ভবনে প্রবেশ করতে ব্যবহারকারীদের অপেক্ষা করতে হবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আর কার কাছে কীজন্যে যাবে -সেই কৈফিয়ত লেখার পাশাপাশি অনুমোদনও লাগবে।
গত সোমবার থেকে এই পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে সোমবার শিপিং এজেন্ট প্রতিনিধিরা তাদের নির্ধারিত বার্থিং মিটিংও বয়কট করেন। পরে বন্দরের পক্ষ থেকে অনুরোধের পর আবার মিটিংয়ে অংশ নেন তারা।
এ বিষয়ে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বন্দর হলো একটি সেবা সংস্থা। সেখানে বন্দরের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রতি মুহূর্তে বন্দরে প্রবেশ করতে যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে সেবা কার্যক্রম কীভাবে হবে? আর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন কীভাবে হবে?’
জানা যায়, গত রোববার উদ্বোধন হওয়া ‘ভিজিটর এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম’ এর আওতায় বন্দরের চাকরিজীবীদের মধ্যে কার্ডবিহীন কাউকে বন্দর ভবনে প্রবেশ করতে প্রথমে বন্দর ভবনের নিচতলায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে যেতে হবে। সেখানে ক্রম অনুযায়ী নাম তালিকাভুক্তি করতে হবে। যেমন, খাতায় নিজের নাম, ঠিকানা, কার কাছে সাক্ষাৎ করবেন, কী বিষয়ে সাক্ষাৎ করবেন -তা বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে। এরপর দর্শনার্থী যার সাথে সাক্ষাৎ করবেন -তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুমতি আদায় করবেন বন্দরের কর্মীরা। এরপর অনুমতিপত্র পাঠাতে হবে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে। এই অনুমতিপত্র পেতে যতক্ষণ সময় লাগবে, দর্শণার্থীকে ততক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।
বন্দরের নতুন এই পদ্ধতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক (বন্দর-কাস্টমস) খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘একটি জাহাজ থেকে পণ্য লোডিং ও আনলোডিংয়ে অনেক সমস্যা হতে পারে। তা নিরসন করতে আমাকে দ্রুত বন্দর ভবনে প্রবেশ করা লাগতে পারে। এজন্য যদি আমার প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, তাহলে বন্দরে যেতে অনীহার জন্ম নেবে।’
প্রতিদিন বন্দর ভবনে যেতে হয় শিপিং এজেন্টস কর্মকর্তাদেরও। সেবা পেতে এভাবে প্রতিদিন নাম, পরিচয় লেখার পরও অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে সময়ক্ষেপণের কারণে তারাও ক্ষুব্ধ হন। শিপিং এজেন্টস কর্মকর্তাদের ক্ষোভের মুখে সাময়িকভাবে এই পদ্ধতি শিথিল করেছে কর্তৃপক্ষ।
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ড সংরক্ষিত এলাকা। সেখানে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত ব্যবহারকারীদের পরিচিতি কার্ড দেওয়া হয়। সেই কার্ড ব্যবহার করে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে পণ্য খালাসসহ যাবতীয় কার্যক্রম করেন ব্যবহারকারীরা। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী জেটি ও ইয়ার্ড এলাকায় নিরাপত্তা তদারকি রাখতে হয়। তবে বন্দর ভবন স্পর্শকাতর স্থান নয়। এখানে মূলত প্রশাসনিক ও পরিচালনা কার্যক্রম সম্পর্কিত নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্দর ভবনের পাশে অত্যাধুনিক রেস্তোরাঁও রয়েছে। আছে একটি ব্যাংকের কার্যালয়ও। ব্যবহারকারীদের সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যা হলে বন্দর ভবনে ছুটতে হয়। তবে নতুন নিয়মের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হবে ব্যবহারকারীদের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেন, ‘বন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদ্ধতি অবশ্যই চালু করা যেতে পারে। তবে যাদেরকে নিয়ে এই বন্দরের কার্যক্রম, তারা তো বন্দরের ভিজিটর (দর্শণার্থী) নয়, তারা আমাদের কার্যক্রমের অংশ। তাই তাদের প্রবেশ কীভাবে সহজবোধ্য করা যায়, আমরা সে ধরনের একটি পদ্ধতি বের করবো। সেখানে বন্দর ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি সংবাদ কর্মীদেরও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। এটি হবে শুধুমাত্র প্রতিদিন বা পেশাগত প্রয়োজনের বাইরে যারা আসবে, তাদের জন্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।’
কিন্তু এখন তো সবার ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে -এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে।’
উল্লেখ্য, গত রোববার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল এই এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করেন।