আধুনিক ডেইরি ব্যবস্থাপনা, পুষ্টিবিষয়ক সেমিনার

ব্যবস্থাপনা যত সমৃদ্ধ হবে উৎপাদনও তত বাড়বে

বিজ্ঞপ্তি

কানাডীয় সংস’া জেফোর পরিচালক ও গবাদিপশু বিষয়ক গ্লোবাল টেকনিক্যাল ম্যানেজার আবদাল্লা জাঙ্কার বলেছেন, খামার ব্যবস’াপনা যত উন্নত হবে, খামারের উৎপাদন ও লাভ তত বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গবাদি ও পোলট্রি খামারের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। খামারিদের মধ্যে জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা ভালো রয়েছে। আধুনিক ব্যবস’াপনাও রয়েছে। ব্যবস’াপনা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। উন্নত করা গেলেই উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। খামারি লাভবান হবে। বিশ্বের সঙ্গে মিলিয়ে আধুনিক ব্যবস’াপনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার হোটেল রেডিসন ব্লুর মেজবান হলে আয়োজিত ‘আধুনিক ডেইরি ব্যবস’াপনা, পুষ্টি এবং অন্যান্য’ বিষয়ক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন এবং কানাডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জেফো যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করেছে।
এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেফোর পরিচালক কবীর চৌধুরী। বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী এন্ড এনিমেল সায়েন্সের (সিভাসু) প্রক্টর প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ, সাভার ডেইরির ডিএলএসের বায়ার অফিসার শফিকুর রহমান, ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাঈম উদ্দিন, সিভাসুর নিউট্রিশন অব এনিমেল হেলথ বিভাগের প্রফেসর ইমরান হোসেন, সিভাসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আরেফিন এম দোভাষ প্রমুখ।
সেমিনারে প্রান্তিক খামারি, ডেইরি বিশেষজ্ঞ ও ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশন কর্মকর্তারা উপসি’ত ছিলেন।
আবদাল্লা জাঙ্কার কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকান ডেইরিবিষয়ক অভিজ্ঞতা বড় পর্দায় তুলে ধরে। এতে ডেইরি খামারে গবাদি পশু, বাছুর নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার চিত্র তুলে ধরেন। একই পদ্ধতি বাংলাদেশেও সীমিত আকারে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বিশ্বের উন্নত দেশের মতো আধুনিক ও উন্নত ব্যবস’াপনা বাংলাদেশের চালু করা হলে ডেইরি খামার অনেক দূর এগিয়ে যাবে। খামারিদের জীবনমানও পাল্টে যাবে।
তিনি ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ২২ বছর ধরে জেফোর মাধ্যমে ডেইরি বিষয়ে সহায়তা দিয়ে আসছেন। বিশ্বের ৬০টি দেশে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। তিনি বলেন, বড় খামারে মূলধন বেশি, ছোট খামারে কম। ব্যবস’াপনার উপর খামারের লাভ-লোকসান নির্ভর করে। ব্যবসা সফল না হলে লাভের বদলে লোকসান গুণতে হয়। ভালো খামারিদের চ্যালেজ্ঞা নিতে হয়। প্রচুর জ্ঞান, বড় চিন্তা করতে হয়। খাদ্য, ঔষুধ, পানীয়সহ অন্যান্য ব্যবস’াপনাও সুষম পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে হয়। না হলে উন্নতি করা যাবে না। যেমন, দুগ্ধজাত গাভী ও বাছুরের বয়স, উচ্চতা ও ওজন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যত্ন নিতে হবে। চিকিৎসা করা হবে। পর্যাপ্ত তাপমাত্রায় রাখতে হবে।
সভাপতি ডা. ম রমিজউদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে ১৯৮৪-৮৫ সালের দিকে চট্টগ্রামে পরিকল্পিত ডেইরি ফার্মের যাত্রা শুরু হয়। চট্টলদরদী ইউসুফ চৌধুরী চৌধুরীর এর সূচনা করেন। সঙ্গে ছিলেন শাহেদ কাদেরীও। দীর্ঘদিন ধরে ডেইরি খামারের উন্নয়নে কাজ করেছেন তাঁরা। ডেইরি ফার্মকে শিল্পে পরিণত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মানুষের চিকিৎসক। তারপরও মনে করি ডেইরি ফার্মের জন্য অনেক জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেমন গবাদি পশুর জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টির দরবার। এই বিষয়ে পড়াশোনা ও জ্ঞান না থাকলে সুষম পুষ্টির ব্যবহার করা যায় না। এজন্য অভিজ্ঞতা, জ্ঞান আর আধুনিক ধ্যান-ধারণা থাকতে হবে।
জেফোর পরিচালক কবীর চৌধুরী বলেন, জেফো বাংলাদেশে ডেইরি উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। কারণ বাংলাদেশে ডেইরির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। মূল সমস্যা হচ্ছে, এই বিষয়ে জানাশোনা আর জ্ঞানের অভাব রয়েছে। পৃথিবীর মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে ‘তথ্য’। যার কাছে যত বেশি তথ্য রয়েছে, তিনি তত বেশি মূল্যবান। জেফো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুষ্টি ও মেডিসিন বিষয়ে তথ্য বিনিময় করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আবদাল্লা জাঙ্কার কানাডার একটি গবির পরিবারে বেড়ে ওঠেন। ডেইরি নিয়ে খোঁজ-খবর নেন। খামারিদের মধ্যে সব ধরনের সামগ্রী একসঙ্গে সস্তা বা ন্যায্যমূলে কিভাবে বিতরণ করা যায়, সেই পদ্ধতি বের করলেন। সেই থেকে শুরু করলেন। ৩৬ বছর আগে জাঙ্কার নিজ দেশ কানাডায় তা শুরু করেছিলেন। এখন বিশ্বের ৫টি মহাদেশের ৬০টি দেশে কাজ করছে জেফো। জেফোর পরামর্শ নিয়ে চায়না, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও আমেরিকায় ডেইরিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিজ্ঞপ্তি