বোমা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকায় সংগঠিত হওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। চট্টগ্রামেও তারা সংগঠিত হওয়ার এ জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন উপায়ে। কিন’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেষ্ট থাকায় সংগঠনগুলো তেমন একটা সুবিধা করতে পারছে না।
নগরীর কোতোয়ালী এলাকা থেকে গত জানুয়ারিতে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট দুজনকে গ্রেফতারের পর জঙ্গি সংগঠনগুলোর সংগঠিত হওয়ার এমন আভাস পাওয়া যায়। এছাড়া গোপনে সংগঠিত হওয়ার এমন কথা গ্রেফতারকৃতরা সে সময় পুলিশের কাছে স্বীকারও করে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ভবনের সামনে ঘটে একটি নাটকীয় ঘটনা। ভবনের সামনে বোমাসদৃশ একটি বস’ পড়ে থাকতে দেখে সংশ্লিষ্টরা হাটহাজারী থানা পুলিশকে খবর দেয়। হাটহাজারী থানা পুলিশ বিষয়টি নগর পুলিশের বোম নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে জানায়। বোম নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস’লে গিয়ে বোমাসদৃশ বস’টি ধ্বংস করে এবং দেখা যায় বোমাসদৃশ বস’টি ছিল একটি কালো টেপ মোড়ানো বেগুন। এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি সীতাকুণ্ড উপজেলার কলেজ রোড়ের ভোলাগিরি এলাকায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। কিন’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া বস’র মতো এটি কোনো বেগুন ছিল না। এটি হাতে তৈরি বোমাই ছিল। খবর পেয়ে দ্রুত নগর পুলিশের বিশেষ ইউনিট বোমাটি ধ্বংস করে।
নগর পুলিশ ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশে যেসব জঙ্গি সংগঠনগুলো সক্রিয় ছিল তারা এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। মাঝে মাঝে তারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে কিন’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ থাকায় তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অনেক তথ্য-উপাত্তও পাওয়া গেছে এবং সেমতে কাজও করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আরও জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং সীতাকুণ্ডের ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে তা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। যে বা যারাই ঘটাক না কেন ওইসব এলাকায় আতঙ্ক এবং ভীতি সৃষ্টি করতেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
বোম নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের ইনচার্জ পরিদর্শক রাজেশ বড়-য়া বলেন, ভীতি ছড়াতে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই চট্টগ্রাম বিশ্বদ্যিালয় ও সীতাকুণ্ডে এমনটা করা হয়েছে। কে বা কারা এমনটা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।
রাজেশ বড়-য়া জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া বোমাসদৃশ বেগুনটি কালো টেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল।
অভিযানে গিয়ে প্রথমে বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে বোমাসদৃশ বস’টি উড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ওটার কাছাকাছি গিয়ে দেখা যায় এটি কোনো বোমা নয়, এটি একটি বেগুন। বেগুনটির ভেতরে ক্ষতিকারক কোনো উপাদান ছিল না বলেও জানান রাজেশ বড়-য়া।
বিশিষ্টজনেরা বলছেন, বাংলাদেশের দক্ষিণে অবসি’ত চট্টগ্রাম রাজনৈতিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ এলাকায় কিছু একটা ঘটনাতে পারলেই সফলতা পাবে জঙ্গি সংগঠনগুলো। তাই আইন শৃ্খলা বাহিনীকে সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে। কে বা কারা এসব আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে। তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদেরকে বুঝাতে হবে বাংলাদেশর মাটিতে জঙ্গিবাদের এবং জঙ্গিদের ঠাঁই নাই।
সুশাসনের জন্য নাগরিক চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান আকতার কবির সুপ্রভাতকে বলেন, জঙ্গিরা যাতে এখানে ঘাঁটি করতে না পারে সেজন্য সরকারকে কাজ করে যেতে হবে এবং খুঁজে খুঁজে জঙ্গিদের গ্রেফতার করতে হবে।
বাংলাদেশে যেসব জঙ্গি সংগঠন রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৯৫৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিষ্ঠিত নিষিদ্ধ ঘোষিত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীর। বাংলাদেশে ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে তারা। সেসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এই সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী ও উচ্চবিত্ত তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল সংগঠনটি। এর মধ্যে হিযবুত তাহরীরকে ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।