বৈশাখের সাজ

ইরা ডি. কস্তা
17505049_10154527942789001_8063413561975507855_o

লাল পাড়ের সাদা-শাড়ি, কপালে লালটিপ, খোঁপায় গোঁজা বেলিফুলের মালা, হাত ভর্তি কাচের চুড়ি আর পা রাঙানো আলতায়। এগুলো বাদ দিয়ে কি আর বর্ষবরণের সাজ পূর্ণতা পায়! চোখের সামনে কি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্পের কোনো নায়িকার ছবি ভেসে উঠল! এ সাধারণ অনুষঙ্গগুলোই নারীর সাজে বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে পারে।
পহেলা বৈশাখ, বাঙালির আনন্দ উৎসব। কোনো ধর্ম বা বর্ণ নয় বরং পুরো বাঙালি জাতির উৎসব এটি। আর এ দিনকে উদযাপন করতে ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে আয়োজনের অন্ত নেই। নানা অনুষ্ঠান আর মেলার মধ্য দিয়ে চলে বর্ষবরণ। আর তাই বাঙালির এই উৎসবে নারীর সাজেও চাই ষোলআনা বাঙালিয়ানা।
বাঙালি সাজের অন্যতম অনুষঙ্গ টিপ। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ, যেকোনটির সঙ্গে কপালে এটি টিপ পুরো চেহারারই ধরনই পাল্টে দিতে পারে। কালো, লাল বা পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে টিপ পরা যেতে পারে। টিপ পরার ক্ষেত্রে কপালের আকার এবং মুখের গড়ন বুঝে তারপর টিপ বেছে নিতে হয়। এ বিষয়ে অ্যারোমা থেরাপিস্ট শিবানী দে পরামর্শ দেন যে, কপাল বড় হলে বড় গোল টিপ অথবা লম্বাটে টিপ পরলে ভালো মানায়। আর ছোট কপালের ক্ষেত্রে মাঝারি এবং ছোট টিপই ভালো লাগে। পাশাপাশি মুখের গঠনের সঙ্গে মানিয়েও টিপ পরতে হবে। বাঙালি সাজে গোল ও লম্বাটে টিপই বেশি ভালো লাগে। তবে চাইলে নকশা করা টিপ বা স্টোনের টিপও বেছে নেওয়া যেতে পারে। টিপ খুবই সহজলভ্য একটি অনুষঙ্গ। ফুটপাথ থেকে শুরু করে যে কোনো প্রসাধনীর দোকানে পাওয়া যায় নানা ধরনের টিপ। সাধারণত এক পাতা টিপের দাম ১০ টাকা। পাথর বসানো টিপের দাম মান ভেদে ৪০ থেকে ১২০ টাকা। রাস্তার পাশে ফুটপাথেও ২০ থেকে ৫০ টাকায় পাথরের টিপ পাওয়া যায়। কুমকুম দিয়েও চাইলে নিজের মনমতো নকশা করে টিপ এঁকে নেওয়া যেতে পারবে। শপিং সেন্টারগুলোতে কুমুকুম পাওয়া যাবে দাম ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। হালকা পুঁতি বসানো নকশা করা টিপের দাম ২০ থেকে ৮০ টাকা।
টিপের পরই যে অনুষঙ্গটির নাম মাথায় আসে সেটি হল কাচের চুড়ি। শাড়ির সঙ্গে হাতে রিনিঝিনি কাচের চুড়ি না থাকলে তো সাজে পূর্ণতাই আসে না। বৈশাখে লাল সাদা মিলিয়ে চুড়িই বেশি পরা হয়, তবে রংবেরঙের চুড়িও দেখতে বেশ লাগে।
শাড়ির সঙ্গে হাত ভর্তি চুড়ি দেখতে ভালো লাগে। আর কামিজের সঙ্গে রং মিশিয়ে এক মুঠো চুড়িই যথেষ্ট। বেশ কম দামে কাচের চুড়ি পাওয়া যায়। দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা ডজন। জরি/ চুমকি বসানো কাচের চুড়ি ৪০ টাকা ডজন। স্টিলের চুড়ির সেট ৬০ টাকা থেকে শুরু। অক্সিডাইজ ও ব্রোঞ্জের চুড়ির দাম শুরু জোড়া ৮০ থেকে। মাটির চুড়ি জোড়া ৩০ টাকা। কাঠের চুড়ি জোড়া পূরুত্ব ভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকা। পাথর বসানো একটু জমকালো চুড়ির দাম শুরু জোড়া ১২০ থেকে। সেট হিসেবে কিনতে চাইলে খরচ করতে হবে ২শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকার মতো। এবার আসা যাক খোঁপার ফুলের কথায়। সাজে আলাদা স্নিগ্ধভাব যুক্ত করে খোঁপায় একগুচ্ছ সাদা ফুল। তীব্র গরমে বৈশাখী সাজ হওয়া চাই আরামদায়ক আর স্নিগ্ধ। আর তাই খোঁপা বা বেণিতে গুঁজে নিতে পারেন একগুচ্ছো সাদা বেলী বা গাজরা। চাইলে খোঁপার এক পাশে গোলাপ, জারভেরা বা গ্লাডিওলাস ফুলও গুঁজে নিতে পারেন। তবে সাজে বাঙালিয়ানা এনে দিবে সাদা বেলিফুলের মালা। ফুলের দোকানগুলোতে পেয়ে যাবেন ফুলের মালা ও ফুল। কাঁচাফুলের মালার দাম ফুল ভেদে হবে ভিন্ন। গাঁজরা ২০ থেকে ২৫ টাকা। কাঠ বেলির মালা ১৫ টাকা, রজনীগন্ধা ফুলের মালা ২৫ থেকে ৪০ টাকা। গ্রামের মেয়ের আলতা রাঙা পা, বাঙালি সাজে এই লাল টুকটুকে রংয়ের ব্যবহার বুঝিয়ে দিতে যথেষ্ট।
শিবানি বলেন, “পায়ের আঙুলে আর চারপাশে আলতা মেখে পা রাঙিয়ে নিতে পারেন। হাতেও অনেকে আলতা মাখেন। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, আলতা আলগা রং তাই হাত ঘেমে বা পানি লেগে গেলে রং উঠে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং শাড়িতে লেগে যেতে পারে।” তাই হাতে আলতার বদলে মেহেদী লাগিয়ে নেওয়া যায়। সুন্দর নকশা করে বৈশাখের এক থেকে দু’দিন আগে মেহেদি লাগিয়ে নিলে রং ভালো ফুটে উঠবে। প্রসাধনীর দোকানগুলোতে আলতা পাওয়া যাবে ৫০ থেকে ২৫০ টাকায়। তবে কেনার আগে দরদাম করে নেওয়া ভালো। মেহেদি-টিউবের মান ভেদে দাম পরবে ৩৫ থেকে ১৪০ টাকার মতো।