বৈরী আবহাওয়া কক্সবাজারে ৪ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

কক্সবাজারের মহেশখালী, উখিয়া ও রামু উপজেলায় পৃথক ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
স’ানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়ায় পাহাড় ধসে বাদশা মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাদশা মিয়া ওই এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, বাড়ির নিকটবর্তী নিজের সবজির ক্ষেত দেখতে গেলে পাশের ভাঙা পাহাড়ের একটি অংশ ধসে বাদশার মিয়ার মাথার উপর পড়ে। এতে তিনি চাপা পড়ে ঘটনাস’লেই প্রাণ হারান। নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিবারকে ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অপরদিকে, উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তেলিপাড়া এলাকায় গাছচাপা পড়ে মোহাম্মদ আলী (২০) নামে এক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। সে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জামতলী এলাকার হোসেন আহমদের ছেলে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার সকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানান, গত কয়েকদিন ধরে উখিয়ায় ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে ঝড়ো হাওয়ার সময় গাছচাপা পড়ে মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু হয়। নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ক্যাম্পের স’ানীয় এক হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, উখিয়ার ইনানী সৈকত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ২ টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়ন সংলগ্ন সৈকত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, রোববার ভোরে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৬টি ট্রলার ডুবে যায়। ওই ঘটনায় সর্বশেষ ১৮ জন নিখোঁজ ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে উদ্ধার করা মরদেহটি নিখোঁজ জেলেদের কেউ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। তার পরিচয় নিশ্চিতের জন্য বেতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স’ানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে, রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমবোমাংখিল গ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। মঙ্গ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির নাম মোহাম্মদ জুনায়েদ। সে ওই গ্রামের নুরুল হুদা এর ছেলে।
স’ানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল আলম মুঠোফোনে বলেন, বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় নিচু এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছিলেন নুরুল হুদার পরিবার। এরই মধ্যে তার শিশু সন্তান জুনায়েদ পানিতে ডুবে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে গর্জনিয়া বাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।