যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন

বৈদেশিক নীতিতে প্রভাব পড়বে

সম্পাদকীয়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নির্বাচনে নিম্নকক্ষ অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ২২২টি আসন। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১৯৯টি। ডেমোক্র্যাটদের আসন আরো বাড়তে পারে। অন্যদিকে উচ্চকক্ষ অর্থাৎ সিনেটে জয়ী হয়েছেন রিপাবলিকানরা। ১০০টি আসনে তারা পেয়েছেন ৫১টি, ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ৪৫টি। রিপাবলিকানদের আসন বেড়ে ৫৫ তে যাবে এমনিই বলছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসে ২জন মুসলিম নারী ও একজন নেটিভ আমেরিকান বিজয়ী হয়েছেন। নিকট অতীতে ডোনাল্ড ট্র্যাম্পের উগ্র প্রচারণা সত্ত্বেও এরা জয় পেয়েছেন।
এই নির্বাচনে শহর অঞ্চলগুলিতে নারী, অভিবাসী ও সচেতন অংশের ভোট পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। অন্যদিকে কৃষি প্রধান, গ্রামীণ অঞ্চল, রক্ষণশীল অংশের ভোট পেয়েছেন প্রধানত রিপাবলিকান প্রার্থীরা। এর আগে কংগ্রেসের উভয় সভাতে রিপাবলিকানদের প্রাধান্য ছিল। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিভক্ত রায় মার্কিন প্রশাসনিক ক্ষমতায় ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ রাখবে।
এই নির্বাচনের ফলাফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ করে ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতিতে প্রভাব প্রতিক্রিয়া পড়বে বলছেন গবেষকরা বিশেষত রাশিয়া ও চীনের সাথে সাম্প্রতিক মার্কিন নীতিতে বেশ চাপ পড়তে পারে বলেছেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে- এই অভিযোগ বরাবরই করে আসছে ডেমোক্র্যাটরা। এখন তারা রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক নিয়ে আরো সমালোচনামুখর হবেন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কৈফিয়ৎ কিংবা ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রশ্নে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা আরো উচ্চকণ্ঠ হবেন। ইরান ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করবেন তারা। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবরোধ ঘোষণায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে ডেমোক্র্যাটরা সরব হবে। চীন এবং উত্তর কোরিয়া নীতি তারা পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কংগ্রেসের এই নির্বাচনের ফলাফল অনুভব করা যাবে, এই নির্বাচন ডেমোক্র্যাটদের আগামী নির্বাচনের জন্য চাঙ্গা করবে কেননা দীর্ঘদিন পর তারা নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলো।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের হাতে থাকায় ওয়াশিংটনে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়তে পারে তবে ট্রাম্প অতীতে যেভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সামনের দিনগুলিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে ভাবতে হবে। সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের জন্য স্বস্তি আনবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ৪ বছর পর পর হয়ে থাকে আর প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রেসিডেন্টের কার্যকলাপ বিবেচনা করার সুযোগ পায় মার্কিন নাগরিকরা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও বৈদেশিক নীতির প্রশ্নে তার প্রতিফলন কিছুটা হলেও পাওয়া গেল প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতায়।