বৈঠকের ‘সফলতায়’ চীনের সন্তোষ

উত্তর কোরিয়ার নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আহ্বান

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক
kim-trump-01

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে চীন। কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা নিরসনে ‘পূর্ণাঙ্গভাবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের’ আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বেইজিং-এর পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার ট্রাম্প-কিম বৈঠকের পর চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো খবরটি জানিয়েছে। খবর বাংলাট্রিবিউনের।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সান্তোসা দ্বীপে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, দুপুরের পর একটি নথি সই হতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের সামনে নথি নিয়ে আসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বলেন, সংবাদ সম্মেলনে চুক্তির বিষয়বস’ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন তিনি। তবে সাংবাদিকরা স্বাক্ষরিত যৌথ ঘোষণার ছবি তুলে নেন। ছবিতে দেখা যায়, দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়ন, কোরীয় উপদ্বীপের নিরন্ত্রীকরণ ও স’ায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ যুদ্ধবন্ধীদের উদ্ধার ও প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। মঙ্গলবারের এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সাংবাদকদের বলেন, সত্যিকার অর্থেই দুই নেতা একসঙ্গে বসতে পেরেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক আলোচনা করেছেন এবং তারা নতুন এক ইতিহাস গড়ছেন।’
উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থক হলো চীন। তবে সামরিক শক্তি প্রদর্শন নিয়ে পিয়ংইয়ং-এর ওপর দেশটির ক্ষোভ রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা জোরালো করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় চীন। তবে বেইজিং বরাবরই বলে আসছে, নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আলোচনাও অব্যাহত রাখতে হবে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কোরিয়া উপদ্বীপের পারমাণবিক ইস্যুটির মূল বিষয় হলো নিরাপত্তা। এ নিরাপত্তা ইস্যুর সবচেয়ে জরুরি ও কঠিন অংশটি ছিল সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়াকে মুখোমুখি আলোচনায় বসানো। ওয়াং ই বলেন, ‘এক দিক থেকে পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান মানেই হলো পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। একইসময়ে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তাজনিত যৌক্তিক উদ্বেগ নিরসনে কোরীয় উপদ্বীপের জন্য একটি শান্তি প্রক্রিয়াও প্রয়োজন।’
এদিকে বেইজিংয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ব্যাপারে জোর দেন চীনা পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জেং শুয়াং। তিনি বলেন উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে জাতিসংঘের দেওয়া সব প্রস্তাবই কঠোরভাবে মেনেছে চীন।
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, যদি উত্তর কোরিয়া জাতিসংঘ প্রস্তাবের সঙ্গে সম্মতি রেখে কর্মকাণ্ড চালায়, তবে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপও পরিবর্তন করা যেতে পারে। হতে পারে, নিষেধাজ্ঞা স’গিত করা কিংবা প্রত্যাহার করা। নিষেধাজ্ঞা আরোপকে লক্ষ্য বলে মনে করে না চীন। কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা এবং কোরীয় উপদ্বীপের জন্য রাজনৈতিক সমাধান বের করার প্রচেষ্টাকে নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন।’