বে টার্মিনাল ২০২০ সালে অপারেশনে যাওয়ার ঘোষণা নৌ মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবার ২০২০ সালে বে টার্মিনাল অপারেশনে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন নৌ মন্ত্রী শাজাহান খান। গত আগস্টে ৬৯ একর ভূমি বরাদ্দের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধানেত্মর পরও দাপ্তরিক মারপ্যাঁচে এখনো ভূমির বরাদ্দ পায়নি বন্দর কর্তৃপড়্গ। এখন সেই ভূমিতে বে টার্মিনালের অপারেশন কার্যক্রম শুরম্নর ঘোষণা দিলেন ২০২০ সালের মধ্যে। গতকাল বৃহস্পতিবার বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল জেটিতে ১০টি যন্ত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
তিনি বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ও বে টার্মিনাল ২০২০ সালের মধ্যে অপারেশনে যাবে। গ্রিন পোর্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরকে গড়ে তোলা হবে এবং আগামীতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস’ান বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বন্দরের মধ্যে ১০ নম্বরে নিয়ে আসা হবে।
এদিকে পতেঙ্গা ইপিজেডের পেছন থেকে দড়্গিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট পর্যনত্ম সাগরপাড়ে প্রায় ২৩০০ একর জায়গায় গড়ে তোলা হবে বে টার্মিনাল। এরমধ্যে ৬৯ একর জায়গা জেলা প্রশাসন অধিগ্রহণের মাধ্যমে দিচ্ছে। অপরদিকে আরো ৮২৮ একর জায়গা বন্দোবসেত্মর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপড়্গকে দেয়ার কথা রয়েছে। ৬৯ একর জায়গা ব্যক্তি মালিকানাধীন থাকায় তা অধিগ্রহণের মাধ্যমে মৌজা মূল্যের তিনগুণ
দাম পরিশোধ করতে হবে বন্দর কর্তৃপড়্গকে। গত বছরের আগস্টে এই জায়গা বরাদ্দ দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি সিদ্ধানত্ম নিলেও তা বাসত্মবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে।
এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপড়্গের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ গত ফেব্রম্নয়ারিতে মিডিয়াকে বলেছিলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে বে টার্মিনাল ব্যবহার উপযোগী করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি থেকে পণ্য ডেলিভারি না দিয়ে বে টার্মিনালে স’াপনা তৈরি করে সেখান থেকে ডেলিভারি দেয়া হবে। এতে শহরের ভেতরে প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার ট্রাককে প্রবেশ করতে হবে না। নগরীতে যানজটের প্রভাব কমে আসবে।
এছাড়া বন্দরের পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বিভিন্ন সময়ে বলেছিলেন, ২০২২ সালে বে টার্মিনালের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হতে পারে।
আর এবার নৌ মন্ত্রী ঘোষণা দিলেন ২০২০ সালে অপারেশনে যাবে বে টার্মিনাল।
উলেস্নখ্য, ইপিজেড থেকে দড়্গিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট পর্যনত্ম সাগরের ভেতরের প্রায় ২৩০০ একর জায়গায় বে টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেয় বন্দর কর্তৃপড়্গ। জোয়ার-ভাটা, দিন-রাত, বাঁকা চ্যানেল কিংবা ড্রাফটের বিবেচনা কর্ণফুলী নদীর জেটিতে ভিড়লেও বে-টার্মিনালের ড়্গেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা নেই। বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর জেটিতে পৌঁছাতে একটি জাহাজকে ১৫ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। কিন’ বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে তা শূন্য কিলোমিটারের মধ্যেই বার্থিং করতে পারবে। বে টার্মিনাল নির্মাণ হলে যেকোনো দৈর্ঘ্য ও প্রায় ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এখানে ভিড়তে পারবে। বিপরীতে বর্তমান চ্যানেলে মাত্র ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ কর্ণফুলীতে প্রবেশ করতে পারে। সেইড়্গেত্রেও জাহাজকে দুটি বাঁক অতিক্রম করতে হয় এবং দিনের মাত্র চার ঘণ্টা সময় পাওয়া যায়। কিন’ বে টার্মিনালে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ পরিচালনা করা যাবে। বিদ্যমান পোর্ট জেটিতে একসাথে ১৬টি জাহাজ বার্থিং করা গেলেও বে টার্মিনালে গড়ে প্রায় ৫০টি জাহাজ একইসাথে বার্থিং করা যাবে। বন্দরের জেটির দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটার হলেও বে টার্মিনালের দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার। ল্যান্ড লর্ড পদ্ধতিতে চালু হতে যাওয়া বে টার্মিনাল চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্র বন্দরের অভাব পূরণ করবে বলে বন্দর সংশিস্নষ্টদের ধারণা।