বে টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবশেষে শুরু হলো বে টার্মিনালের নির্মাণ কাজ। আর এই টার্মিনাল নির্মাণে সবার আগে হবে ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ। এজন্য গতকাল থেকে হালিশহর আনন্দবাজার এলাকার বিপরীত পাশের এলাকায় মাটি ভরাট ও সমানের কাজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি টিম পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস’লে উপসি’ত হয়ে কাজ শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে এপ্রকল্পের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে এতোদিন এর কার্যক্রম শুরু হয়নি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসন থেকে ভূমি বুঝে নেওয়ার পর হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় অনেকগুলো ধাপ সম্পন্ন করতে হয়েছে। সেসব ধাপ অতিক্রম করে গতকাল থেকে আমরা কাজ শুরু করলাম।’
তিনি বলেন, সবার আগে ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মিত হবে। এজন্য মাটি কাটা ও ভরাটের কাজ শুরু করা হয়েছে।
ইপিজেডের পেছন থেকে দক্ষিণ কাট্টলী রাশমনিঘাট পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র উপকূলের কোন এলাকায় ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মিত হবে জানতে চাইলে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘হালিশহর আনন্দবাজার এলাকার বিপরীত পাশের জায়গায় ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মিত হবে।’
জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর বন্দরের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বে টার্মিনাল এলাকায় সীমানা খুঁটি বসানো হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ বিভিন্ন সময়ে

সুপ্রভাতকে বলেছিলেন, সবার আগে কনটেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। আর তা করা গেলে চট্টগ্রাম বন্দরের কাজের গতি অনেকাংশে বেড়ে যাবে। একইসাথে শহরের ভেতরের যানজটও কমে যাবে।
তিনি আরো বলেছিলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে পণ্য ডেলিভারি নিতে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার ট্রাক নগরীতে প্রবেশ করে। এতে শহরের ভেতরে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। বে টার্মিনালে সার্ভিস ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মিত হলে ট্রাকগুলোকে আর শহরের ভেতরে প্রবেশ করতে হবে না। বে টার্মিনাল থেকে পণ্য নিয়ে পোর্ট এক্সেস রোড দিয়ে চলে যেতে পারবে।
উল্লেখ্য, হালিশহর সাগর পাড়ে বে টার্মিনাল প্রকল্পের অধীনে এখন ৬৭ একর জায়গা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই ৬৭ একরে এখন বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিন’ প্রকল্পের বাকি আরো ৮২০ একর জায়গার বরাদ্দ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তীর থেকে সাগরের দিকে জেটি নির্মাণের সময়ও পাওয়া যাবে আরো ভূমি। সব মিলিয়ে ২৩০০ একর জায়গা নিয়ে বে টার্মিনালের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই টার্মিনালে জোয়ার-ভাটা, দিন-রাত, বাঁকা চ্যানেল কিংবা ড্রাফটের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এখানে যেকোনো দৈর্ঘ্য ও প্রায় ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এখানে ভিড়তে পারবে। বর্তমান চ্যানেলে মাত্র ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ কর্ণফুলীতে প্রবেশ করতে পারে। বিদ্যমান পোর্ট জেটিতে একসাথে ১৬টি জাহাজ বার্থিং করা গেলেও বে-টার্মিনালে গড়ে প্রায় ৫০টি জাহাজ একইসাথে বার্থিং করা যাবে। ইতিমধ্যে বে টার্মিনালের নির্মাণের সম্ভাব্যতা জরিপের কার্যক্রম শেষ করে জার্মানির হামবুর্গ পোর্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান বন্দরের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের মাধ্যমে বে টার্মিনাল গড়ে তোলবে। বে টার্মিনালে তিনটি টার্মিনাল থাকবে। একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল ও দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মিত হবে।