বিবিরহাট বাজার

বেপারিদের হাঁকডাক ক্রেতাদের রাখঢাক

আজিজুল কদির

নগরীর বিবিরহাটে স্কুল পড়-য়া ছেলেকে সাথে নিয়ে গরু কিনতে এসেছেন রাউজানের মফিজুর রহমান। তার অভিযোগ, বাজারে গরুর সরবরাহ কম থাকায় বিক্রেতারা দাম হাঁকছেন অস্বাভাবিকভাবে। ফলে দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি অনেক ঘোরাঘুরির পর একটা গরু সাধ্যের মধ্যে মিলল না। আজকের মতো তাই ফিরে যাচ্ছি।

নগরীর অন্যতম গরুর স’ায়ী বাজার বিবিরহাট। তবে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানি আসলে এখানে গরুর সরবরাহ থাকে ব্যাপক। কেননা এখানে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে বেশিরভাগ বেপারি ও খামারিরা গরু নিয়ে আসেন। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরের আশেপাশের এলাকা থেকেও গরু আনেন খামারিরা।
গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টায় বিবিরহাট বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ‘ঐতিহ্যবাহী এই বাজারে গরু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। ছোট-বড় নানা আকারের প্রায় কয়েক হাজার দেশি গরু আছে। সে তুলনায় ক্রেতা কম।
মাগুরা থেকে ২১টি গরু নিয়ে আসা খামারি নুরুল বেপারির দাবি তার তিনটি গরু এ বাজারের সবচেয়ে বড় গরু। দাম চাইছেন তিন লাখ টাকা। তবে সেই দামের ক্রেতা জুটছে না। এমন দাম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রতিটি গরুর খাওয়ার খরচ দৈনিক সাড়ে তিনশ টাকা। দুই লাখ টাকা পর্যন্ত দর করেছে। তবে এত কমে বিক্রি করলে পোষাবে না। ”

হাটহাজারীর বুড়িশ্চর থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী মো. আজম। তিনি ১৩টি ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু এনেছেন। গত ১ বছর থেকে এগুলো লালন পালন করে আসছি। যার প্রতিটির দাম রেখেছি ২ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন’ ক্রেতাদের অনেকেই গরু দেখলেও এখনই কিনছেন না। এখনো বিক্রি হওয়া গরুর সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা বলে জানান তিনি। দাম চাইছি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। এখনও একটা গরুও বিক্রি হয়নি। কেউ কেউ দরদাম করছেন। শহরের মানুষ এত আগে গরু কেনে না।

অন্যদিকে মাগুরা থেকে ১৬টি গরু নিয়ে আসা বাটুল মোল্লা জানান, “গত ৬/৭ মাস ধরে এগুলোর যত্ন করে আসছি। বড় আকারের এসব গরুর প্রতিটি কেনা ও ট্রাক ভাড়া বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ পড়েছে। মাত্র একটা গরু বিক্রি হয়েছে। দিনে গরুর খাবার, কর্মচারীর খরচ মিলে প্রায় চার হাজার টাকা খরচ আছে। তবে মাত্র তো বাজার শুরু হলো। দেখি কি হয়!”

গরু ছাড়াও এই হাটে উঠেছে বেশ অনেক ছাগল। ছাগল বিক্রেতা আলাউদ্দিন, মুন্না, ফয়সালরা জানালেন, ক্রেতাদের চাহিদা বেশি বলে দেশি জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের সরবরাহ বেশি এখানে। তাই আমরা উক্ত জাতের ছাগল বেশি রেখেছি।
তবে ক্রেতাদের মধ্যে একই অভিযোগ ছাগলের দাম নিয়েও। বিক্রেতারা দাম হাঁকছেন বেশি। দেশি জাতের একটি বড় কালো ছাগলের দাম হাঁকা হচ্ছে ৩৫ হাজার টাকা। ক্রেতারা বলছেন, ছাগলটির দাম সর্বোচ্চ হবে ১৫ হাজার টাকা। প্রায় ১২ কেজি ওজনের একটি ছাগল গতকাল শুক্রবার বিক্রি হতে দেখা গেল সাড়ে ৮ হাজার টাকায়।

এদিকে বিবিরহাট গরুর বাজার ইজারদার মো. শাহাজাহান জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু আসছে। এছাড়া দুয়েকদিনের মধ্যেই হাটে পর্যাপ্ত গরু পাওয়া যাবে। কেননা আশপাশের এলাকা যেমন সাতকানিয়া, পটিয়া, আনোয়ারা, উখিয়া, চকরিয়া থেকে এখনো গরু এসে পৌঁেছনি। এসব জায়গা থেকে গরু এসে পৌঁছলে সাশ্রয়ী দামেই দেশি জাতের গরু আরো পাওয়া যাবে এখানে। আজ রাতে ও আগামীকাল (শনিবার) সকাল থেকে গরু আসতে শুরু করবে। তখন বিক্রিও বাড়বে।উক্ত বাজারে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস’া হিসেবে বাজারের মুখেই রয়েছে পুলিশ ক্যাম্প। এছাড়া বাজারের বাইরে ও ভিতর পুলিশ টহলও দেখা গেল। এছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর উদ্যোগে রয়েছে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম। যারা সার্বক্ষণিক পশুদের স্বাস’্য মনিটরিং করছেন।