বৃষ্টি-বন্যার কারণে অনেকেই শহরে ঈদ করছেন

বৃষ্টি মাথায় বাড়ি ফেরার তাড়া

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

খুব সম্ভব একটা কিংবা দুটো রাত। এর পরই বহুল প্রতীক্ষিত মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের ঈদ। মাহেন্দ্রক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে শহর ছেড়ে নাড়ির টানে ছুটে চলা ঘরমুখো মানুষের ভিড়। বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে সব বয়সের মানুষ ভিড় করছে বাস কাউন্টারে। তবে এ বছর দক্ষিণ চট্টগ্রামের টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার, রামু, চকরিয়া, বাঁশখালী প্রভৃতি জায়গায় প্রচুর বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যার কারণে রাস্তা-ঘাটের ভোগান্তি এড়াতে কেউ কেউ গ্রামের বাড়ি না গিয়ে শহরেই ঈদ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
নগরীর একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক শেফায়াতুল কবিরের গ্রামের বাড়ি চকরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি থাকেন চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসায়। প্রতিবছর ঈদ করার জন্য তিন-চারদিন আগে থেকে গ্রামের বাড়ি চলে গেলেও এ বছর শহরেই ঈদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কারণ হিসেবে তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি চকরিয়ার বহদ্দারকাটার অজপাড়া গাঁয়ে। খবর নিয়ে জানলাম গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সেখানকার রাস্তাঘাট সব ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। তাছাড়া মাতামুহুরী নদী হয়ে পুরো এলাকা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সয়লাব। ঁ ২য় পৃষ্ঠার ৩য় কলাম
দুই মেয়ে ও অসুস’ স্ত্রীকে নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ার ভয়ে এ বছর তাই এখানেই ঈদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া।
টেকনাফের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. আমিন নামের একজন বলেন, ঝড়-বৃষ্টি-বন্যা যাইহোক প্রতিবছর দুই ঈদে আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাবোই যাবো। গ্রামের পরিবেশ-প্রতিবেশের সাথে বাচ্চাদের পরিচয় করানোর জন্য এরকম অবসর খুব একটা পাওয়া যায় না। গ্রামের বাড়ি গিয়ে ঈদ করার জন্য তাদেরও আর তর সইছে না। এ বছর শুনেছি গ্রামের রাস্তাঘাট সব পানিতে ভেসে গেছে। তবু যেতে হবেই। বাচ্চাদের নিয়ে গিয়ে বিলের পানিতে নামিয়ে দেব!
গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, নতুন চান্দগাঁও থানা মোড় এবং কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ সংলগ্ন মোড়ের বাস কাউন্টারে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাতে নানা রকম বাক্সপেটরা, শপিংব্যাগ নিয়ে তারা ছুটে আসছে হানিফ, সৌদিয়া, ইউনিক, এস আলম, জে বি এক্সপ্রেস, সোহাগ ইত্যাদি বাস কাউন্টারে।
কোন কোন যাত্রীর অভিযোগ, ঈদ সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ার সাথে সাথে চালক-সহযোগী-টিকেট ব্যবস’াপক যোগসাজশে অনেকেই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। নামে-বেনামে লোকাল বাসগুলো তো বটেই কিছু নামকরা বাস সার্ভিসও কৌশলে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। তবে অনেকের মতে, ঈদের সময় সবাই বাড়তি টু-পায়েস কামাই করতে চায়। এটা তেমন দোষের কিছু না। আর এসব ছোটখাট বিষয় নিয়ে যুদ্ধ করে ঈদের আনন্দটাকে মাটি করার কোন মানে হয় না।
নতুন চান্দগাঁও থানা মোড় সোহাগ পরিবহন কাউন্টারের তত্ত্বাবধায়ক হাজী বদিউল আলম সুপ্রভাতকে জানান, যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। বৃষ্টি-বন্যার মধ্যেও যাত্রীরা আনন্দ নিয়ে ঘরে ফিরছে, এটা দেখার মধ্যেও আনন্দ আছে। খামাখা বাড়তি ভাড়া আমরা কেন নেবো? তবে বাস কন্ট্রাক্টর যদি কোন বিশেষ যাত্রীর কাছ থেকে আবদার করে কিছু ঈদি চায়, সেখানে তো আমাদের বলার কিছু থাকে না।