ড. মাহবুবুল হক, ভাষাবিজ্ঞানী, লোকসংস্কৃতি গবেষক। সত্তর পেরুলেন গত ৩ নভেম্বর। এখনো সক্রিয় বহুমুখি কাজে-শিক্ষাদান, বিদ্যাচর্চা, গবেষণা, সম্পাদনা, লেখালেখিতে। সাহিত্য বিষয়ক সমালোচনা গ্রন্থাবলী বহুলপ্রশংসিত। ‘নজরুল তারিখ অভিধান’ তাঁর একটি আকর গ্রন্থ। ২০১৭ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পদক লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধে…

বিশ্বসভায় আত্মপরিচয় তুলে ধরতে লোকসংস্কৃতির চর্চা প্রয়োজন

সুপ্রভাত : আপনার শৈশবে বেড়ে ওঠা, ছাত্রজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।
মাহবুবুল হক : জন্ম ফরিদপুরে, মধুখালীতে। বাবার চাকরিসূত্রে শৈশব কেটেছে রংপুরের সৈয়দপুরে, ভাষা আন্দোলনের মিছিল, ট্রেনের অবিরাম শব্দ, সৈয়দপুরের বাঙালিপুর পাড়ায় বিচিত্র মানুষের জীবন- এসব দেখে দেখে শৈশবে বেড়ে উঠেছি। কিছু স্মৃতি মনে আছে, ভাষা আন্দোলনের শ্লোগান, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।
১৯৫৫ তে বাবা চট্টগ্রামে বদলি হয়ে আসেন- রেলওয়ের চাকরি- দামপাড়া বাগমনিরাম বয়েজ স্কুলে প্রাথমিকে ভর্তি হই। সেই সময় চট্টগ্রাম পৌরসভার ৪৬টি স্কুলের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম হই। এরপর ভর্তি হই চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে, এসএসসি পাশ করি ১৯৬৪ তে। স্কুল বার্ষিকী সম্পাদনা করেছি। সাহিত্যের প্রেরণা কবি ওহীদুল আলমের কাছ থেকে। বাবার কাছ থেকে কবিতা লেখার অনুপ্রেরণা পাই। ১৯৬৪ তে এসএসসি পাশ করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হই, ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ এই ৫ বছর এইচএসসি ও বাংলায় অনার্স পড়ি ঐ কলেজে। অনার্সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম হই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ, প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স’ান লাভ করি। ছাত্রজীবনে সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতিতে তুমুলভাবে জড়িয়ে পড়ি, কলেজে লিটল ম্যাগাজিন ‘কলরোল’ সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করি। চট্টগ্রাম কলেজের বার্ষিকী ‘অন্বেষা’ সম্পাদন করি, এটি বেশ নাম কুড়িয়েছে। আমি সেই সময় ১৯৬৭ সালে, কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হই। ছাত্র ইউনিয়ন থেকে আমার সম্পাদনায় বের হয়েছে ‘কৃষ্ণচূড়া মেঘে মুখরিত দিন’, ফোল্ডার, ম্যাগাজিন রবিকরে কবিকণ্ঠ। একুশের সংকলন ‘পদাতিক’ সম্পাদনা করি।
সুপ্রভাত : ষাটের দশক ছাত্র রাজনীতির টালমাটাল সময়-মুক্তিযুদ্ধে কীভাবে জড়ালেন
মাহবুবুল হক : বিগত শতকের ষাট দশক ছিলো পূর্ব বাংলার জাতীয় জাগৃতির চরম কালপর্ব। বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ক্রমেই গণঅভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৬ দফা, ছাত্র সমাজের ১১ দফা, রাজবন্দিদের মুক্তি, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার- এসব নিয়ে পূর্ববাংলা অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছিলো।
আমি তখন ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ১৯৭০-১৯৭২, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ (বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রী)। ১৯৭১ এর ৭ মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার আহবান, বাংলার পথে প্রান্তরে মিছিল, আন্দোলন; পাকিস্তানি শাসকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রস’তি শুরু হয়ে গিয়েছিলো। ১৯৭১ এর ফেব্রুয়ারি-মার্চ চট্টগ্রামে লেখক-বুদ্ধিজীবী-সংস্কৃতিকর্মীদের স্বাধীনতার সংগ্রামে সংগঠিত করতে সক্রিয় হই। ১৯৭১ এর মার্চে লালদীঘি ময়দানে ছাত্র-শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী-সংস্কৃতি-জনতার বিশাল সমাবেশ হয়, তৎকালীন চাকসুর ভিপি আবদুর রব (স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাক্কালে শহিদ) ও আমি ঐ জনসভায় ছাত্রদের পক্ষ থেকে বক্তৃতা করি।
তখন দেশের সর্বত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস’তি শুরু হয়ে গেছে। আমাদের প্রথম কাজ ছিল অস্ত্র সংগ্রহ, ছাত্র-তরুণদের অস্ত্রের-প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা ইত্যাদি। আমি ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী সদস্য ও তরুণদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিই। কলেজিয়েট স্কুলে আমি জেসিসি (জুনিয়র ক্যাডেট কোর্স)-এর ট্রেনিং নিয়েছি। চট্টগ্রাম কলেজে ইউওটিসি এর সাথে যুক্ত ছিলাম। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে এপ্রিলের গোড়ার দিকে চট্টগ্রাম শহরের পতনের পর ছাত্র ইউনিয়ন-ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীসমর্থকরা গ্রামাঞ্চলে চলে যান। আমাদের আলোচনায় ভিয়েতনামের মতো দীর্ঘস’ায়ী গেরিলাযুদ্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং সেভাবে প্রস’তির কথা চলে আসে। ইতিমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে স্বাধীনতার লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক-সামরিক কাঠামোয় আসার সুযোগ হয়। ভারত সরকার আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। ভারতে আশ্রয় নেয়া ১ কোটি শরণার্থীর প্রতি ভারত সরকার, ভারতের জনগণ ও বিশ্বের গণতান্ত্রিক মহল এগিয়ে আসে। আমরা চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চল থেকে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমরা বেলোনিয়া হয়ে আগরতলা যাই। সেখানে ক্র্যাফট হোস্টেলে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের অস’ায়ী ক্যাম্প এবং রিক্রুটিং সেন্টার ছিলো। আমাকে আগরতলার কর্তাবাড়ি ক্যাম্প ইন চার্জ করা হয়। পরে আমাদের সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বড়দুয়ালি বেজ ক্যাম্পে সহযোগী পরিচালক নিযুক্ত করা হয়। এ ক্যাম্পের পরিচালক ছিলেন কমরেড মঞ্জুরুল আহসান খান (পরে সিপিবি সভাপতি), সহযোগী পরিচালক নিজাম উদ্দিন আজাদ (বেতিয়ারার রণাঙ্গনে শহিদ) ও বুয়েট এর ছাত্রনেতা ইয়াফেস ওসমান (বর্তমানে প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী)।
সুপ্রভাত : স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কাজ, শিক্ষকতা-লেখালেখি – একসাথে অনেকগুলো কাজে লেগে গেলেন
মাহবুবুল হক : যুদ্ধবিধ্বস্ত আমাদের দেশটিকে নির্মাণ এবং জাতীয় নীতির আলোকে দেশের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন- এ লক্ষ্যে মার্কসবাদী রাজনীতির কর্মী হিসেবে দেশে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার কাজটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে আমার কাছে। ফলে রাজনৈতিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানা কাজে জড়িয়ে পড়ি, এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগদানের আহ্বানেও সাড়া দিইনি। এখন মনে হচ্ছে আমার এ সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। শিক্ষকতার সাথে যুক্ত থেকে এ দায়িত্ব আরো ভালোভাবে হয়তো করা যেতো।
বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্ব এসে পড়ে। ১৯৭৮ সালে রাঙ্গুনিয়া কলেজে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এবং ১৯৯৭-এ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় নিয়োজিত হই। আমার শিক্ষকতা জীবন প্রায় ৪০ বছর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যাই ২০১৬ সালে। শিক্ষকতার সাথে সাথে প্রধানত বাংলা ভাষার নানা দিক নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, অনুবাদ, সম্পাদনা, এসব নিয়ে আমার প্রায় ৫০টির মতো বই বেরিয়েছে। এ সময় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির মতো বিদ্বৎপ্রতিষ্ঠানের নানা কাজে যুক্ত হই।
বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ প্রকল্পের কোর কমিটির আহ্বায়ক ছিলাম আমি, সম্পাদক ছিলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক পবিত্র সরকার, উপদেষ্টা ড. আনিসুজ্জামান, দুই বাংলার পণ্ডিত, বিশেষজ্ঞ এতে যুক্ত ছিলেন। ‘ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ’ এর সম্পাদক হিসেবে ড. রফিকুল ইসলাম, ড পবিত্র সরকারের সঙ্গে আমিও যুক্ত ছিলাম। ব্যাকরণ ও বানানরীতি নিয়ে বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীর উপযোগী করে সহজ ও আধুৃনিক বই লিখেছি। এছাড়া পাঠ্যবই সংকলন ও সম্পাদনার কাজে আমি প্রায় তিন দশক যুক্ত ছিলাম। বানান নিয়ে সর্বশেষ বই প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘খটকা বানান অভিধান’।
সুপ্রভাত : বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের ঢালাও ব্যবহার, বিকৃত উচ্চারণ, মিশ্রণ এসব দৃষ্টিকটুভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে-
মাহবুবুল হক : বাংলা ভাষায় ইদানিং ব্যাপক বুলি মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে, সুপরিচিত বাংলা শব্দের জায়গায় কৌশলে ইংরেজি ভাষার শব্দ প্রতিস’াপনের একটা পীড়াদায়ক প্রবণতা চোখে পড়ছে। যেমন বাংলা ভাষায় একটি চমৎকার শব্দ অভিনন্দন, সেখানে বসানো হচ্ছে ‘কনগ্র্যাটস’। এ রকম ‘খুশকি’ শব্দটির প্রতিস’াপনকরা হচ্ছে ‘ডেনড্রাফস’। বাংলা শব্দের উচ্চারণে-ইংরেজি ঘেঁষা বিকৃতি কেউ কেউ স্টাইল হিসেবে গণ্য করছেন। এসব আমাদের জাতীয় চেতনা ধ্বংস করার অপপ্রয়াস কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। বিদেশি নির্বাচিত শব্দে শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়, তবে আমাদের যে শব্দগুলি সমৃদ্ধ সেসবের জায়গায় বিদেশি শব্দের প্রতিস’াপন উদ্দেশ্যমূলক। ভাষার বিকৃতি রোধে প্রমিত বাংলার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়। বেতার- টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ, প্রতিবেদন তৈরি, রচনা লিখন, প্রাতিষ্ঠানিক চিঠিপত্র এসব ক্ষেত্রে প্রমিত বাংলা ব্যবহার ভাষাকে সমৃদ্ধ করবে।
সুপ্রভাত : বাংলা পৃথিবীর পঞ্চম ভাষা, প্রায় ৩৫ কোটি লোক বাংলাভাষায় কথা বলে অথচ বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি বিশ্বসভায় তুলে ধরতে আমাদের প্রয়াস উল্লেখযোগ্য নয়, এ ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়?
মাহবুবুল হক : বাঙালির একটা বড় ঐতিহ্যিক সম্পদের হাজার বছরের সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য, চর্যাপদ থেকে শুরু করে নবীন কালের সাহিত্য কর্মগুলি এর মধ্যে পড়ে, এই সাহিত্যরূপ শ্রেণিগত দিক থেকে বহুলাংশে উন্নতমানের
এবং বিশ্ব সাহিত্যের পর্যায়ে বিবেচিত হওয়ার মতো কিন’ নানা ভাষায় অনুবাদ না হওয়ায় এগুলো বিশ্ব পাঠকের কাছে সমাদৃত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অনুবাদ কর্মের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউট কিংবা বাংলা একাডেমি এ বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে। দক্ষ অনুবাদক সৃষ্টিতে এসব প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিতে পারে। তবে কেবল অনুবাদ নয়, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের সাহিত্য সম্পদ বিশ্বসভায় উপস’াপনের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
সুপ্রভাত : সম্প্রতি ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল লিটারেরি ফেস্টিভ্যাল হয়ে গেল
মাহবুবুল হক : হ্যাঁ, এ ধরনের বেশ কয়েকটি সাহিত্য উৎসব হয়ে গেল। সাহিত্যের ভাব বিনিময়ের জন্য এটি দরকারি। নামকরা লেখক-বুদ্ধিজীবীরা এতে যোগ দেন। এটি ভাল উদ্যোগ। অনুরূপ ‘আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য উৎসব’ হতে পারে। তাছাড়া এসব উৎসব ভাল বই প্রকাশ, অনুবাদের জন্য সহায়ক হয়। আন্তর্জাতিক ফোকলোর উৎসব সরকারিভাবে আয়োজন করা যেতে পারে।
সুপ্রভাত : আপনার কাজের একটি বড়ো ক্ষেত্র লোকসাহিত্য, লোকসংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা, এর স্বরূপ বিশ্লেষণ-এসব আমাদের লোকসাহিত্যের শক্তিমত্তা তুলে ধরায় সহায়ক হয়েছে।
মাহবুবুল হক : উপমহাদেশে জনজীবনের বিকাশের ভিত্তি হলো ‘এশিয়াটিক মোড অব প্রডাকশান’, এশিয়াটিক ধরনের বিশেষ উৎপাদন ব্যবস’া, সেখানে প্রতিটি গ্রাম ছিলো অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ। নানা পেশাজীবী বৃত্তিধারী, নানা ধর্মীয় সম্প্রদায় যেখানে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সহ-অবস’ান করে আসছে, লোকসাহিত্য, লোকসংস্কৃতিতে তার বিশেষ প্রভাব লক্ষ করা যায়। লোকসমাজে নারীর যোগ্য ভূমিকাও উল্লেখ্য। লোকসংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতা, অসহিষ্ণুতা, সংকীর্ণ মনোভাব পরিহার করা সম্ভব। বিশ্বসভায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যভিত্তিক আত্মপরিচয় তুলে ধরতে লোকসংস্কৃতির উপাদানগুলির উপস’াপনা, চর্চা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে জাতীয় ফোকলোর ইনস্টিটিউট স’াপন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর চর্চায় গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।
সুপ্রভাত : আমাদের আলাপ শেষ হয়ে এলো। এখন কী কাজ করছেন?
মাহবুবুল হক : শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণের পর দুটি কাজে মনোনিবেশ করেছি, একটি স্মৃতিকথা লেখা, অন্যটি ‘প্রয়োগিক ব্যাকরণ’ প্রণয়ন।
সুপ্রভাত : আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
মাহবুবুল হক : সুপ্রভাতের কর্মী ও পাঠকদের শুভেচ্ছা।