বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়ার ঝড়

ফের সহিংসতার আশঙ্কা ঝরতে পারে আরো প্রাণ

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

জেরম্নজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে গাজা-ইসরায়েল সীমানেত্ম চলমান বিড়্গোভে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে অনত্মত ৬০ ফিলিসিত্মনি নিহত এবং ২,৭০০ জন আহত হয়েছে। ফিলিসিত্মনের স্বাস’্য কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন। ২০১৪ সালের পর গাজায় এটিই ছিল সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন। এদিকে সোমবারের বিড়্গোভ-সংঘর্ষে নিহত ৬০ ফিলিসিত্মনির শেষকৃত্য চলার সময়েই সেখানে ফের বড় ধরনের সহিংসতা এবং প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার নাকবা বা বিপর্যয় দিবস উপলড়্গে ফিলিসিত্মনিরা বিড়্গোভের জন্য নতুন করে প্রস’ত হচ্ছে। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তি পালনের এ দিনটিই ফিলিসিত্মনিদের কাছে নাকবা দিবস, যার অর্থ হচ্ছে, ‘বিপর্যয়ের দিন।’ খবর বিডিনিউজের।
৭০ বছর আগের এ দিনে ফিলিসিত্মনিদেরকে তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক ওই ঘটনার পরিপ্রেড়্গিতেই গাজা-ইসরায়েল সীমানেত্ম ফিলিসিত্মনিরা মঙ্গলবার তাদের ‘দ্য গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনের শেষদিনটি পালন করবে। সোমবারের নিহত ফিলিসিত্মনিদের শেষকৃত্য আর নাকবা দিবসের বিড়্গোভ- দু’য়ে মিলে গাজা উপত্যকার পরিসি’তি উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতদিনের তুলনায় মঙ্গলবার গাজা সীমানত্ম এলাকায় উত্তাপ কিছুটা কমে এলেও সীমানেত্মর ওপারে ইসরায়েলি সেনারা নিরস্ত্র ফিলিসিত্মন বিড়্গোভকারীদের ঠেকাতে ট্যাঙ্ক নিয়ে প্রস’ত হয়ে আছে। এপারে বিড়্গোভকারীদের বেশিরভাগকেই নিহতদের শেষকৃত্যে অংশ নিতে গেছে। দাফন শেষের পর বিড়্গোভকারীরা আবারও সীমানেত্ম জড়ো হতে পারে।
ইসরায়েলে অবসি’ত নিজ ভূমিতে ফেরত যাওয়ার অধিকারের দাবিতে গত ৩০ মার্চ থেকে গাজা সীমানেত্ম অবস’ান নিয়ে ফিলিসিত্মনিরা এই আন্দোলন শুরম্ন করে। ওই সময় তারা ১৫ মে পর্যনত্ম বিড়্গোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বিড়্গোভ শুরম্নর দিনে থেকে এখন পর্যনত্ম ১০৪ বিড়্গোভকারী নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিসিত্মনের স্বাস’্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে জেরম্নজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের পদড়্গেপে বিশ্বজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে বিভিন্ন দেশ। গাজায় প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
গাজায় প্রাণহানি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ
ভিয়েনায় জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যানেত্মানিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘গাজা থেকে এত মানুষ হত্যার যে খবর আসছে তাতে আমি খুবই উদ্বিগ্ন।’ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইনও ইসরায়েল-গাজা সীমানেত্ম সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে সেখানে চলমান হত্যাযজ্ঞকে ‘মর্মানিত্মক’ বলে মনত্মব্য করেছেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ, ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান ফ্রান্সের
জেরম্নজালেমে মার্কিন দূতাবাস স’ানানত্মরকে আনত্মর্জাতিক আইন বিশেষ করে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রসত্মাবনার লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছে ফ্রান্স। একইসঙ্গে ইসরায়েলকে গাজা-ইসরায়েল সীমানেত্ম হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে সংযত থাকর আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘নতুন করে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়া আটকাতে ফ্রান্স সব পড়্গকে ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স আবারও ইসরায়েল কর্তৃপড়্গকে বিচারবুদ্ধি ব্যবহার এবং শক্তি প্রয়োগের ড়্গেত্রে ধৈর্য্যের পরিচয় দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ভুল সময়ে ভুল কার্ড খেলেছে: যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধানেত্মর বিপড়্গে মত দিয়েছে। ‘যুক্তরাষ্ট্র ভুল সময়ে ভুল কার্ড খেলেছে’ বলে সোমবার মনত্মব্য করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।
গাজা সীমানেত্ম ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে বিপুল প্রাণহানির ঘটনা খুবই দুঃখজনক বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ গাজায় চলমান বিড়্গোভে উস্কানি দিচ্ছে, সেটি আমরা বুঝতে পারছি।কিন’ অন্যভাবে চিনত্মা করলে বিড়্গোভ থামাতে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের ড়্গেত্রে সেখানেআরও ধৈর্য্য ধরা উচিত ছিল।’
পিএলও’র ধর্মঘটের ডাক
গাজা-ইসরায়েল সীমানেত্ম বিড়্গোভে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫২ ফিলিসিত্মনি নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করতে সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)। পুরো ফিলিসিত্মনি ভূখন্ড জুড়ে এ ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছেন পিএলও’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ওয়াসেল আবু ইউসেফ।
দূতাবাস স’ানানত্মর পদড়্গেপ উস্কানিমূলক: লেবানন
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি সোমবার সকাল থেকেই একের পর এক টুইটে জেরম্নজালেমে মার্কিন দূতাবাস স’ানানত্মরকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে বর্ণনা করে আসছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়বে। তিনি ফিলিসিত্মনিদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের জন্য তাদের সঙ্গে পরিপূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকান্ডে ইসরায়েল হত্যাযজ্ঞে মেতেছে: তুরস্ক
গাজা-ইসরায়েল সীমানেত্ম ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ফিলিসিত্মনি বিড়্গোভকারী নিহতের ঘটনার জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীকে দোষারোপ করেছে তুরস্ক। জেরম্নজালেমে মার্কিন দূতাবাস খোলার যুক্তরাষ্ট্রের পদড়্গেপে ইসরায়েল উৎসাহিত হয়ে এ হত্যাযজ্ঞে মেতেছে; আর এ কারণে গাজা সীমানেত্ম ফিলিসিত্মনি বিড়্গোভকারী হত্যার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও বর্তায় বলে তুরস্ক মনত্মব্য করেছে। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধানেত্মর প্রতিবাদে দেশ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দূতদের প্রত্যাহার করেছে তুরস্ক।
গাজায় ইসরায়েলের শক্তি প্রয়োগের নিন্দায় মিশর
গাজা-ইসরায়েল সীমানেত্ম সোমবার ফিলিসিত্মনি বিড়্গোভকারীদের ওপর ইসরায়েলের প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নিন্দা করে একটি বিবৃতি দিয়েছে মিশর। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েল শানিত্মপূর্ণ বিড়্গোভকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করেছে।’ ফিলিসিত্মনি ভূখন্ডে এমন মারাত্মক সহিংসতার নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কেও মিশর বিবৃতিতে ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়েছে।
এছাড়া, মানবাধিকার সংগঠনগুলোও গাজা সীমানেত্ম ইসরায়েলের সামরিক শক্তি ব্যবহারের নিন্দা জানিয়েছে। আনত্মর্জাতিক মানবাধিকার সংস’া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরায়েলের পদড়্গেপকে আনত্মর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছে।