সিটি মেয়রের উদ্যোগ

বিমানবন্দর সড়ক চার লেন হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ctg-CCC-meeting-01

বদলে যাবে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার খ্যাত শাহ আমানত বিমানবন্দর সড়ক। যানজটের জন্য বহুল আলোচিত ৮ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটি প্রশস্থকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং হতে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি হয়ে বাটারফ্লাই পার্ক পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়ক (রিভার সাইড অংশ) চার লেনে উন্নীতকরণ বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। আর ড্রাই ডক লিমিটেড থেকে বোট ক্লাব পর্যন্ত ১ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার ছয় লেনে উন্নীতকরণ বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম বন্দর। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ডিজিটাল সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশে ভয়াবহ যানজট থেকে বিদেশী নাগরিক, প্রবাসী, ব্যবসায়ীবৃন্দ এবং সর্বোপির নগরবাসী মুক্তি পাবে। সাথে সাথে বিশ্বের কাছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে।
শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে সর্ব প্রথম বিমানবন্দর সড়কটি প্রশস্থকরণের পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের জানান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এই ব্যাপারে জায়গা ছাড় দিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্মতির কথাও বলেছিলেন মেয়র নাছির।
বিমানবন্দর সড়কের বিভিন্ন অংশে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জায়গা লিজ নিয়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ২৪ প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প বাস্তবায়নে দরকার এই সকল প্রতিষ্ঠানের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা। এই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সকালে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বৈঠকে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তাদের আর্থিক ক্ষতির কথা তুলে ধরেন মেয়রের কাছে। তবে তারা মেয়রকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
প্রকল্পের বিষয়বস্তু
৮ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট বিমানবন্দর সড়কটির প্রশস্থকরণ প্রকল্পের শিরোনাম ‘এক্সটেনশন অব এয়ারফোর্ট রোড (রিভার সাইড পরশান)। প্রজেক্টের অবস্থান- সিমেন্ট ক্রসিং হয়ে রুবি গেইট ফ্যাক্টরি, ড্রাই ডক লিমিটেড, বোট ক্লাব থেকে বাটারফ্লাই পার্ক। প্রস্তাবিত প্রজেক্টে সড়কের দৈর্ঘ্য- সিমেন্ট ক্রসিং হয়ে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে ড্রাইডক লিমিটেড পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার বা ১২ হাজার ১৫৭ ফিট, বোট ক্লাব থেকে বাটারফ্লাই পার্ক পর্যন্ত ৩ দশমিক ২৮ কিলোমিটার বা ১০ হাজার ৭৬৮ ফিট। অর্থাৎ প্রায় ৭ কিলোমিটার চার লেন করবে চসিক। আর ড্রাই ডক লিমিটেড থেকে বোট ক্লাব পর্যন্ত ১ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার অংশ (নির্মাণাধীন কনটেইনার টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত) ছয় লেন করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য জমি প্রয়োজন হবে আনুমানিক ২ লাখ ১০ হাজার ২১৮ বর্গ ফুট। রেললাইন স্থানান্তরের জন্য জমির প্রয়োজন হবে ২০ হাজার বর্গ ফুট। এই দুই মিলে মোট জমি প্রয়োজন হবে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ২১৮ বর্গ ফুট বা ৩২০ কাঠা বা ২৬৬ গন্ডা।
যেসব প্রতিষ্ঠানকে জমি ছেড়ে দিতে হবে
বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের জায়গা নিয়ে প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা রয়েছে। এসকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিএসসি গ্রেইন কনভেইয়ার, ফুড মিনিস্ট্রি অব চিটাগাং (সেইলো), টিএসপি কমপ্লেক্স, ইলিয়াস ব্রাদার্স, ওয়েল রিফাইনারি (ভোট), আবুল খায়ের গ্রুপ, যমুনা ওয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, সাউথ ইস্টার্ণ ট্যাংক টার্মিনাল, স্টান্ডার্ড এশিয়াটিক ওয়েল কোম্পানি, এমজেএল বাংলাদেশ, ড্রাই ডক, বাটারফ্লাই পার্ককে জায়গা ছাড়তে হবে।
মেয়রের বক্তব্য:
চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যনক্রম গতিশীল করা এবং বিমানবন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রী সাধারণের জন্য এই সড়ক চার লেইনে উন্নীত করা সময়ের দাবি বলে মনে করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি গতকাল দুপুরে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘শাহ আমানত বিমানবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার। বাইরে থেকে কেউ বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে নগরীতে প্রবেশ করার সময় একটি নেতিবাচক মাইন্ড সেট তৈরি হয়ে যায়। এই সড়ক দিয়ে দুটি গাড়ি পাস করতে পারে না। চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরো বেড়ে যাবে। সেই পরিকল্পনায় বিমানবন্দর সড়কটি চার লেইনে উন্নীত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়কের পাশে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা আছে। তারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। আমাদের পরিকল্পনা উনাদের অবহিত করেছি। এর আগে এ বিষয়টা নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। উনি এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। এরপর চিন্তা-ভাবনা করে বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি। প্রকল্প গ্রহণের ব্যাপারে ২৪ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সম্মতি দিয়েছেন, কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি। কিছু পুরানো প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে। তাই কিছুটা কনসিডার করার ব্যাপারে তারা পরামর্শ বা মতামত দিয়েছেন। এসবের সারাংশ আমাদের মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করব।’
কখন কাজ শুরু হবে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘কোন প্রতিষ্ঠানের কত ক্ষতি হবে তা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আমরা চেষ্টা করবো যৌক্তিক সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে। এ রাস্তাটি চার লেনে উন্নীত করতে কোন প্রতিষ্ঠানের কত জায়গা দরকার; তা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তবে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করতে এক-দেড় বছর সময় লাগগে। প্রকল্প অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়ন করতে এক বছর সময় লাগবে। আড়াই বছরের মধ্যে আমার মেয়াদের সময়ের ভিতর আমরা বিমানবন্দর সড়কের চার লেন কাজ শেষ করতে পারবো।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘এটা আমাদেরকে করতেই হবে। এর বিকল্প নেই। কাজটা ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রাখার সুযোগ নেই। এখন না করতে পারলে আর কখনো এই কাজ করা সম্ভব হবে না। সিমেন্ট ক্রসিং থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত রোডে বন্দরের ইজারা দেওয়া সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনা রয়েছে। এগুলো অপসারণ করতে হবে।’