বিপজ্জনক অবস্থায় হালদা সেতু নতুন সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নিন

সম্পাদকীয়

নাজিরহাট পৌরসভা এলাকায় হালদা নদীর ওপর নির্মিত শতবর্ষী সেতুটি এবার পাহাড়ি ঢলে দেবে গেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স’ানীয় লোকজন সেতু দিয়ে পারাপার করলেও যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সবাই।
ব্রিটিশ আমলে ১৯১৯ সালে তৎকালীন ড্রিস্টিক বোর্ড, বর্তমানে জেলা পরিষদ হাটহাজারী উপজেলার সীমান্ত এলাকা নাজিরহাটে লোহার সেতুটি নির্মাণ করে। স’ানীয় বাজারটি গড়ে উঠেছে মূলত সেতুর দুপাশ জুড়ে। ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরাঞ্চলসহ খাগড়াছড়ি-রামগড়গামী সব ধরনের গাড়ি চলাচল করতো এই সেতু দিয়ে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সেতুটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ সরকার জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি সংস্কার করে যান চলাচলের উপযুক্ত করে। এই সেতুটি চট্টগ্রামের সাথে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এক সময় সেতুটি বিপজ্জনক হয়ে উঠলে তার ওপর দিয়ে যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত গত ১৫ জুন রাতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে নাজিরহাট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সেতুটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় এবং সেতুর দুপাশে লোহার গ্রিল দিয়ে প্রতিবন্ধক দেয়। কিন’ স’ানীয় লোকজন বর্তমানে প্রতিবন্ধক সরিয়ে সেতু দিয়ে চলাচল করছে। কিন’ সেতুটি বিপজ্জনকভাবে দেবে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।
এই সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকায় নাজিরহাট বাজার, নাজিরহাট কলেজ ও নাজিরহাট রেল স্টেশনে আসতে হয় প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে। ফলে সময়ক্ষেপণের সাথে সাথে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকাবাসী। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস’া দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলা সমূহের তুলনায় অত্যন্ত দুর্বল। কালুরঘাট রেল সেতুটিও শতবর্ষে এসে জীর্ন হয়ে উঠলেও নতুন সেতু নির্মাণের সুখবর এখনো নেই। জেলার অন্যান্য এলাকার সড়ক ও সেতু ব্যবস’া উন্নত নয়। নাজিরহাটের এই হালদা সেতুটির জীর্ণদশা হয়েছে অনেক আগে। গত শত বছরে সেতুর দুপাশে গড়ে উঠেছে অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, নানা ধরনের স’াপনা। সেতুটি সময়মতো মেরামত না হওয়ায় বা একইস’ানে আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণ না করায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
যোগাযোগ ব্যবস’ার উন্নয়নের খাতিরে এখানে আরেকটি সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারেন হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি দুই নির্বাচনী এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। অর্থনৈতিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যোগাযোগ ব্যবস’ার উন্নয়ন পূর্ব শর্ত। তাই গুরুত্ব বিবেচনা করে একই স’ানে একটি নতুন সেতু নির্মাণের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হোক। যা এই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।