বিন্দু

বাসুদেব খাস্তগীর

সুদীপা স্কুলে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্যাগ, বই গোছানো, জুতা মৌজা, স্কুল ড্রেস পরা সব সে নিজেই করতে ইদানিংবেশ অভ্যস্ত হয়ে ওঠেছে। সুদীপা ক্লাস ওয়ান থেকে সবে মাত্র ক্লাস টু তে ওঠেছে। সকাল আটটায় স্কুল শুরু। সকালে ঘুম থেকে হাত মুখ ধুয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে প্রত্যহ স্কুলে যেতে সে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। প্রতিদিনের মত আজও সুদীপাকে মা স্কুলে পৌঁছে দিয়েছে। স্কুলে প্রথম বেঞ্চে বসে সে শিক্ষকের পড়ার দিকে মনযোগ দিয়েছে। শিক্ষক ইংরেজি পড়াচ্ছেন। আর ছাত্রছাত্রীরা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। ক্লাসের শেষের দিকে শিক্ষক বললেন ‘আমি কিছু শব্দার্থ লিখে দিচ্ছি, তোমরা লিখে নাও, কাল শিখে আসবে’। এই বলে শিক্ষক লিখতে শুরু করলেন ব্ল্যাকবোর্ডে । ংঁহ অর্থ সূর্য, সড়ড়হ অর্থ চাঁদ, ংশু অর্থ আকাশ, ংঃধৎ অর্থ তারা, ংড়হ পুত্র, ফধঁমযঃবৎ অর্থ কন্যা, ভধঃযবৎ অর্থ পিতা, সড়ঃযবৎ অর্থ মাতা, এগুলো আমি বোর্ডে লিখে দিয়েছি। তোমরা সবাই লিখেছো’? – হ্্যা লিখেছি স্যার।- স্যার বললেন বেশ। ‘আগামী কাল আমি তোমাদের থেকে শব্দার্থগুলোর বাংলাগুলো শিখেছো কী না দেখবো’। সবাই ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে গেছে খুশি মনে। সুদীপা দিনের পড়া দিনেই শেষ করে। লেখাপড়ায় বেশ মনোযোগী। শিক্ষকেরা ও সুদীপাকে বেশ ভালোবাসে। রাতে সুদীপা একটি বড় বড় স্বরে পড়তে শুরু করে, ংঁহ অর্থ সূর্য, সড়ড়হ অর্থ চাঁদ, ংশু অর্থ আকাশ, ংঃধৎ অর্থ তাবা, ংড়হ পুত্র, ফধঁমযঃবৎ অর্থ কন্যা, ভধঃযবৎ অর্থ পিতা, সড়ঃযবৎ অর্থ মাতা । পাশের ঘর থেকে বাবা সুদীপা যে পড়ছে তা মনযোগ দিয়ে শুনছেন। বাবা ছুটে এসে বলেন, মা ংঃধৎ অর্থ তাবা নয় তারা। সুদীপা বলে, স্যার লিখে দিয়েছে ংঃধৎ তাবা। স্যার ভুল করতে পারেন না, স্যারের টাই ঠিক’।-‘না মা আমি বলছি ংঃধৎ অর্থ তারা।-‘তোমার টা ঠিক না বাবা’।- দেখো মা হয়তো তারা লিখতে গিয়ে তোমার স্যার ব এর নীচে বিন্দুটা দিতে ভুলে গেছেন। আর তাবা কোন শব্দই হতে পারে না। ভুল তো মানুষেরই হতে পারে, নাকি’?।- ‘না বাবা স্যার ভুল করতে পারেন না’। সুদীপার বাবা তো মহা মুশকিলে পড়ে গেলেন। সুদীপাকে কোন মতেই বুঝানো যাচ্ছে না যে ংঃধৎ অর্থ তারা। সুদীপা স্যারের লেখামতো পড়াগুলো শিখেই যাচ্ছে। সুদীপার বাবা ভাবলেন আজ সকালে গিয়েই স্কুলের সেই ইংরেজি পড়ানো শিক্ষকের সাথে ব্যাপারটাতো আলোচনা করতেই হবে। যথারীতি পরের দিন সুদীপাকে মা স্কুলে দিয়ে আসলেন। এর কিছুক্ষণ পর সুদীপার বাবা স্কুলে হাজির। শিক্ষক কক্ষে বসে তিনি শিক্ষকদের সাথে আলাপচারিতায় মেতে ওঠলেন। সাথে চলছে আপ্যায়নও। সুদীপার বাবা ইংরেজি পড়ানো শিক্ষক আবিদ সাহেবকে বললেন, ‘স্যার আমি আপনার কাছে বিশেষ একটা বিষয় নিয়ে আলাপ করতে এসেছি। শিশুকালে আপনাদের ছাত্রছাত্রীরা যেভাবে অনুকরণ করে তা দেখে আমি সত্যি অভিভূত।- ‘ব্যাপারটা কী বলুন তো? ‘ না বলছিলাম কী আপনি গতকাল আমার মেয়ের ক্লাসে যে ইংরেজি শব্দার্থগুলো লিখে দিয়েছিলেন সেখানে ংঃধৎ অর্থ তারা বানানে ভুল বশত র এর নীচে বিন্দুটা পড়ে নাই। আমি বলেছি তোমার স্যারের এটা অসতর্কতার কারণে হয়েছে, ংঃধৎ অর্থ তারা, অথচ সে পড়ছে ংঃধৎ অর্থ তাবা, আমি বলেছি তাবা কোন শব্দ হতে পারে না, অথচ সে আমার কথাই বিশ্বাস করতে চায় না, সে বলে স্যারের টাই ঠিক’। শুনে স্যার হাসলেন এবং বললেন, হ্যাঁ ঠিক হতেই পারে, ব্যাপারটা আমি খেয়ালই করি নি। এর পরের ঘন্টা আমার ক্লাস, আমি দেখবো বিষয়টা। সুদীপার বাবা সবার সাথে কুশল বিনিময় করে বাড়ির দিকে রওনা দিলেন। আবিদ স্যার সুদীপাদের ক্লাসে ঢুকে বললেন, ‘তোমরা সবাই কেমন আছো? -‘ভালো স্যার’-সবাই সমস্বরে উত্তর দিলো। রোল কল করা শেষে স্যার বললেন দেখো ছাত্রছাত্রীরা কাল তোমাদের যে শব্দার্থগুলো দিয়েছিলাম সে গুলো শিখেছো তো? – ‘হ্যাঁ স্যার’। আচ্ছা দেখো গতকাল আমি যে শব্দার্থ দিয়েছিলাম তাতে ংঃধৎ অর্থ তারা শব্দে ভুলবশত র এর বিন্দুটা পড়ে নি। সুতরাং ংঃধৎ অর্থ হবে তারা, কিন’ একটি বিন্দু না পড়ার কারণে হয়ে গেছে তাবা। কিন’ জেনো তাবা কোন অর্থবোধক শব্দ নয়। বুঝেছো ’? – ‘জ্বী স্যার’। এবার রিকু বলতো সড়ড়হ অর্থ কী চাঁদ স্যার, শিপু বলোতো ংশু অর্থ কী? -আকাশ স্যার। – নিপু বলোতো ংঁহ অর্থ কী?-সূর্য স্যার। স্যার বলে বেশ বেশ। আচ্ছা এবার সুদীপা বলোতো ংঃধৎ অর্থ কী? – ‘তারা’ স্যার। স্যার বলেন, ‘চমৎকার’। তোমাদের পড়াশুনার প্রতি মনোযোগিতায় আমি বেশ খুশি। ছুটি শেষে সুদীপারা বাড়ি ফেরে। বাড়ি ফেরে সুদীপা দৌঁড়ে বাবার দিকে ছুটে যায় আর বলে, ‘বাবা ংঃধৎ অর্থ তারা’। বাবা বলে ‘আমি তো ভাবি তাবাই। কে বললো তারা’?-‘স্যার বলেছে’।- স্যার যখন বলেছে তাহলে তারাই হবে’। বাবা আর মেয়ে যেনো খুশিতে আত্মহারা।