বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বান্দরবান জেলা বিএনপি নেতৃত্ব নির্বাচিত

Bandarban-Bnp-Comiti

Bandarban-Bnp-Comitiবান্দরবানে জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি পদে সাচিং প্রু জেরী, সাধারণ সম্পাদক পদে কাজী মহোতুল হোসেন যত্ন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার শেষ দিনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফরম জমা না দেয়ায় ৩ জন প্রাথমিকভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে আগামী ১০ নভেম্বর আয়োজিত সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।
নেতাকর্মীরা জানায়, দীর্ঘ সাত বছর আগামী ১০ নভেম্বর জেলা বিএনপির সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে গত সোমবার মনোনয়নপত্র ফরম সংগ্রহের শেষ দিনে সভাপতি পদে সাচিং প্রু জেরী একজন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে আইনজীবী কাজী মহোতুল হোসেন যত্ন ও আজিজুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সাবেক ছাত্রনেতা মশিউর রহমান মিঠুন ও জাহাঙ্গীর আলম ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে ৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা না দেয়ায় নিয়মতান্ত্রিকভাবেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৩ জন। এরা হলেন সভাপতি পদে সাচিং প্রু জেরী, সাধারণ সম্পাদক পদে কাজী মহোতুল হোসেন যত্ন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা বিএনপির সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক চহ্লা প্রু জিমি বলেন, তিনটি পদের মধ্যে সভাপতি পদে ১টি, সাধারণ সম্পাদক ২টি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২টি ফরম বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন সভাপতি পদে সাচিং প্রু জেরী, সাধারণ সম্পাদক পদে কাজী মহোতুল হোসেন যত্ন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু আগামী ১০ নভেম্বর জেলা বিএনপির সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারাই বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিবেন। তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
এদিকে দীর্ঘ সাত বছর পর জেলা বিএনপির সম্মেলন ঘোষণা দিলেও বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা সম্মেলন আয়োজনের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি। চট্টগ্রামের বিভাগীয় বৈঠকে বিএনপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাচিং প্রু জেরী, কেন্দ্রীয় কমিটির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদিকা মাম্যাচিং এবং পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা বিএনপির ত্রিমুখী স্রোত বন্ধ করে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বৈঠক শেষে বান্দরবানে ফিরে জেরী এবং জাবেদ গ্রুপের নেতাকর্মীরা আলাদাভাবে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বৈঠক করেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ের নির্দেশনাও মানেননি দুটি পক্ষ দাবি নেতাকর্মীদের। কাজেই আনুষ্ঠানিক সম্মেলন হবার পর বিএনপির গ্রুপিং নিরসন এবং ঝিমিয়ে পড়া বিএনপির রাজনীতি চাঙা হয়ে উঠার সম্ভাবনা কম।

আপনার মন্তব্য লিখুন