বিদ্বেষী প্রচারণার সঙ্গে পেরে উঠছে না ফেসবুক

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে আপত্তিকর বিষয় প্রত্যাহারের ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক। সহিংসতা, বিকৃত যৌন বিষয়বস’, স্পাম অথবা ভুয়া অ্যাকাউন্ট প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ৮৬ থেকে ৯৬ ভাগ সফল হলেও বিদ্বেষী প্রচারণা ঠেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এক্ষেত্রে তাদের সফলতা এসেছে মাত্র ৩৮ ভাগ। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, বার্তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিদ্বেষ শনাক্তে সক্ষম নয় প্রযুক্তি। এজন্যই তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পর্যবেক্ষক দলের মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে তারা। খবর বাংলাট্রিবিউনের।
বিদ্বেষী প্রচারণার প্রসারে বেশ কিছুদিন ধরে অভিযোগের কাঠগড়ায় ফেসবুক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রভাবিত করা থেকে শুরু করে রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস’া ও সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাবিদ্বেষী প্রচারণার মধ্য দিয়েই রাখাইনে নিধনযজ্ঞ পরিচালনার পাটাতন সৃষ্টি করা হয়। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা তাদের সামপ্রতিক এক অনুসন্ধানে জানান, ওই প্রচারণার কাজে ফেসবুকই প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গও ওই অভিযোগ অংশত স্বীকার করে নেন। ভক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মিয়ানমার ইস্যুটিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার কথা বললেও প্রচারণায় ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে তিনি বলেন, সেগুলো বাস্তব ঘটনা আর আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে তা বিচার করেছি’। মঙ্গলবার প্রকাশিত ফেসবুকের নিজস্ব এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিকৃত যৌনতাপূর্ণ কনটেন্টের প্রায় ৯৬ শতাংশ নামিয়ে ফেলতে পেরেছে। এছাড়া গ্রাফিক্স সহিংসতার কনটেন্টগুলো চিহ্নিত করার পর তার ৮৬ ভাগ মুছে ফেলা হয়েছে। তবে বিদ্বেষী প্রচারণা ঠেকাতে তুলনামূলক কম সফল হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এক্ষেত্রে মাত্র ৩৮ শতাংশ মুছতে সক্ষম হয়েছে ফেসবুক। ফেসবুকের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট গুয়ে রোজেন এক ব্লগে লিখেছেন, বিদ্বেষী প্রচারণার ক্ষেত্রে আমাদের প্রযুক্তি এখনও খুব ভাল কাজ করছে না। তাই এসব কনটেন্ট আমাদের পর্যবেক্ষক দলের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।
ভক্সের সঙ্গের সাক্ষাৎকারে জাকারবার্গ বলেছিলেন, অন্যান্য জটিল সমস্যা থাকার পরও ফেসবুক প্রতিনিয়ত দুটি বিষয়কে আলাদা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে: কোনটা ঘৃণা ছড়ানো আর কোনটা বৈধ রাজনৈতিক বক্তব্য।