বিদেশে থাকা যুবক ‘ককটেল বিস্ফোরণ’ মামলার আসামি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘটনাস’ল-বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকা। গত ১৪ অক্টোবর রাত। ‘ককটেল বিস্ফোরণের’ ঘটনা। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাকারিয়া নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ওই রাতেই বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করে পুলিশ। মামলায় অন্যদের সঙ্গে বেলাল উদ্দিন মুন্না নামে এক যুবককে আসামি করা হয়। ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ ওই মামলায় মোট আসামি ৮৩ জন। মুন্না ২০০২ সাল থেকে থাকেন আরব আমিরাতের শারজাহ শহরে। সেখানে আল মানজার বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস (এলএলসি) লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে তার।
প্রবাসী মুন্নার দাবি, গত এপ্রিল মাসে তিনি দেশে বেড়াতে আসেন। ১১ সেপ্টেম্বর ফিরে যান শারজায়। সেখানে ফিরে যাওয়ার একমাস দুইদিন পর গত ১৪ অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় সংঘটিত ‘ককটেল বিস্ফোরণ’ মামলায় তাকে ১৪ নম্বর আসামি করা হয়। মুন্না নগরের চালিতাতলীর আবদুস সাত্তার কন্ট্রাক্টরের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে মুন্না সবার ছোট।
বিদেশে থেকেও বায়েজিদ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে হওয়া মামলায় আসামি হওয়ায় রীতিমতো হতবাক হয়েছেন মুন্না। তার দাবি, জমিজমা বিরোধের জেরে কেউ হয়তো পুলিশকে বশে নিয়ে তাকে ‘ভিত্তিহীন’ এ মামলায় ফাঁসিয়েছে। তবে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকারের দাবি, গত ১৪ অক্টোবর ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় জাকারিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া যাদের নাম বলেছে তাদের ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পেলে মুন্নাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হবে।
মুন্নার বন্ধু আবদুল খালেকের দাবি, মুন্না প্রায় ১৮ বছর ধরে শারজায় ব্যবসা করছেন। পারিবারিক কাজে মাঝেমধ্যে দেশে আসে। কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সে জড়িত নয়। জমি নিয়ে বিরোধ আছে তাদের পরিবারে। হয়তো তার পরিবারের কোনো সদস্য পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে মুন্নাকে মামলায় জড়িয়েছে।