বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি পরিকল্পনা : দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে হবে

সরকার ২০১৮ সালে ১২ লাখ জনশক্তি রপ্তানির পরিকল্পনা নিয়েছে- এমন তথ্য সম্প্রতি জানালেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী। দেশে রেমিটেন্স বাড়াতে দক্ষ লোক প্রয়োজন আর এজন্য দক্ষতা ও মানের দিকেই সরকার জোর দেবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
২০১৭ সালে প্রায় ১০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানো হয়েছে কিন্তু রেমিটেন্স সে তুলনায় বাড়েনি বরং কমেছে। বামরুর এক তথ্যে দেখা যায় ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫৫ হাজার কর্মী বিদেশে গিয়েছে আর সে সালে রেমিটেন্স ছিল বর্তমানের তুলনায় বেশি। এর কারণ কম মজুরি, বৈধ মাধ্যমের পরিবর্তে অবৈধ পথে প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর প্রবণতা।
রেমিটেন্স বাড়াতে দক্ষ ও মানসম্পন্ন লোক পাঠানো ছাড়া উপায় নোই। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠছে। কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। সিরিয়া-ইরাক যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে যদিও অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা কাটেনি। কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপের দেশগুলিও মন্দা কাটিয়ে উঠছে, রাশিয়ার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলি মন্দার অভিঘাত কাটিয়ে উঠছে, সুতরাং কেবল মধ্যপ্রাচ্যে নয়, এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার শ্রমবাজার খুঁজতে হবে আর এ জন্য দক্ষ প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। প্রয়োজন বিশেষায়িত জ্ঞানের লোকশক্তি।
দক্ষ জনশক্তি ছাড়াও আরো কয়েকটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জনশক্তি রপ্তানিতে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্মসংস্থান বা কর্মী ভিসা পেতে আচরণের সনদ বা চারিত্রিক সনদপত্রের কথা বলেছে। বিদেশী শ্রমিকরা স্বদেশে কিংবা বিদেশে কোন অপরাধে জড়িত হয়ে পড়েছেন কিনা সে ধরনের তথ্যও যাচাই করবে দেশটি, কর্ম প্রত্যাশীদের সেজন্য স্বদেশ-কর্মক্ষেত্র ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে সনদপত্রের প্রয়োজন।
সরকার দক্ষ কর্মী তৈরিতে প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তুলেছে উপজেলায়, তবে বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণ দিতে প্রয়োজনীয় সিলেবাস থাকা চাই, জোড়াতালি কিংবা তাৎক্ষণিক কাজ করার প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশের শ্রমবাজারে খুব বেশি লাভ হবে না। যারা বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য নির্বাচিত হবেন তাদের অবশ্যই বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে যাতে তারা সংশ্লিষ্ট দেশে কোনরূপ অনভিপ্রেত পরিস্থিতির শিকার না হন। এটা দুঃখজনক যে, বিদেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে আমাদের কর্মীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। রোগ, দুর্ঘটনা ও নানা অপঘাতে কর্মীদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের দুতাবাসগুলিকে এসব দেশে কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের কল্যাণ, বেতন ভাতা, সমস্যা-সংকট-এসব বিষয়ে বিশেষত নজর দিতে হবে।
যে সব দেশের শ্রমবাজারে সমস্যা আছে সে সব দেশে বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। জনশক্তি রপ্তানিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয় করে সমস্যা-জটিলতার সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলির অপতৎপরতা রোধে সরকারকে কাঠোর হতে হবে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি রেমিটেন্স যা প্রবাসীদের মাধ্যমে আসে, সুতরাং রেমিটেন্স কমে আসার কারণগুলির প্রতি যেমন যথাযথ দৃষ্টি দিতে হবে তেমন নতুন শ্রমবাজার পেতে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখতে হবে।