চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের সংবাদ সম্মেলন

‘বিতর্কিত’ কমিটি বাতিলের দাবি, ৭ নেতার পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি থেকে ৭ নেতা পদত্যাগ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা পদত্যাগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম কলেজ শাখার সদ্য ঘোষিত কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
গেল সোমবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ঘোষিত ২৫ সদস্যের কমিটি বাতিলের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কলেজের নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
কমিটি থেকে পদত্যাগকারী ৭ ছাত্রলীগ নেতা হলেন-সহসভাপতি ওবায়েদুল হক, মোস্তফা কামাল, মোক্তার হোসেন রাজু ও শাহজাহান সম্রাট এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল ও আনন্দ মজুমদার। বাকি ১ জনের নাম জানানো হয়নি সংবাদ সম্মেলনে। পদত্যাগকারী ৬ ছাত্রলীগ নেতা সংবাদ সম্মেলনে উপসি’ত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি এম কায়সার উদ্দিন।
কলেজ শাখা কমিটির সভাপতি মাহমুদুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘কমিটির সভাপতি মাহমুদুল করিমকে ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল ডিসি হিলে বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠান থেকে ইভ টিজিংয়ের দায়ে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু। বছর খানেক আগে নগরীর মাস্টারপুল এলাকায় ভূমি দখল করতে গিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।’
এই দুই বিতর্কিত ব্যক্তির হাতে চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তুলে দিয়ে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়েছে জানিয়ে কায়সার উদ্দিন বলেন, ‘তাদের নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।’
নগর আওয়ামী লীগ ও চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মতামত না নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নগর ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অর্বাচীনের মতো, কারুপুরুষের মতো রাতের আঁধারে এ কমিটি ঘোষণা করেছে। অথচ ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগ প্রবেশের সময় এ দুই নেতা নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না। জামায়াত-শিবিরের এজান্ডা বাস্তবায়নে নীল নকশার অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে দূরভিসন্ধিমূলকভাবে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।’
কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে কায়সার উদ্দিন বলেন, ‘বিতর্কিত এ কমিটি বাতিল করতে আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের কাছে যাবো।’
সংবাদ সম্মেলনে নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি রেজাউল আলম রনি চট্টগ্রাম কলেজ শাখার কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়াকে হাস্যকর আখ্যায়িত করে বলেন, ‘সাংগঠনিক নিয়ম হলো, ক্যাম্পাসে সম্মেলনের মাধ্যমে কিংবা সংগঠনের প্যাডে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা দেওয়া। কিন’ চট্টগ্রাম কলেজ শাখার কমিটি ঘোষণা দেওয়া হলো রাতের আঁধারে ফেসবুকে। এটা একটা হাস্যকর ব্যাপার।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপসি’ত ছিলেন নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিথুন মল্লিক, মহিউদ্দিন মাহি, মোহাম্মদ শাকিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদ রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন শাহরিয়ার প্রমুখ।